Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফেরার জন্য (Gurugram) লিফট নেওয়াই কাল হয়ে দাঁড়াল এক তরুণীর জীবনে। গুরুগ্রাম–ফরিদাবাদ রোডে চলন্ত একটি ভ্যানে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় মারাত্মক জখম অবস্থায় ওই তরুণী বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। মুখে ১২টি সেলাই পড়েছে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মায়ের সঙ্গে তর্কাতর্কি (Gurugram)
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত প্রায় (Gurugram) সাড়ে আটটা নাগাদ ওই তরুণী এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বেরোনোর আগে কোনও বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়েছিল। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তিনি বোনকে জানিয়েছিলেন, দু’-তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফিরে আসবেন। কিন্তু নানা কারণে বাইরে থাকতে দেরি হয়ে যায় এবং রাত গভীর হলে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি কোনও উপযুক্ত যানবাহন পাননি।

ভ্যানে লিফট নেন তরুণী (Gurugram)
শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফেরার তাড়ায় একটি ভ্যানে লিফট নেন ওই (Gurugram) তরুণী। ভ্যানে তখন দু’জন যুবক উপস্থিত ছিল। অভিযোগ, শুরু থেকেই অভিযুক্তরা তাঁকে সন্দেহজনকভাবে লক্ষ্য করছিল। নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেও তাঁকে সেখানে না নিয়ে গিয়ে ভ্যানটি গুরুগ্রাম–ফরিদাবাদ রোডের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। রাতের কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা ছিল। ফলে বিপদের আঁচ পেলেও তিনি কাউকে সাহায্যের জন্য ডাকতে পারেননি।
শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন
পুলিশ জানিয়েছে, হনুমান মন্দির পেরোনোর পর একটি নির্জন এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাঁকে চলন্ত ভ্যানের মধ্যেই আটকে রাখা হয়। অভিযোগ, সেই সময় দুই যুবক তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এবং একাধিকবার ধর্ষণ করে। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে।

বোনকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান
ঘটনার পর ভোর প্রায় তিনটে নাগাদ এসজিএম নগর এলাকার রাজা চকের কাছে মুলা হোটেল সংলগ্ন রাস্তায় চলন্ত ভ্যান থেকেই তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলেও কোনওরকমে সাহস সঞ্চয় করে বোনকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান ওই তরুণী।
কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে
খবর পেয়ে পরিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লির একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে পরে বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে ফরিদাবাদ শহরেরই একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক ও মানসিক আঘাত অত্যন্ত গুরুতর এবং তাঁকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু
এদিকে, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতওয়ালি থানায় একটি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফরিদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। অভিযুক্তদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত ভ্যানটির সন্ধানেও তল্লাশি চলছে।
আরও পড়ুন: Train Accident In Tunnel: টানেলের ভিতরে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষ, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে রক্তাক্ত রাত
পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের একবার প্রশ্ন উঠেছে।


