Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জম্মু-কাশ্মীরের গুলমার্গে জাঁকিয়ে শীত পড়তেই নতুন (Gulmarg) করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটন শিল্প। পাহাড়ি ঝরনার জল আংশিকভাবে জমে গিয়ে বরফে ঢাকা মনোরম দৃশ্য তৈরি করেছে, যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বরফে মোড়া পাহাড়, জমে থাকা ঝরনা ও হিমশীতল পরিবেশ উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুলমার্গ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন পর্যটকরা।
সাম্প্রতিক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়েছে (Gulmarg)
যদিও সাম্প্রতিক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা (Gulmarg) বেড়েছে, তবুও কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে শীতের প্রভাব এখনও স্পষ্ট। সকাল ও সন্ধ্যায় তীব্র ঠান্ডার সঙ্গে কুয়াশার দাপট উপত্যকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। গত বছরের এপ্রিলে পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল জম্মু-কাশ্মীর। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় বহু পর্যটক তাঁদের সফর বাতিল করেছিলেন।

তবে প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির ফলে আবারও ফিরতে শুরু করেছেন পর্যটকরা। চলতি শীতের মরশুমে কাশ্মীরের পর্যটন শিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছে। বিশেষ করে গুলমার্গ, পহেলগাম ও সোনমার্গে বরফে ঢাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অনেক পর্যটকই জানিয়েছেন, আংশিকভাবে জমে যাওয়া ঝরনা ও বরফে ঢাকা পাহাড়ি দৃশ্য তাঁদের কাছে একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।
ডাল লেকের জল এখনও বরফে জমে রয়েছে (Gulmarg)
এদিকে সিন্ধু উপত্যকায় শীতের তীব্রতা এখনও (Gulmarg) অব্যাহত। শনিবার রাতে শ্রীনগরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের রাতের মাইনাস ৫.২ ডিগ্রির তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও ঠান্ডার দাপট কমেনি। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা ছিল সবচেয়ে শীতল এলাকা, যেখানে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পহেলগাম ও গুলমার্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সোনমার্গে রেকর্ড করা হয়েছে মাইনাস ২.৪ ডিগ্রি। কাজিগুন্ডে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩.৪ ডিগ্রি, কোকেরনাগে মাইনাস ১.৮ ডিগ্রি এবং কুপওয়ারায় মাইনাস ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রবল ঠান্ডার জেরে উপত্যকার একাধিক জলাশয় ও বিখ্যাত ডাল লেকের জল এখনও বরফে জমে রয়েছে।
রাতের দিকে তীব্র ঠান্ডা অব্যাহত (Gulmarg)
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীর উপত্যকায় শুষ্ক কিন্তু আংশিক মেঘলা আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। এই সময়ে বড় ধরনের তুষারপাতের সম্ভাবনা না থাকলেও রাতের দিকে তীব্র ঠান্ডা অব্যাহত থাকবে। জম্মুর সমতল এলাকায় মাঝারি কুয়াশার পাশাপাশি কিছু কিছু অঞ্চলে ঘন কুয়াশারও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাশ্মীর রয়েছে ‘চিল্লা-ই-কালান’ পর্যায়ে। এটি ৪০ দিনের সবচেয়ে কঠিন শীতকালীন সময়, যখন রাতের তাপমাত্রা প্রায়শই শূন্যের নীচে নেমে যায় এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা সর্বাধিক থাকে। চলতি বছরের চিল্লা-ই-কালান শুরু হয়েছে ২১ ডিসেম্বর থেকে এবং শেষ হবে ৩০ জানুয়ারি।

উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশেও জাঁকিয়ে শীত
এদিকে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশেও জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। দিল্লিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। রাজস্থানের একাধিক এলাকায় শূন্যের নীচে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকাতেও তীব্র ঠান্ডার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
IMD জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্থান, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে শীতের প্রখরতা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম ভারত ও বিহারের বিভিন্ন এলাকায় সকালের দিকে ঘন কুয়াশা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


