Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমার উপর জিএসটি (GST Exemption) আরোপ নিয়ে এবার নরম মনোভাব দেখাল কেন্দ্রীয় সরকার। বহুদিন ধরেই বিরোধী দলগুলি অভিযোগ তুলে আসছিল, সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য আবশ্যিক এই পরিষেবাগুলোর উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি বসানো একেবারেই অনুচিত। সেই দাবি মেনে অবশেষে প্রস্তাব আনা হল-জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমাকে জিএসটি থেকে সম্পূর্ণ বা আংশিক ছাড় দেওয়া হতে পারে।
রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন (GST Exemption)
এই সংক্রান্ত প্রস্তাব কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই তৈরি করেছে বলে (GST Exemption) জানালেন বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী এবং বিমা সংক্রান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর আহ্বায়ক সম্রাট চৌধুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে একাধিক রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার উপর জিএসটি ছাড়ের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই জিএসটি পরিষদের বিবেচনা সভায় যাবে।
৯,৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি (GST Exemption)
সম্রাট চৌধুরির দাবি, “এই প্রস্তাবের লক্ষ্য একটাই-সাধারণ ব্যক্তি ও পরিবারের (GST Exemption) জন্য বিমা নেওয়াকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তোলা। সমস্ত রাজ্যই প্রায় সহমত হয়েছে। এখন রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে, তারপর জিএসটি কাউন্সিলে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।” তবে বিমা থেকে জিএসটি সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে, নাকি শুধুমাত্র হার কমানো হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রায় ৯,৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে।
নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষা
বিরোধী দলগুলির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, জীবন ও স্বাস্থ্যবিমার মতো মানবিক প্রয়োজনের পরিষেবার উপর কর আরোপ করা অনৈতিক। গত বছর আগস্ট মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “এই বিমাগুলির মূল উদ্দেশ্যই হল নাগরিকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া। সেখানে ১৮ শতাংশ কর বসানো সম্পূর্ণ জনবিরোধী।”

রাহুল গান্ধীও একই দাবি তুলেছিলেন
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও একই দাবি তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “অসংখ্য ভারতীয় স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবিলায় নিজেদের শেষ সঞ্চয় দিয়ে বিমা করান। অথচ সরকার সেই টাকাতেও হাত বাড়িয়ে ২৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করেছে জিএসটি বাবদ। এটি অসংবেদনশীলতার চরম নিদর্শন।”
আরও পড়ুন: Arijit-Ranajoy: বাংলায় অরিজিতের নতুন জুটি, চমক দেবেন বিরহের গানে!
শুধু বিরোধী দল নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী নিতিন গড়কড়িও বিমার উপর জিএসটি চাপানোর বিরোধিতা করেছিলেন পূর্বে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক চাপ এবং জনমতকে গুরুত্ব দিয়ে এবার নির্বাচনের মুখে জীবন ও স্বাস্থ্যবিমায় করছাড়ের পথে হাঁটল মোদি সরকার।


