Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উমা এসেছেন ঘরে। চারদিকে উৎসবের আবহ, ঢাকের বাদ্যি আর আলোর রোশনাই (Durgapur Durga Puja)। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও যেন বিষাদের ছায়া। হঠাৎ হড়পা বান, প্রবল জলরোষে তছনছ জনজীবন, খেলনার মতো ভেসে গিয়েছে বড় বড় ইমারত ও সেতু। প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্য মানুষ, নিখোঁজ বহু। এখনও প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। এই বিপর্যয়ের স্মৃতি এবং স্বজনহারাদের যন্ত্রণাকেই দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরেছে দুর্গাপুরের ডিপিএল টাউনশিপের প্রান্তিক ক্লাব। ১৭তম বর্ষে তাদের পুজোর থিম ‘চোখের জলে ভাসছে নেপাল’।

মণ্ডপজুড়ে বিপর্যস্ত নেপালের করুণ ছবি (Durgapur Durga Puja)
এবারের মণ্ডপে পা রাখলেই চোখে পড়বে বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপালের জনজীবনের প্রতিচ্ছবি। মণ্ডপের প্রতিটি কোণে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা। ধ্বংসস্তূপ, বিপর্যস্ত সংসার এবং মানুষের অসহায়তার ছবি যেন দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছে এক নির্মম বাস্তব। উৎসবের আনন্দের মাঝেও এই দৃশ্য মনে করিয়ে দেবে, প্রকৃতির রুদ্ররূপের সামনে মানুষ কতটা অসহায়।
আসল উপকরণেই বাস্তবতার ছোঁয়া (Durgapur Durga Puja)
মণ্ডপসজ্জায় অভিনবত্ব আনতে শিল্পীরা ব্যবহার করেছেন আসল গাড়ি, বাসনপত্র, শোকেস, গ্যাস সিলিন্ডার-সহ নানা উপকরণ। পরিচিত সংসারের এই সামগ্রীগুলিকে বিশেষভাবে সাজিয়ে বিপর্যস্ত জনজীবনের ছবি তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। সাজসজ্জার প্রতিটি উপকরণ যেন এক একটি হারিয়ে যাওয়া সংসারের গল্প বলছে। দর্শনার্থীদের কাছে তাই এই মণ্ডপ শুধুমাত্র শিল্পকর্ম নয়, বরং দুর্যোগের ভয়াবহতা উপলব্ধি করার এক বিশেষ মাধ্যম।
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা (Durgapur Durga Puja)
বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে এর আগেও পুজোর থিম হিসেবে তুলে ধরেছে প্রান্তিক ক্লাব। এবার নেপালের বিপর্যয়কে বেছে নেওয়ার পিছনেও রয়েছে বিশেষ বার্তা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, দুর্গাপুজো যেমন আনন্দের উৎসব, তেমনই এই সময় অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও সময়। অকালে হারিয়ে যাওয়া মানুষদের স্মৃতি যেন বিস্মৃতির আড়ালে হারিয়ে না যায়, সেই সচেতনতা গড়ে তোলাই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য।

আট লক্ষ টাকার বাজেটে মানবিক উদ্যোগ (Durgapur Durga Puja)
প্রান্তিক ক্লাবের এবারের পুজোর বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা। সেই বাজেটের মধ্যেই শিল্প, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে এক সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা। জাঁকজমকের প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে মানুষের দুঃখ, যন্ত্রণা ও বিপন্নতার কাহিনি তুলে ধরাই এই আয়োজনের বিশেষত্ব। পুজোর মণ্ডপকে তাঁরা পরিণত করেছেন মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এক মঞ্চে।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
বিষাদের মাঝেও আশার আলো
মণ্ডপসজ্জার পাশাপাশি প্রতিমাতেও বিশেষ চমক রেখেছে প্রান্তিক ক্লাব। প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মাতৃরূপ। একদিকে নেপালের বিপর্যয়ে স্বজনহারাদের কান্না, অন্যদিকে দেবী দুর্গার স্নেহময়ী মাতৃসত্তা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে উঠে এসেছে মানবিকতার বার্তা। বিপর্যয়ের অন্ধকার পেরিয়ে নতুন করে বাঁচার আশা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার এবং হারিয়ে যাওয়া মানুষদের স্মরণ করার আহ্বানই যেন এবারের পুজোর মূল সুর। দুর্গাপুরের প্রান্তিক ক্লাব তাই শুধু দেবী আরাধনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশের বিপন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দিতে চেয়েছে।



