Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আইপিএল-এর চলতি মরশুমে মুম্বই দলের এই টালমাটাল অবস্থা ফ্যানদের কাছে দুঃস্বপ্ন (Hardik Pandya)। সমর্থকদের মনে একটাই প্রশ্ন কবে ঘুরে দাঁড়াবে দল?
হারের ধাক্কায় বেসামাল মুম্বই (Hardik Pandya)
সব দেশের ক্রিকেটেই বড় বড় তারকারা এসেছেন আবার চলে গিয়েছেন। ভারতের হয়েও বহু ক্রিকেটার নিজেদের দক্ষতায় আদায় করে নিয়েছেন কিংবদন্তি তকমা। এক সময় কপিল দেব, সুনীল গাভাসকর আবার এরপর সৌরভ, শচীন তার পরবর্তীতে ধোনি, কোহলি, রোহিত। যাদের দলের জন্য অবদান আজও ক্রিকেটবিশ্বে স্মরণীয়। তবে আরেক কিংবদন্তির কথা এই প্রসঙ্গে এসে যেতে বাধ্য। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন তারকা ওপেনার সনৎ জয়সূর্য, ছিয়ানব্বই বিশ্বকাপের সময় ফিল্ডারদের মাথার উপর দিয়ে তুলে মারার সেই অভিনবত্ব বিশ্ব ক্রিকেট সাড়া ফেলে দিয়েছিল (Hardik Pandya)।
এই প্রাক্তন লঙ্কান তারকা এক সাক্ষাৎকারে কিংবদন্তি তকমা প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন যে কিংবদন্তি হয়ে কেউ খেলতে আসেন না। প্রতিভা নিয়ে সে খেলতে এসে লড়াই এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর এই তকমা অর্জন করে নেন। সুতরাং তাঁদের সাফল্যের আগে সেই সব ক্রিকেটারদের সংগ্রাম বেশি করে জানা বা দেখা উচিত। মুম্বই দোলে হয়ে একসময় খেলেছেন শচীন, জাহির খান, মালিঙ্গার মত তারকারা। এর পরবর্তীতে এসেছেন রোহিত শর্মা। যার ব্যাটিং এবং নেতৃত্বের দক্ষতায় মুম্বই সাফল্যের অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই পাঁচবারের আইপিএল খেতাবজয়ী দলের বর্তমান অবস্থা মোটেও ভাল না। প্রতিভাধর ক্রিকেটাররা থাকলেও তাঁরা দলের এই কঠিন সময়ে ভরসা হয়ে উঠতে পারছেন না।
২০২৬ সালের আইপিএল জয়ের স্বপ্ন ধীরে ধীরে যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে হার্দিক পান্ডিয়াদের। কোনও এক ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয় আবার কোনও ম্যাচে বোলিং ব্যর্থতা, সব মিলিয়ে সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পান্ডিয়া, বুমরার মত ক্রিকেটাররা থাকার পরেও এই করুণ হাল সমর্থকদের কাছে মেনে নেওয়া শুধু কষ্টকর নয় বরং এক প্রকার অসম্ভব (Hardik Pandya)।

চলতি মরশুম জয় দিয়ে শুরু করলেও সেই ছন্দ পতন হতে বেশি সময় লাগেনি। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, পাঞ্জাবের কাছে হারের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে মুম্বই। এরপর গুজরাটের বিরুদ্ধে আবার জয় পেলে আশা করা হয় যে এবার নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কিন্তু সেগুড়ে বালি। ঘরের মাঠে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ধাক্কা খায় আবার হার্দিকরা। এরপর হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বড় স্কোর করলেও সেটা ডিফেন্ড করতে ব্যর্থ হয় মুম্বই। আলোর আশা দেখলেও আবার অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায় সেই আশার আলো।

একদিকে ব্যাট হাতে এক সময় যে সূর্যকুমার যাদব একাধিক ম্যাচে জেতানো ইনিংস খেলেছেন সেই স্কাই আজ যেন অন্ধকারে ঢাকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে অফ ফর্ম চলছে এই তারকার। সম্ভাবনা থাকলেও এই মুহূর্তে তিনি দলকে ভরসা দিতে ব্যর্থ। বল হাতে বুমরা তিনিও নিষ্প্রভ। হার্দিক পান্ডিয়া যাকে অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা সেও যেন অনেকটাই শিথিল। সেই দাপট দেখতে পারছেন না মাঠে (Hardik Pandya)।
এমন অবস্থায় হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ হারের পর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় হার্দিক, বুমরাদের। অন্যদিকে দলের সবথেকে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রোহিত শর্মা চোটের কারণে এখনও ফিরতে পারেননি মাঠে। এমন অবস্থায় ঘুরে দাঁড়ানোই লক্ষ্য মুম্বইয়ের কাছে। এখন থেকে আইপিএল জয়ের স্বপ্ন যেন অবাস্তব। তবে হারের হকারণ নিয়ে ম্যাচ শেষে কথা বলেন হার্দিক।
ম্যাচে শিশির ফ্যাক্টর কিনা সেই নিয়ে হার্দিক পান্ডিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় না শিশির খুব একটা প্রভাব ফেলেছে। ওরা ভাল শট খেলেছে, আমরা কিছু খারাপ বল করেছি। শুরুতেই ওরা এগিয়ে যায়। আমরা কিছুটা ফিরে আসার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না। তবে মাঠে খেলাটা আমি উপভোগ করেছি।’
আরও পড়ুন: WB Weather Report: রাজ্যে টানা বৃষ্টি, চলবে কতদিন?
মুম্বই দলের অধিনায়ক আরও বলেন, ‘২৪৪ রান রক্ষা করা সম্ভব বলেই মনে হয়েছিল। আমি বোলারদের উপর ভরসা রাখি। কিন্তু আজ আমরা পরিকল্পনা ঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। আমি নিজেও বোলিং উপভোগ করেছি, শেষ তিনটা বল ছাড়া বাকি সব ভালই ছিল।’
দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পান্ডিয়া বলেন, ‘এই মরশুমটা এমনই যাচ্ছে। সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাতে হয়, তখনই ভাগ্য আর ছন্দ বদলায়। না হলে সমস্যা হয়। ছেলেরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, কিন্তু কাজে লাগেনি। আমাদের দেখতে হবে কোথায় ভুল হচ্ছে। তবে আমাদের মালিক ও সাপোর্ট স্টাফ খুবই উৎসাহী, তাই আমরা নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নেব।’ তবে দলের জন্য এই কঠিন সময়ে প্রয়োজন নিজেদের ফোকাস ঠিক রেখে আবার কামব্যাক করা (Hardik Pandya)।
এই হারের পর সমর্থকদের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে হার্দিককে। অনেকেই দাবি করছেন অধিনায়ত্বের পদ থেকে সরানো হোক হার্দিককে। তবে এই দিন হায়দরাবাদের কাছে হারের পর হার্দিকের গলায়ও ছিল হতাশার সুর। এখন সমর্থকরা চাইছেন নিজেদের ভুল ত্রুটি ঠিক করে আবার ফর্মে ফারুক দল (Hardik Pandya)।


