Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলার দুর্গাপুজো মানেই শিল্প, সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধন (Utkarsha Arohan)। প্রতিটি মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জার মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে শিল্পীদের কল্পনা এবং পুজো উদ্যোক্তাদের পরিশ্রম। এই সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিতে ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে শারদ সম্মান প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে উৎকর্ষে আরোহণ। দীর্ঘ দেড় দশকের যাত্রায় এই উদ্যোগ দুর্গাপুজোর শিল্প-সংস্কৃতির জগতে নিজস্ব পরিচিতি তৈরি করেছে।

সাড়ে চারশো পুজোর লড়াই (Utkarsha Arohan)
এ বছর কলকাতা ও শহরতলি থেকে প্রায় সাড়ে চারশো পুজো কমিটি এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল। বিপুল সংখ্যক পুজোর মধ্যে থেকে সেরাদের নির্বাচন করা ছিল অন্যতম চ্যালেঞ্জ। উৎকর্ষে আরোহণের মূল উদ্যোক্তা অনুপম মজুমদার জানান, অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সুচারু মূল্যায়নের ভিত্তিতে একাধিক পর্যায়ে সেরাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মোট ১৬টি পুজোকে পুরস্কৃত করা হয়(Utkarsha Arohan)।
কলকাতার সেরাদের নির্বাচন (Utkarsha Arohan)
প্রতিযোগিতার প্রথম পর্যায়ে কলকাতার সেরা ৪০টি পুজোকে নির্বাচন করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সেই তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হয় সেরা ১২টি পুজো। এরপর চূড়ান্ত পর্যায়ের মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হয় সেরা আটটি বারোয়ারি দুর্গাপুজো। নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া এবং প্রতিটি পুজোর শিল্পভাবনা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েই এই নির্বাচন করা হয়েছে।

শহরতলির পুজোতেও মিলল সেরার স্বীকৃতি
শুধু কলকাতার পুজোতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই প্রতিযোগিতা। শহরতলির বিভিন্ন জেলা থেকে আরও আটটি পুজোকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর ১৬টি পুজো সেরার সম্মান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে কলকাতার পাশাপাশি শহরতলির পুজো উদ্যোক্তাদের শিল্পনৈপুণ্য ও সৃজনশীল উদ্যোগও বিশেষ স্বীকৃতি পেল।
বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি গুরুত্ব
উৎকর্ষে আরোহণের উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অন্যান্য ধরনের দুর্গোৎসবও। অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী হাওড়া শহরের সেরা চারটি দুর্গাপুজো এবং কলকাতা কর্পোরেশন এলাকার সেরা চারটি আবাসনের দুর্গাপুজো নির্বাচন করেছেন। এর ফলে বারোয়ারি পুজোর পাশাপাশি আবাসনকেন্দ্রিক দুর্গোৎসবের পরিকল্পনা, শিল্পভাবনা ও সম্মিলিত উদ্যোগও স্বীকৃতি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: South 24 Parganas: আট মাসের ব্যবধানে ফের নাজিরাবাদের মোমো গোডাউনে আগুন!
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে
২০১২ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দুর্গাপুজোর শিল্প-সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেওয়া এবং সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করা। নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর বিচারই উৎকর্ষে আরোহণ শারদ সম্মানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বাংলার দুর্গাপুজো ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে দেড় দশকের পথচলা অতিক্রম করে এগিয়ে চলেছে উৎকর্ষে আরোহণ শারদ সম্মান। এ বছরের ১৬টি পুজোর পুরস্কারপ্রাপ্তি সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।



