Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাবে অবশেষে রাজি হয়েছে প্যালেস্টাইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস(Israel Hamas Conflict)। সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই ঘোষণা দেয় তারা। প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে। এখন শুধু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষা। তবে হামাসের জারি করা বিবৃতিতে কিছু শর্ত ও অস্পষ্টতা থাকায় শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে কোথায় কোথায় সহমত হামাস? (Israel Hamas Conflict)
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইজরায়েল প্রকাশ্যে সমর্থন জানালে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই হামাস সমস্ত ইজরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেবে(Israel Hamas Conflict)। এরপর ইজরায়েলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা ২৫০ জন প্যালেস্টাইনপন্থী ও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটক গাজাবাসীদের মুক্তি দেওয়া হবে। হামাস এই শর্তে সায় দিয়েছে, তবে জানিয়েছে— বন্দিমুক্তি হবে “প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে”। যদিও সেই শর্তগুলির ব্যাখ্যা তারা দেয়নি।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজা থেকে দফায় দফায় ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। বন্দিমুক্তির সময় ইজরায়েল কোনও হামলা চালাবে না বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হামাস এই অংশটি মেনে নিয়েছে এবং জানিয়েছে, তারা গাজা থেকে ইজরায়েলের পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার চায়। তবে সেই প্রত্যাহার কোন কোন ধাপে হবে, তা স্পষ্ট নয় (Israel Hamas Conflict)।
এছাড়া গাজার সাধারণ নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত না করে ত্রাণ সরবরাহ, রাস্তা, হাসপাতাল, বেকারি ও ধ্বংসস্তূপ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে(Israel Hamas Conflict)। রাষ্ট্রপুঞ্জ, রেড ক্রিসেন্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এই পুনর্গঠন কার্যক্রমের দায়িত্ব নেবে। হামাস জানিয়েছে, তারা এই অংশকে স্বাগত জানায় এবং গাজা থেকে প্যালেস্টাইনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার ঘোর বিরোধী।
যেখানে এখনও মতানৈক্য রয়ে গেছে(Israel Hamas Conflict)
সবচেয়ে বড় বিভাজন দেখা দিয়েছে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন নিয়ে(Israel Hamas Conflict)। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, সেখানে একটি “অস্থায়ী অরাজনৈতিক সরকার” গঠিত হবে, যেখানে প্যালেস্টাইনিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন। এই সরকারের তদারকির দায়িত্বে থাকবে একটি আন্তর্জাতিক কমিটি, যার নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্প নিজে। এই কমিটিতে যুক্ত থাকবেন ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও।
হামাস কিন্তু এই পরিকল্পনা পুরোপুরি মানতে রাজি নয়। তাদের মতে, গাজার প্রশাসন পরিচালনা করবে ইসলামি ও আরব দেশগুলির সমর্থনে গঠিত একটি স্বাধীন প্যালেস্টাইনপন্থী সংগঠন, যেখানে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। বিদেশি নেতৃত্বাধীন কোনও কাঠামোর অধীনে গাজা পরিচালনা করা হামাসের কাছে “অগ্রহণযোগ্য”।

এছাড়া ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজার “অসামরিকীকরণ” শুরু হবে এবং ভবিষ্যতে হামাসের কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকবে না(Israel Hamas Conflict)। হামাস এই অংশ নিয়েও আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি, তারা প্যালেস্টাইনের একটি জাতীয় রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ— কোনও বহিরাগত নির্দেশে নিজেদের ভূমিকা থেকে সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত(Israel Hamas Conflict)
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হামাসের সম্মতি আপাতভাবে আশাব্যঞ্জক হলেও বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বন্দিমুক্তি, সেনা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক কাঠামো— প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন সময় ও বিশ্বাসযোগ্যতা(Israel Hamas Conflict)।
আরও পড়ুন : Quad Summit : রীতি ভাঙছে কোয়াড! দিল্লিতে বাতিল হতে পারে বার্ষিক শীর্ষবৈঠক ?
ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাতের পর এই উদ্যোগ যদি সফল হয়, তবে এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনার বাস্তবায়ন না হলে ট্রাম্পের এই ২০ দফা প্রস্তাবও ইতিহাসের আরও এক ব্যর্থ শান্তিচেষ্টা হিসেবেই থেকে যাবে।


