Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইজরায়েলে হামাসের আকস্মিক হামলায় নিহত হন অন্তত ১,২০০ জন ইজরায়েলি নাগরিক (Gaza War)। ওই হামলার পরই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি হামাসকে “পৃথিবীর মুখ থেকে মুছে ফেলবেন।” কিন্তু দুই বছর পর, গাজায় ৬৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনির প্রাণহানির পরও প্রশ্ন রয়ে যায়—হামাস কি সত্যিই নিশ্চিহ্ন হয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামাস সামরিকভাবে দুর্বল হলেও একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।
৭ অক্টোবরের আক্রমণ থেকে শুরু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ(Gaza War)
হামাসের ৭ অক্টোবরের আক্রমণে ইজরায়েলের সীমান্ত শহর, কিবুতজ এবং একটি সংগীত উৎসব রক্তাক্ত হয়ে ওঠে(Gaza War)। ২৫১ জনকে জিম্মি করে, শত শত রকেট ছোড়ে হামাস যোদ্ধারা। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইজরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন সোর্ডস অফ আয়রন’। কয়েক দিনের মধ্যেই গাজা পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
২০২৪ সালের শুরুতে স্থল অভিযান শুরু করে ইজরায়েলি বাহিনী। একের পর এক হামাস নেতাকে খুন বা আটক করা হয়—
- ইসমাইল হানিয়া নিহত হন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তেহরানে এক ইজরায়েলি হামলায়।
- সালেহ আল–আরুরি, হামাসের সামরিক শাখার প্রতিষ্ঠাতা, নিহত হন জানুয়ারিতে বৈরুতে।
- ইয়াহিয়া সিনওয়ার, ৭ অক্টোবরের মূল পরিকল্পনাকারী, মারা যান রাফাহর এক টানেল অভিযানে।
ইজরায়েলের দাবি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা হামাসের ১৭,০০০–২৩,০০০ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে, যাদের মধ্যে এলিট ‘নুখবা’ ইউনিটের সদস্যরাও ছিল।
ধ্বংস গাজা, কিন্তু বেঁচে আছে হামাস (Gaza War)
ইজরায়েলের লাগাতার বোমাবর্ষণে ভেঙে পড়েছে গাজার অবকাঠামো। ৬৭,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু—এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষকরা(Gaza War)। হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল—সবই হয়েছে লক্ষ্যবস্তু।
কিন্তু দুই বছর পরও হামাসের অস্তিত্ব মুছে যায়নি। বরং তারা নতুন কৌশল নিয়েছে—ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন ইউনিটে ভাগ হয়ে গেরিলা যুদ্ধ চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন : Israel Hamas Conflict : গাজায় শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে সায় হামাসের
যুদ্ধ কৌশলে বড় পরিবর্তন (Gaza War)
ইজরায়েলি সেনা প্রধান ইয়াল জামির সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, “গাজা দখল করলেও হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়(Gaza War)।”
হামাস এখন ১০–১২ হাজার সক্রিয় যোদ্ধা নিয়ে দক্ষিণ গাজা থেকে হঠাৎ আঘাত হেনে গায়েব হয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, ২০২৩ সালের পর থেকে প্রায় ১০–১৫ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ করেছে হামাস, বলে জানাচ্ছে মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা সূত্র।
তবে ইজরায়েল দাবি করেছে, হামাসের ভারী অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশ—বিশেষত রকেট মজুদ—ধ্বংস করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : India On Pakistan : জাতিসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধোনা করল ভারত, স্মরণ করালো ১৯৭১-এর বিভীষিকা
“টিকে থাকাই জয়”-হামাসের নতুন দর্শন (Gaza War)
বিশ্লেষকদের মতে, হামাস এখন বেঁচে থাকার রাজনীতি খেলছে(Gaza War)। সামরিকভাবে দুর্বল হলেও, ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা তাদের রাজনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস–ভিত্তিক কূটনীতি বিশারদ শায়েল বেন-এফ্রাইম বলেছেন,
“হামাসের সামরিক ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি। নতুন সদস্য পাওয়া তাদের কাছে খুব সহজ, এবং মিশর সীমান্তের নিচের টানেলগুলো দিয়ে অস্ত্র পাচার অব্যাহত আছে।”
অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এরিক স্কারে বলেন,
“হামাস এখনও ইজরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণ চালাচ্ছে। এটি আসলে ইজরায়েলের জন্য একধরনের ‘হ্যারাসমেন্ট ওয়ারফেয়ার’। হামাস হারেনি।”
ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ (Gaza War)
এমন অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার জন্য এক শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছেন(Gaza War)। এতে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজার প্রশাসন একটি স্বাধীন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, হামাস রাজি না হলে আরও ভয়াবহ রক্তপাত ঘটতে পারে।
দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধ গাজাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। হামাসের অনেক শীর্ষ নেতা নিহত, কাঠামো ভেঙে পড়েছে—তবু সংগঠনটি বেঁচে আছে, বদলে গেছে, ছড়িয়ে পড়েছে।
ইজরায়েল হয়তো হামাসকে দুর্বল করেছে, কিন্তু মুছে ফেলতে পারেনি। কারণ, গাজার ধ্বংসের মাঝেও প্রতিরোধের বীজ এখনও টিকে আছে।


