Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে ক্রমশ (FIFA World Cup)। তবে জানেন এই ট্রফি দুই বার চুরি গেছিল?
বিশ্বকাপের অজানা কাহিনী (FIFA World Cup)
এই মুহূর্তে গোটা ফুটবলবিশ্ব প্রস্তুতি নিচ্ছে রাত জাগার। কারণ আর কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে দ্য গ্রেট নাইট শো অন আর্থ। সেই মহারণের প্রস্তুতিতে যেমন সমর্থকদের মধ্যে বাড়ছে তর্ক তেমনই কে সেরা হবেন সেই নিয়েও চলছে গবেষণা। এখনও বল মাঠে গড়ায়নি তবে তার আগেই ফুটবল জ্বরে কাবু সমগ্র দেশ (FIFA World Cup)।
বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় এবং সুনামের এই বিশ্বকাপ ট্রফি। সব প্লেয়ারদের মধ্যে সমানে সমানে যখন টক্কর হয় সেই সময় যদি কোনও এক প্লেয়ার বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে নেন তবে কৌলিন্যের বিচারে সেই প্লেয়ার ছাপিয়ে যান বাকিদের। তবে জানেন এই বিশ্বকাপও চুরি হয়েছে? একবার নয় বরং দুই দুই বার চুরি গেছিল বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ চুরির গল্প
এক বনেদি বাড়ির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক মূল্যবান মুকুট। চার বছর অন্তর সেই মুকুট একবার করে প্রদর্শনীও করা হয়। তবে সেখানে থাকে তেমন সুরক্ষিত ব্যবস্থা যে একটি মশাও সেখানে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে সেই মকুট গেল একদিন চুরি হয়ে। দরজায় টোকা পড়ল বেকার স্ট্রিটের। তদনের ভার গেল সেই বাড়ির বিখ্যাত বাসিন্দা শার্লক হোমসের কাছে। কিন্তু তিনি সেটা উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেন। শুনতে অসম্ভব মনে হচ্ছে? তবে এমনটাই হয়েছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে (FIFA World Cup)।
বিশ্বকাপের সবথেকে বেশি আকর্ষণীয় সেই ট্রফি। আর সেই ট্রফি চুরি? শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের চুরি সাড়া ফেলে দিয়েছিল গোটা বিশ্বে। গোয়েন্দা গল্পের নায়ক যেমন কোনও মূল্যবান জিনিস চুরি গেলে তার তদন্তে নামে সেই সময়ও এমনই তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। শার্লক হোমস যাঁরা পড়েছেন তাঁরা পরিচিত স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের নামের সঙ্গে। সেই স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড কিন্তু এই ট্রফি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হলেন।
চারদিকে সেই সময় হুলুস্থুল পরে গিয়েছিল। চোরকে ধরার জন্য পাতা হল ফাঁদ। তবু ট্রফির খোঁজ নেই। এমন অবস্থায় অন্য কেউ নন বরং নায়ক হয়ে যায় একটি কুকুর। তার নাম পিকেল। লন্ডনের একটি ঝোঁপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় ট্রফি। কাগজে মোড়ানো সেই ট্রফি উদ্ধার করে রাতারাতি তখন নায়ক পিকেল। সেই সময় এই কুকুর জাতীয় বীর। এমনকি ইংল্যান্ডের জয়ের পর রাজকীয় ভোজে আমন্ত্রণও পেয়ে যায় পিকেল।
দ্বিতীয়বার চুরি বিশ্বকাপ
১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার জিতলে সেই সময় চুরি যায় বিশ্বকাপ। যদিও তখনও তার নাম জুলে রিমে কাপ। সেই ট্রফি স্থায়ীভাবে নিয়ে যাওয়া হয় রিও ডি জেনিরোতে। সেখানেই ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের দফতরে বুলেটপ্রুফ কাচে নিরাপত্তা দিয়ে রাখা হয় ট্রফিটি। ১৯৮৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর রাতে ফের চুরি বিশ্বকাপ। সেই চুরির অপরাধে চারজনকে ধরা হয়। তবে সেই বিশ্বকাপ আর উদ্ধার হয়নি। শোনা যায় জানা যায়, হুয়ান কার্লোস হার্নান্ডেজ নামে সোনারু ট্রফিটা গলিয়ে সোনা বের করে নেন। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (FIFA World Cup)।

বিশ্বকাপে খেলতে ইউরোপের অনীহা
ইউরোপকে ছাড়া ফুটবল বর্তমানে কল্পনাও করা যায় না। কিন্তু ইউরোপেরই নাকি ফুটবল বিশ্বকাপে অনিহা জাগে। শুনতে অবাক লাগলেও হ্যাঁ, বিষয়টি সত্যি। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে হওয়া প্রথম বিশ্বকাপে কোনো বাছাইপর্ব ছিল না। ফিফা প্রায় সব দেশকেই সেই আসরে খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে সেই সময় অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে উরুগুয়ে যাওয়ার আগ্রহ দেখায়নি পুরো ইউরোপ।
আরও পড়ুন: Nandigram: নন্দীগ্রামের দাপুটে নেতার গ্রেফতার দাপুটে নেতা শামসুল
ভারতের জুতা বিহীন খেলতে চাওয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভা যেমন পড়েছিল মানব সভ্যতার উপর তেমন তার প্রভাব পড়েছিল ফুটবল বিশ্বকাপেও। ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ হয়নি। আর সেই আবহে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় সুযোগ আসে ভারতের কাছে। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় ভারতের। শোনা যায় ভারতের কাছে সেই মানের জুতো না থাকায় তাঁরা জুতো ছাড়া বিশ্বকাপ খেলতে চায় কিন্তু ফিফা তার অনুমোদন দেয়নি। এখনও পর্যন্ত ভারতের ফুটবল বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ হয়নি।
লাল-হলুদ কার্ডের ব্যবহার
১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের সময় প্রথম লাল কার্ড এবং হলুদ কার্ডের ব্যবহার শুরু হয় ফুটবলে। এর আগে রেফারিরা খেলোয়াড়দের মৌখিকভাবে বরখাস্ত করতেন। কিন্তু ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে ঘটে যাওয়া বিপত্তির কারণে এই কার্ড চালু হয়। সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার এক প্লেয়ারকে বরখাস্ত করা হলে তিনি সেটা না বোঝার ভ্যান করেন। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় ঝামেলা। এরপরেই কার্ড দেখানোর প্রথা চলে আসছে (FIFA World Cup)।


