Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল কেন্দ্রীয় সরকার (Delhi News)। গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছিল। সেই পদক্ষেপের বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি গড়ায় শীর্ষ আদালতে।
কেন্দ্রের তরফে স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গুজব ছড়ানো আটকাতেই ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতের সামনে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্তের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ কেন, ব্যাখ্যা কেন্দ্রের (Delhi News)
কেন্দ্রের বক্তব্য, ১০ অক্টোবর দিল্লিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যাতে ভুয়ো খবর বা গুজব দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে এবং তার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়, সেই কারণেই মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, সম্ভাব্য আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছিল। তবে নাগরিক পরিষেবা এবং সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকারে এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নই এখন আদালতের বিবেচনায়।
পুরো মেট্রো বন্ধ হয়নি, জানাল ডিএমআরসি (Delhi News)
মেট্রো পরিষেবা নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। যদিও অভিযোগ ছিল, বিক্ষোভের জেরে দিল্লির মেট্রো পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ডিএমআরসি অবশ্য জানিয়েছে, পুরো মেট্রো পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪৫টি স্টেশনে মেট্রোর প্রবেশ ও চলাচল সীমিত করা হয়েছিল। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয়। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বন্ধ বা সীমিত রাখায় যাতায়াতে তৈরি হয় অসুবিধা।
বিক্ষোভ থেকে আদালত পর্যন্ত জল গড়াল (Delhi News)
১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির তরফে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের অনুমতি না থাকায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়। একাধিক মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারি করা হয় এবং বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। পরের দিন, ১১ অক্টোবর, বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। সরকার ও প্রশাসনের কাছে জবাব চাওয়া হয়। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এবার কেন্দ্রের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা।
অধিকার বনাম আইন-শৃঙ্খলা
এই ঘটনায় ফের সামনে এল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসন কতটা দূর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পরিষেবা ও যোগাযোগের অধিকার সীমিত করতে পারে? কেন্দ্রের ব্যাখ্যা যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণও। ফলে এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।



