Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অভিঘাতে আবারও কেঁপে উঠল চিনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং প্রদেশ (Earthquake)। ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুভূত হল ৬ মাত্রা অতিক্রম করা একটি শক্তিশালী কম্পন। ভারতীয় সময় সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এই ভূমিকম্পের স্পর্শে কেঁপে উঠেছে জিনজিয়াং–কিরগিজস্তান সীমান্তও। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে প্রথম থেকেই নজরদারি ছিল কড়া এবং সেই কারণেই এখন পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর নেই কিন্তু এই ঘটনার পেছনে যে ভূ-রাজনৈতিক ও ভূগাঠনিক বাস্তবতা লুকিয়ে আছে, তা আবারও সামনে এসে পড়ল।

ভূমিকম্পের উৎসগভীরতা (Earthquake)
চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (CENC)-এর তথ্য অনুযায়ী ভূকম্পনটির কেন্দ্র ছিল আকচি কাউন্টি, যা কিরগিজস্তান–শিনজিয়াং সীমান্তে অবস্থিত। কম্পনের মাত্রা ৬.০ থেকে ৬.২, উৎস গভীরতা মাত্র ১০ কিলোমিটার অত্যন্ত কম গভীরতায় উৎপত্তি হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল স্পষ্ট ও জোরালো। এই পুরো অঞ্চলটি মূলত “ইউরেশিয়ান প্লেট” ও “ইন্ডিয়ান প্লেট”-এর সংঘর্ষবিন্দুর কাছে, যেখানে পৃথিবীর ভূত্বকের চাপ এত বেশি যে সামান্য নড়াচড়াতেই শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। তাই বড় বিপর্যয় এড়ালেও এই ঘটনাটি চিন এবং মধ্য এশিয়ার ভূকম্পন প্রবণতার দিকটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল।

কেন তবুও বড় বিপর্যয় ঘটল না? (Earthquake)
রিখটার স্কেলে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনও সময় ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। বিশেষত অগভীর ভূমিকম্প হলে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে। তবুও জিনজিয়াংয়ের এই এলাকায় বড় বিপদের খবর আসেনি। এর কারণগুলো, জনবসতি তুলনামূলক কম, আকচি কাউন্টি মূলত পাহাড়ি অঞ্চল, জনসংখ্যা ঘনত্ব কম। গঠনগত প্রস্তুতি, দেশ হিসেবে চিন ভূমিকম্প প্রতিরোধী নির্মাণব্যবস্থা ও পূর্বাভাস প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরেই এগিয়ে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, প্রশাসনের দ্রুত তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকায় আতঙ্ক ছড়ায়নি। পরিবেশের প্রকৃতি, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় উচ্চ অট্টালিকা বা বড় শিল্পাঞ্চল খুব বেশি নেই, ফলে ধ্বংসযজ্ঞের সম্ভাবনাও কম। এই সব কারণের সমন্বয়ে ভূমিকম্পের শক্তি থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পারে কম্পনের ছায়া (Earthquake)
জিনজিয়াংয়ের সঙ্গে কিরগিজস্তানের সীমানা ভাগ করে নেওয়ার ফলে ভূমিকম্পের প্রভাব রেখাপাত করেছে দুই দেশের ভূভাগেই। কিরগিজস্তানের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলেও স্থায়ী কাঠামো কেঁপে উঠেছে, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
তবে এই দেশেও ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি যা অবশ্য সীমান্তের জনঘনত্ব কম হওয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: Humayun: হুমায়ুন কবীর সাসপেন্ড তৃণমূলের, শুক্রবার দল ছাড়ছেন, ২২ তারিখ নতুন দল শুরু: হুমায়ুন
মানুষের অস্তিত্ব
জিনজিয়াং অঞ্চলের ভূমিকম্প শুধু একটি খবর নয় বরং একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে প্রকৃতির শক্তির সামনে আধুনিক প্রযুক্তিও কখনও কখনও ক্ষুদ্র হয়ে যায়। পৃথিবীর ভূগর্ভে হাজার হাজার বছরের চাপ, প্লেটগুলির সংঘর্ষ এবং নড়াচড়া সব মিলিয়ে এই অঞ্চল এক বিশাল ভূকম্পন–ল্যাবরেটরির মতো। মানুষ যতই আধুনিক হোক, প্রকৃতির এই অদৃশ্য নড়াচড়ার সামনে মানবসভ্যতা কতটা অসহায়, তা প্রতিবার ভূমিকম্পেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিল প্রস্তুতি, অবকাঠামো এবং দ্রুত প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।



