Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাহাড়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে জিটিএ (GTA Teachers)। কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করা হয়। জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি বিশ্বরূপ চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয় বুধবার। এদিন সিঙ্গেল বেঞ্চের সেই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ।
আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন ৩১৩ শিক্ষক (GTA Teachers)
আগামী ১২ সপ্তাহের জন্য সিঙ্গেল বেঞ্চের এই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। শীতকালীন অবকাশের ছুটির পর আদালত খুললে তার চার সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত পক্ষকে সমস্ত নথি ও হলফনামা আদান-প্রদান করে নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত (GTA Teachers)। পরবর্তী সার্কিট বেঞ্চ যখন বসবে তখন এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।
আরও পড়ুন:Murshidabad: সামসেরগঞ্জে পিতা-পুত্র খুনে রায় ঘোষণা: ১৩ জনের যাবজ্জীবনের নির্দেশ জঙ্গিপুর আদালতের
পাহাড়ে তথা জিটিএ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই মামলা চলছিল কলকাতা হাইকোর্টে। পাহাড়ে জিটিএ নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে থাকা স্কুলগুলিতে বেআইনিভাবে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই একতরফাভাবে এই নিয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই দুর্নীতিতেও নাম জড়ায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের যুব নেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য্য ও জিটিএ নেতা বিনয় তামাঙের। এই মামলায় বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন (GTA Teachers)। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। কিন্তু বিচারপতি বসুর সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ই বহাল রাখে ডিভিশন বেঞ্চ।
এরপর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে রাজ্য। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়ে মামলা পুণরায় হাইকোর্টে ফিরিয়ে দেয়। (GTA Teachers) জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির সেই মামলাতেই গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু অবৈধভাবে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে ৩১৩ শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার পাশাপাশি বেতন বন্ধের নির্দেশ দিলেন। বিচারপতি বসু তাঁর পর্যবেক্ষণে জানিয়ে ছিলেন, ‘রাজ্য কেন এদের ভার বহন করবে?এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?’ সেই সঙ্গে, সিআইডি-কে দুর্নীতির তদন্ত চালিয়ে যাওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।
বুধবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সেই নির্দেশেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ।


