Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজো আজ বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা (Durga Puja History)। ২০১৯ সালে ইউনেস্কোর Intangible Cultural Heritage of Humanity তালিকায় কলকাতার দুর্গাপুজো স্থান পায়। কিন্তু এই উৎসবের ইতিহাস কি শুধুই ধর্মীয় আরাধনার? নাকি রাজনীতি, সামাজিক প্রতিপত্তি এবং ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষাও এর জাঁকজমক বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল?

বাংলায় দুর্গাপুজোর শিকড় বহু প্রাচীন। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য ও শাক্ত সাহিত্যে দেবী আরাধনার নানা নিদর্শন পাওয়া যায়। একসময় রাজা, জমিদার ও অভিজাত পরিবারগুলির বাড়িতেই মূলত জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপুজোর আয়োজন হতো। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত।
রাজা কংসনারায়ণ ও বনেদি পুজোর ঐতিহ্য (Durga Puja History)
বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে নদিয়ার রাজা কংসনারায়ণের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ষোড়শ শতকে তাঁর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গোৎসবের আয়োজন হয়। পরবর্তীকালে বাংলার বিভিন্ন বনেদি পরিবারে দুর্গাপুজো সামাজিক মর্যাদা ও আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। পুজোর আয়োজনের মধ্য দিয়ে জমিদাররা নিজেদের সম্পদ, ক্ষমতা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিপত্তি তুলে ধরতেন।
পলাশীর যুদ্ধের পর ইংরেজদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা (Durga Puja History)
১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুর্গাপুজো কিছু অভিজাতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মঞ্চ হয়ে ওঠে। কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়ির রাজা নবকৃষ্ণ দেবের দুর্গাপুজো এই প্রসঙ্গে বহুল আলোচিত। প্রচলিত বিবরণে ১৭৫৭ সালেই তাঁর পুজোয় ইংরেজ আধিকারিকদের আপ্যায়নের কথা উঠে আসে। ফলে ধর্মীয় আচার ছাড়াও ভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাহেবদের আমন্ত্রণের মাধ্যমে দুর্গাপুজো সামাজিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।

বারোয়ারি থেকে সার্বজনীন দুর্গোৎসব (Durga Puja History)
সময়ের সঙ্গে দুর্গাপুজো বনেদি বাড়ির চৌহদ্দি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উৎসবে পরিণত হয়। বারোয়ারি পুজোর প্রসার এবং পরে সার্বজনীন পুজোর বিকাশ এই পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। পাড়ার মানুষ চাঁদা তুলে পুজোর আয়োজন করতে শুরু করেন। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
আজ দুর্গাপুজো বিশ্বসংস্কৃতির গর্ব
আজকের দুর্গাপুজো ধর্মীয় ভক্তির পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, সৃজনশীলতা ও বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক। রাজা-জমিদারের ব্যক্তিগত আরাধনা থেকে শুরু করে ইংরেজ আমলের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিসর পেরিয়ে এই উৎসব পৌঁছেছে সাধারণ মানুষের সর্বজনীন উদ্যাপনে। ইতিহাসের নানা বাঁক অতিক্রম করেই দুর্গাপুজো আজ বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বসংস্কৃতির গৌরব হয়ে উঠেছে।



