Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশেষ প্রতিবেদন সুমনা বেড়া: বয়স যে নিছকই একটা সংখ্যা, আর সেবার সংকল্পের কাছে যে মারণ রোগও হার মানতে বাধ্য (Dr Kaligopal Mukhopadhyay)। তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন হুগলির পাণ্ডুয়ার ডাক্তার কালীগোপাল মুখোপাধ্যায়। চলতি বছরেই পা দিয়েছেন জীবনের ১০০ তম বসন্তে। অথচ, মারণ ক্যান্সার কেড়ে নিয়েছে বাঁ চোখের দৃষ্টি, অস্ত্রোপচারে বাদ গেছে চোখ। শরীরের চামড়া কুঁচকেছে, গলার স্বর ক্ষীণ, কিন্তু আজও তাঁর গলায় জ্বলজ্বল করছে স্টেথোস্কোপ।

কালীগোপাল মুখোপাধ্যায়ের জীবন-যুদ্ধ (Dr Kaligopal Mukhopadhyay)
১৯২৭ সালের ৫ মে বর্ধমানের ছোট বহরকুলি গ্রামে জন্ম কালীগোপাল মুখোপাধ্যায়ের। তাঁর বাবা পাঁচুগোপাল মুখোপাধ্যায় ছিলেন ব্রিটিশ আমলের গোল্ড মেডেলিস্ট চিকিৎসক। আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে এমবিবিএস ও ডিটিএম অ্যান্ড এইচ ডিগ্রি। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে হাউসস্টাফ থাকার পর, পাণ্ডুয়ার জামগ্রামের মতো প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় শুরু করেন চিকিৎসা। দীর্ঘ ৭৬ বছর ধরে একনাগাড়ে দিয়ে চলেছেন নিঃস্বার্থ পরিষেবা।

আরও পড়ুন: Heavy Rain Alert: বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সতর্কতা
প্রায় আট দশক আগে, যখন ইসিজি, ইউএসজি বা রক্ত পরীক্ষার মতো আধুনিক প্রযুক্তি গ্রামীণ মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল, তখন এই কালীবাবুর হাতের নাড়ি দেখেই ম্যাজিকের মতো সেরে যেত দুরারোগ্য ব্যাধি। মাত্র ৫ টাকা ফিস নিয়ে শুরু করেছিলেন রোগী দেখা। সময়ের সাথে সাথে রোগীরা নিজেরাই ভালোবেসে সেই ফিস বাড়িয়েছেন। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসা মেলেনি, এমন রেকর্ড কালীবাবুর খতিয়ানে নেই। শুধু সাধারণ মানুষই নন, খোদ স্থানীয় বিধায়কও বাল্যকালে এই ধন্বন্তরির হাতেই সুস্থ হয়েছেন।
আরও পড়ুন: Haldia Fire Accident: ১৮ ঘণ্টার লড়াইয়ের পর নিয়ন্ত্রণে আগুন, মৃত্যু ১ আহত ২২
কবি সুকান্তের সেই অমর লাইন মনে করিয়ে দেয় ‘এ বয়স যেন ভীরু, কাপুরুষ নয়। পথ চলতে এ বয়স যায় না থেমে’। মারণ রোগকে হারিয়ে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কালীবাবুর এই সেবার জয়যাত্রা জারি থাকুক। শতায়ু এই মহামানবকে কেটিভি বাংলার পক্ষ থেকে কুর্নিশ (Dr Kaligopal Mukhopadhyay)।



