Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে প্রণীত তথ্যের অধিকার আইন ভারতীয় গণতন্ত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায় তৈরি করেছিল (RTI Act)। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই ছিল এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মোদি সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে যে ইঙ্গিত উঠে এসেছে, তাতে এই আইনকে নতুন করে “পুনর্বিবেচনার” কথা বলা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সরকারি কাজের গতি বাড়ানোর নামে কি তথ্যের অধিকার সংকুচিত হতে চলেছে?
অতিরিক্ত স্বচ্ছতা কি বাধা? (RTI Act)
লোকসভায় পেশ করা অর্থনৈতিক সমীক্ষা রিপোর্টে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, সব ধরনের নথি, খসড়া প্রস্তাব কিংবা অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য আরটিআইয়ের আওতায় আসায় সরকারি আধিকারিকরা অনেক সময় খোলাখুলি মতামত দিতে ভয় পাচ্ছেন। এর ফলে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়, আরটিআই আইনের উদ্দেশ্য কখনওই অহেতুক কৌতূহল মেটানো বা বাইরে থেকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার হাতিয়ার হওয়া নয়। বরং স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার মূল চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রেখে প্রশাসনের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানোই সরকারের লক্ষ্য।

কী কী তথ্য আরটিআইয়ের বাইরে? (RTI Act)
অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আরটিআই আইনে কিছু সংশোধনী আনা হতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে তৈরি হওয়া খসড়া নথি ও অভ্যন্তরীণ আলোচনা আরটিআইয়ের আওতার বাইরে রাখা, শুধুমাত্র চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও তার যুক্তি প্রকাশ্যে আনা, সরকারি আধিকারিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন চাকরিজীবনের রেকর্ড, বদলির ইতিহাস, সার্ভিস ফাইল ইত্যাদি গোপন রাখার ভাবনা, সরকারের মতে, এতে একদিকে যেমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া মসৃণ হবে, অন্যদিকে তেমনই প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়বে।
স্বচ্ছতার সঙ্গে আপস? (RTI Act)
এই প্রস্তাব ঘিরেই সবচেয়ে বড় বিতর্ক। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের একাংশের দাবি, আরটিআই আইনে সংশোধনের আড়ালে আসলে তথ্যের অধিকারকেই দুর্বল করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, খসড়া বা আলোচনার তথ্য গোপন রাখলে নীতিনির্ধারণের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ হবে এবং ভবিষ্যতে ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের দায় এড়ানোর পথ খুলে যাবে। বিরোধীদের আরও আশঙ্কা, একবার যদি “অপ্রয়োজনীয় তথ্য”র সংজ্ঞা সরকার নির্ধারণ করে নেয়, তবে ধীরে ধীরে আরটিআই আইনের কার্যকারিতাই লঘু হয়ে যেতে পারে। এতে নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকারের উপর আস্থা নড়বড়ে হবে।
আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair: বাইরে বসে স্রষ্টারা! শিল্পী ছাড়া আদৌ সম্পূর্ণ হয় বইমেলা?
প্রশাসনিক দক্ষতা বনাম গণতান্ত্রিক অধিকার
এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে এক মৌলিক প্রশ্ন, প্রশাসনিক গতি ও দক্ষতা কি গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার ঊর্ধ্বে?
একদিকে সরকার বলছে, নির্দিষ্ট সীমারেখা না টানলে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে নাগরিক সমাজের যুক্তি, গণতন্ত্রে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও স্বচ্ছতা বজায় রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সুশাসনের পথ।



