Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স বা হোয়াটসঅ্যাপ (Fake Profile Scam) প্রতিদিনের জীবনে সামাজিক মাধ্যম এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে নতুন বন্ধু তৈরি হয়, পুরনো সম্পর্ক গাঢ় হয়, আবার নিত্যনতুন যোগাযোগও গড়ে ওঠে। কিন্তু এই ভার্চুয়াল দুনিয়ার উজ্জ্বল আড়ালে লুকিয়ে থাকে অন্ধকারও। প্রায়শই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের তালিকায় দেখা যায় কোনও অপরূপ সুন্দরীর ছবি, কিংবা বিদেশি সিনেমার নায়কের মতো ঝকঝকে চেহারার প্রোফাইল। কৌতূহলবশত প্রোফাইলে ঢুকতেই বোঝা যায় এটি আসলে নকল। সমাজমাধ্যমের জগতে এই ফেক প্রোফাইল এখন এক পরিচিত বাস্তবতা, যা নিছক মজা থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধ পর্যন্ত নানা পরিণতি ডেকে আনে।

কেন তৈরি হয় ফেক প্রোফাইল? (Fake Profile Scam)
মনোবিদ ও সমাজতত্ত্ববিদদের মতে, নকল প্রোফাইল তৈরি করার প্রবণতা কোনও সাধারণ কাণ্ড নয়; বরং এটি একটি জটিল মানসিক অবস্থার বহিঃপ্রকাশ। এর নেপথ্যে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে।
হীনম্মন্যতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাব (Fake Profile Scam)
বাস্তব জীবনের চেহারা, গায়ের রং, আর্থিক অবস্থা বা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে অনেকেই গভীর হীনম্মন্যতায় ভোগেন। তাঁদের কাছে নকল প্রোফাইল হয়ে ওঠে এক কল্পিত আশ্রয়স্থল। সেখানে তাঁরা নিজেদের এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেভাবে বাস্তবে হতে চান। এই প্রোফাইলে পাওয়া সাময়িক প্রশংসা, লাইক বা কমেন্ট তাঁদের আত্মবিশ্বাসকে খানিকটা হলেও চাঙ্গা করে।

অবদমিত ইচ্ছার মুক্তি (Fake Profile Scam)
সমাজে “ভদ্র” ইমেজ বজায় রাখতে গিয়ে অনেকের অদেখা দিক চাপা পড়ে যায়। কেউ অন্তর্মুখী হলেও ভার্চুয়াল জগতে হয়ে ওঠেন মিশুক ও বেপরোয়া। কেউ আবার নকল পরিচয়ের আড়ালে প্রকাশ করেন নিজের অন্ধকার দিক রাগ, বিদ্রূপ, কটাক্ষ কিংবা অনৈতিক আকাঙ্ক্ষা। ফেক প্রোফাইল তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে মুক্তির জানালা, যেখানে কোনও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ নেই।
প্রতিহিংসা ও সাইবার বুলিং (Fake Profile Scam)
সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যবহার ঘটে এখানেই। নকল প্রোফাইলের আড়ালে থেকে অন্যকে অপমান করা, হুমকি দেওয়া, গুজব ছড়ানো বা পরিকল্পিতভাবে হেনস্থা করা অনেক সহজ হয়ে যায়। কারও প্রতি ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে কিংবা নিছক বিকৃত আনন্দ লাভের জন্য অনেকে এই পথ বেছে নেন। ফলে এক সময় নিরীহ মনে হওয়া খেলা রূপ নেয় সাইবার অপরাধে।
কৌতূহল ও উঁকিঝুঁকি (Fake Profile Scam)
প্রাক্তন সঙ্গীর ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি দেওয়া হোক কিংবা বন্ধুদের কার্যকলাপ নজরে রাখা— ফেক প্রোফাইল তৈরি করার আরেকটি বড় কারণ কৌতূহল। অন্যের জীবনে নীরবে উঁকি দেওয়ার এই প্রবণতা অনেকের কাছেই এক ধরনের রোমাঞ্চ তৈরি করে।
বাস্তব ও আকাঙ্ক্ষার ফারাক কোথায়?
সাইবার মনস্তত্ত্ববিদরা বলছেন, নকল প্রোফাইল আসলে বাস্তব জীবন ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যে থাকা শূন্যতা পূরণের এক ডিজিটাল মাধ্যম। যে মানুষ বাস্তবে যা হতে পারেন না, ভার্চুয়াল দুনিয়ায় সেই “আদর্শ সত্তা” তৈরি করেন। এতে তাঁরা এক ধরণের মানসিক তৃপ্তি লাভ করেন। তবে সমস্যাটি তখনই জটিল হয়ে ওঠে, যখন এই পলায়নপর মনোবৃত্তি ধীরে ধীরে বিপজ্জনক বা অপরাধমূলক রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: Delulu 101 : অপারেশন সিঁদুরের বিকৃত ইতিহাস পাকিস্তানের পাঠ্যবইয়ে! কী কী মিথ্যা তথ্য রয়েছে ?
নকল পরিচয়ের শিকার!
ফেক প্রোফাইল শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ক্ষতিও ডেকে আনে। মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেলিং, সাইবার বুলিং সবকিছুর শিকড় এই নকল পরিচয়ের ভেতর লুকিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ মানুষও হয়ে ওঠেন শিকার।



