Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শনিবার ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান (Earthquake)। রাজধানী কাবুল সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের এই প্রভাব দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে যায় ভারতের জম্মু এবং কাশ্মীরেও। উত্তর ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বাসিন্দারা ঝাঁকুনি অনুভব করে আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

সীমান্ত পেরিয়ে কম্পনের বিস্তার (Earthquake)
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা United States Geological Survey (USGS)-এর প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২৪ মিনিট নাগাদ এই ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৩। ভূমিকম্পটির উৎসস্থল ছিল উত্তর-পূর্ব আফগানিস্তানের দুর্গম হিন্দু কুশ পর্বতমালা অঞ্চল, যা দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অক্ষাংশ ৩৬.৬২ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৭০.৭৯ ডিগ্রি পূর্বে, প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হয়।
ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক তথ্য (Earthquake)
ভূমিকম্পের গভীরতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর কম্পন সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির বদলে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আফগানিস্তানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি পাকিস্তানের একাধিক অঞ্চল এবং ভারতের উত্তরাংশেও এই কম্পন অনুভূত হয়। বিশেষ করে জম্মু এবং কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ স্পষ্ট ঝাঁকুনি টের পান। যদিও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ তড়িঘড়ি ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন, তবুও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

গভীর ভূমিকম্পের বৈশিষ্ট্য (Earthquake)
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, হিন্দু কুশ অঞ্চলটি ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলে অবস্থিত। এই দুই প্লেটের ক্রমাগত চাপ ও সঞ্চিত শক্তির মুক্তির ফলেই এখানে বারবার ভূমিকম্প ঘটে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কেন্দ্রস্থল গভীরে হলে ভূমিকম্পের শক্তি অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে ধ্বংসের মাত্রা কম হতে পারে, কিন্তু তার কম্পন অনেক দূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এই ঘটনাতেও সেই চিত্রই সামনে এসেছে।পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী।

আরও পড়ুন: Ritwick Chakraborty: শাহী উচ্চারণ বিভ্রাট, মজার ছলে কটাক্ষ ঋত্বিকের
টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চল
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক সপ্তাহ আগেই আফগানিস্তান আরেকটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে, যার মাত্রা ছিল ৫.৯। সেই ঘটনায় একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রাণহানির খবরও সামনে আসে। এর আগে ২০১৫ সালে হিন্দু কুশ অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়ে এবং শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২২ সালে পূর্ব আফগানিস্তানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে, বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।



