Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডুরান্ড কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের স্মৃতি এখন অতীত (East Bengal IFA Sheild)। লাল-হলুদ শিবিরের নজর এবার ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে। আবারও সামনে সেই একই প্রতিপক্ষ—মোহনবাগান। তবে এই মেগা ফাইনালের আগে মাঠের রণনীতি, দলের মানসিক প্রস্তুতি, ফুটবলারদের ক্লান্তি এবং আসন্ন এএফসি ম্যাচের চাপ—সবকিছু নিয়েই অত্যন্ত সতর্ক ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও কোনো বাহানা তৈরিতে নারাজ এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। তাঁর চোখ কেবল ৯০ মিনিটের মূল সময়ের মধ্যেই ম্যাচ পকেটে পুরে নেওয়া।
ফাইনাল নিয়ে হাবাসের আত্মবিশ্বাস (East Bengal IFA Sheild)
ফাইনালের মঞ্চে দলের মানসিক অবস্থা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য ইস্টবেঙ্গল কোচের। হাবাসের মতে, ডুরান্ড কাপের ফাইনাল এবং আইএফএ শিল্ডের লড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তিনি জানান, “আমরা এই ম্যাচের জন্য ১০০ শতাংশ প্রস্তুত। আমি আমার ফুটবলারদের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখি। অবশ্যই প্রতিপক্ষ মোহনবাগানকে আমরা যথাযথ সম্মান করি, তবে এই ম্যাচটি ডুরান্ড ফাইনালের থেকে একেবারে আলাদা হতে যাচ্ছে।”
জাতীয় দলের ফুটবলারদের ক্লান্তি (East Bengal IFA Sheild)
ম্যাচের আগে কোচের অন্যতম চিন্তার কারণ জাতীয় দলের সফর সেরে ফেরা ফুটবলারদের ফিটনেস। ব্রাজিল, উরুগুয়ে বা পানামার মতো শক্তিশালী দেশের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ খেলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ক্লাবের হয়ে ফাইনাল খেলতে নামা ফুটবলারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যালোচনা করেই তিনি প্রথম একাদশ নির্ধারণ করবেন। হাবাস বলেন, “জাতীয় দল থেকে ফেরা ফুটবলারদের সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে। ট্রেনিং সেশনে তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ ও অনুভূতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে কে প্রথম একাদশে সুযোগ পাবে।”
প্রস্তুতির ঘাটতি (East Bengal IFA Sheild)
সামনে এএফসি-র মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ফুটবলারদের খেলার সময় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও ভাবছেন স্প্যানিশ কোচ। প্রস্তুতির সময়ের দিক থেকে মোহনবাগান খানিকটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে বলেও স্বীকার করে নেন তিনি। হাবাসের কথায়, “আমাদের জন্য এএফসি ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোন ফুটবলারকে কত মিনিট খেলানো হবে, তা মেপে নির্ধারণ করতে হবে। মোহনবাগান প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৬-৭ দিন সময় পেয়েছে, যা আমরা পাইনি।”
৯০ মিনিটের স্ট্র্যাটেজি (East Bengal IFA Sheild)
প্রস্তুতির সময় কম থাকলেও বা ক্লান্তির সমস্যা থাকলেও এসবকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে নারাজ হাবাস (East Bengal IFA Sheild)। মাঠে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। পেনাল্টি শুটআউট বা টাইব্রেকারের ওপর একদমই বিশ্বাস রাখতে চান না লাল-হলুদ কোচ। মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথের টাইব্রেকার সেভ করার দক্ষতার কথা উঠলে হাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “পেনাল্টি শুটআউটে জয় পাওয়াকে আমি খুব বড় কৃতিত্ব বলে মনে করি না। আমার স্পষ্ট লক্ষ্য, ম্যাচ ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ করা। অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারে ম্যাচ নিয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই আমার নেই।”
আরও পড়ুন: INDIA A TEAM: নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ভারত ‘এ’ দল ঘোষিত, একঝাঁক তারকা, বাদ সরফরাজ
সব মিলিয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে রাখা এবং নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই সুযোগের সৎব্যবহার করে গোল তুলে নেওয়া—এই মন্ত্রেই মোহনবাগানকে বধ করতে তৈরি হচ্ছেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ডুরান্ড ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ইস্টবেঙ্গল আবার ট্রফি ঘরে তোলে নাকি মোহনবাগান প্রতিশোধ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় সমগ্র ফুটবলপ্রেমী বাংলা।



