Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষার মরশুমে আবারও মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক ছড়াল কলকাতায় (Dengue in Kolkata)। বেহালার গাবতলা লেনের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সি অরিজিৎ দাস ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যালকাটা স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে, যেখানে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল মাত্র একদিন আগেই। পরিবার সূত্রে খবর, ডেঙ্গির উপসর্গ—তীব্র জ্বর, শরীরে ব্যথা, এবং রক্তপ্লেটলেটের মাত্রা কমে যাওয়া—নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ডেথ সার্টিফিকেটেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্পষ্টভাবে ডেঙ্গির উল্লেখ রয়েছে।
এই মৃত্যুর ঘটনায় শহর জুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Dengue in Kolkata)। বর্ষা এলেই পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে—এ যেন প্রতিবছরের এক দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। মশাবাহিত এই ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
ডেঙ্গি-পরিসংখ্যান (Dengue in Kolkata)
- ২০২২ সালে: মোট ৬৭,২৭১ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত।
- ২০২৩ সালে: সংক্রমণ ভেঙে দেয় গত ১২ বছরের সব রেকর্ড—প্রায় ১,০৭,০০০ জন আক্রান্ত।
- ২০২৪ সালে: আক্রান্তের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৩১,১০০ জনে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অধীনস্থ ন্যাশনাল (Dengue in Kolkata) সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোল (NCVBDC)-এর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গি সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়েছিল। ২০২৪ সালে মাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর কেন্দ্রকে কোনো তথ্যই দেয়নি। এই তথ্য গোপন বা বিলম্বিত হওয়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে—পরিস্থিতি কি আসলেই নিয়ন্ত্রণে, নাকি রিপোর্টিংয়ের ঘাটতি আছে?
চক্রাকারে বাড়ছে সংক্রমণ (Dengue in Kolkata)
বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে জল জমে থাকা এলাকাগুলিতে মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়, আর এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশা—যা ডেঙ্গি ছড়ায়—সেই পরিবেশে দ্রুত বংশবিস্তার করে। গাবতলা লেন ও আশপাশের এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের ফলে বহু জায়গায় জল জমে ছিল বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, বিশেষ অভিযান চালিয়ে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং দ্রুত রোগী সনাক্তকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে, সংক্রমণ প্রতিরোধে এখনও অনেক পথ বাকি। অরিজিৎ দাসের মৃত্যুর খবরে পরিবার শোকে ভেঙে পড়েছে।


