Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য্য: হিমালয়ে হিমবাহ হ্রদের আকস্মিক (Farakka Safety Concern) জলস্রোত (GLOF) এবং অতিরিক্ত পলি জমার ফলে তৈরি হওয়া পরিবেশগত সংকট এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ জল ও পলি নেপালের নদী প্রণালী হয়ে বিহারের সমভূমিতে ঢুকছে, যা শেষ পর্যন্ত গঙ্গার প্রধান বাধা- ফারাক্কা ব্যারেজের ওপর অতিরিক্ত কাঠামোগত চাপ সৃষ্টি করছে।
প্লাবনের বড় ঝুঁকি! (Farakka Safety Concern)
বছরে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টনেরও বেশি (Farakka Safety Concern) পলি জমার ফলে ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে নদীর তলদেশ মারাত্মক উঁচু হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ দিন সঠিক ড্রেজিং ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাঁধটির জল ধারণ ক্ষমতা যেমন কমেছে, তেমনই এটি বিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদসহ দক্ষিণবঙ্গে প্লাবনের বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিবেশবিদের বক্তব্য (Farakka Safety Concern)
ভিডিও বার্তায় বিশিষ্ট পরিবেশবিদ এস এম ঘোষের বক্তব্য:
“যেভাবে হিমবাহ গলছে আর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে জলস্তর বাড়ছে এবং অতিবৃষ্টি হচ্ছে, তার ফলে গঙ্গায় জলস্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেপালে যে ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট হলো, সেই জল কোশী ও গণ্ডক নদী হয়ে বিহারে ঢুকবে। এরপর ট্রান্স-বাউন্ডারি নদীর মাধ্যমে সেই জল মহানন্দা হয়ে ফারাক্কায় এসে পড়বে।”
আপস্ট্রিমে জমছে পলি
“ফারাক্কা ব্যারেজ প্রায় ৫০ বছর পুরোনো। আপস্ট্রিমে পলি জমতে জমতে বছরে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন পলি জমা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন প্রপারলি মেকানিক্যাল ড্রেজিং ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় বাঁধটির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে চরম জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা এবং নদীর তলদেশ পলি ভরাট হতে থাকলে ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গ।”
আরও পড়ুন: Nepal Flood: জলের রং বদলেই বিপদের ইঙ্গিত! নেপালকে ফের সতর্ক করল চিন
‘স্যান্ডউইচ’ অবস্থা কলকাতার
” কলকাতা এখন একটি ‘স্যান্ডউইচ’ অবস্থায় রয়েছে। একদিকে সমুদ্রের নোনা জল ঢুকছে, অন্যদিকে গঙ্গার তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ার ফলে কলকাতার ডাঙ্গা ও গঙ্গার জলস্তর প্রায় সমান হয়ে গিয়েছে পরিবেশবিদদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে কলকাতার বহু এলাকা জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। পরিস্থিতি ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে’ দেওয়ার মতো ভয়াবহ। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত ফারাক্কা ব্যারেজের বিকল্প ব্যবস্থা ও পলি অপসারণ নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে, না হলে যেকোনো বড় ধরনের ক্ষতিতে এখানকার থার্মাল পাওয়ার স্টেশনসহ সব অকেজো হয়ে পড়তে পারে।”


