Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেবী দুর্গার আগমন মানেই বাঙালির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব (Durga Puja)। আর এই উৎসবের আত্মা হলো এক অনন্য বাদ্যযন্ত্র ঢাক। দেবী বোধনের মুহূর্ত থেকে বিসর্জন পর্যন্ত ঢাক ছাড়া পুজো কল্পনাই করা যায় না।
উৎসব-সংস্কৃতির অনন্য বাদ্যযন্ত্র (Durga Puja)
ভারতীয় ঐতিহ্যে ঢাকের স্থান একেবারেই স্বতন্ত্র। এটি কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং সমষ্টিগত আনন্দ, সামাজিক সংহতি এবং আধ্যাত্মিক আবেগের প্রতীক। বাঙালির উৎসব-পার্বণ, পূজা-অর্চনা, সামাজিক আচার বা লোকউৎসব সবখানেই ঢাক অপরিহার্য। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে রাজকীয় অনুষ্ঠান কিংবা দেবপূজা সব জায়গায় ঢাক তার শক্তিশালী ছন্দ দিয়ে পরিবেশকে প্রাণবন্ত করেছে।

ঢাকের উৎস ও ইতিহাস (Durga Puja)
ঢাকের শিকড় আদিম সমাজে। হিংস্র জন্তু তাড়ানো কিংবা শত্রুর আগমন ঘোষণা করার জন্য ডঙ্কা বা দুন্দুভির মতো যন্ত্র ব্যবহৃত হতো। সেই ধারারই উত্তরসূরি আজকের ঢাক।
- শব্দ থেকে নামের জন্ম: প্রাচীন গ্রন্থে ঢাকের উল্লেখ পাওয়া যায় “ডঙ্কা” নামে। “ডং ডং” শব্দ থেকে ডঙ্কা, সেখান থেকে ঢক্কা, এবং শেষে বর্তমান “ঢাক”।
- প্রত্ননিদর্শনের প্রমাণ: পাহাড়পুর, ময়নামতী ও সোমপুর মহাবিহারের ফলকচিত্রে ঢাকসদৃশ যন্ত্রের চিত্র পাওয়া যায়। যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের সমবেত করা ও বিজয়ের ঘোষণা দিতেও ঢাক বাজানো হতো।

ঢাকের ধরন (Durga Puja)
- ঢাক: পূজা ও লোকউৎসবে প্রচলিত সাধারণ আকার।
- জয়ঢাক: বিশাল আকারের, অনেক সময় লোহার পাত দিয়েও তৈরি হয়।
- বীরঢাক বা বীরকালী: যুদ্ধক্ষেত্রের আবহ তৈরির জন্য ব্যবহৃত হলেও এখন পূজা ও আচারেও ব্যবহৃত হয়।

বাদনশৈলী (Durga Puja)
ঢাকি বাঁ কাঁধে ঢাক ঝুলিয়ে এক হাতে মোটা কাঠি ও অন্য হাতে চিকন কাঠি ব্যবহার করে ছন্দ তোলেন। ঢাকের বোল যেমন “ঢেমকুড়া কুড় কুড়”, “চড়াম চড়াম”, বা “টেট্টে না টেং” লোকমুখে ছড়ার মতো প্রচলিত। দেবীর আরতি, সন্ধিপুজো কিংবা বিসর্জনপ্রত্যেক পর্বের জন্য আলাদা ছন্দ নির্ধারিত থাকে।
বাংলা সংস্কৃতিতে ঢাক (Durga Puja)
- দুর্গোৎসব: দেবীর আগমনী থেকে বিসর্জন ঢাক ছাড়া অসম্ভব।
- বলির প্রথা: করুণ আর্তনাদ ঢাকের গর্জনে ঢেকে যেত।
- সামাজিক প্রচার: রাজআদেশ প্রচারের জন্য ঢাক বাজানো হতো। “ঢাক পেটানো” প্রবাদ তাই এসেছে।
- লোকউৎসব: গাজন, নববর্ষ, বিয়ে বা শোভাযাত্রা সবখানেই ঢাক অপরিহার্য।
‘ঢাকের হাট’ সেটা কোথায়? (Durga Puja)
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যে “ঢাকের হাট” বসে। দুর্গাপূজার আগে ঢাকিরা এখানে ভিড় জমিয়ে চুক্তি করেন। এটি এক বিশাল লোকসংস্কৃতির মিলনমেলা।
আরও পড়ুন: Fake Profile Scam: ডিজিটাল মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে কারা?
আধুনিক সংকট
যান্ত্রিক সাউন্ড সিস্টেম ও পাশ্চাত্য বাদ্যযন্ত্র ঢাকের জনপ্রিয়তা কমিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের অনীহাও সমস্যা তৈরি করছে। তবু দুর্গোৎসবের আবহে ঢাকের বাদন শুনলেই মনে হয় এই ঐতিহ্য চিরকাল বাঙালির সঙ্গেই থাকবে।



