Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিরাজদ্দৌলার সাধের হীরাঝিল প্রাসাদ রক্ষার জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলার সাধের হীরাঝিল প্রাসাদের (Hirajheel Palace) অবশিষ্ট অংশ সংরক্ষণের দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, এই মামলা বৃহত্তর মানুষের স্বার্থে নয়, তাই এটি জনস্বার্থ মামলা হিসেবে বিবেচিত হবে না।
মুর্শিদাবাদের গঙ্গার তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক হীরাঝিল প্রাসাদের অনেকটা অংশই বহু বছর আগে ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক শতাব্দী আগে নবাব সিরাজদ্দৌলার নির্দেশে নির্মিত এই প্রাসাদের একটি বড় অংশ ভাগীরথীর প্রবল ভাঙনে গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি ছিল নবাবের একটি বিলাসবহুল আবাসস্থল।
মামলাকারী ট্রাস্টের অভিযোগ (Hirajheel Palace)
‘নবাব সিরাজদ্দৌলা স্মৃতি সুরক্ষা ট্রাস্ট’-এর অভিযোগ ছিল, প্রশাসন হাজারদুয়ারি প্রাসাদ সংরক্ষণে উদ্যোগী হলেও, হীরাঝিল প্রাসাদ নিয়ে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে (Hirajheel Palace) হেরিটেজ তালিকা থেকেও বাদ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, হীরাঝিল নির্মাণের কিছু বছরের মধ্যেই এর কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এটি ভেঙে পড়ে। সিরাজের উত্তরসূরি নবাবরা প্রাসাদটিকে সংরক্ষণে আগ্রহ দেখাননি এবং নীচের অংশ ভেঙে দেন। পরবর্তীকালে প্রাকৃতিক কারণ ও গঙ্গার ধসের ফলে বিস্তীর্ণ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।
সরকারি পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, প্রাসাদটির (Hirajheel Palace) অবশিষ্টাংশ রক্ষা করা এখন যথেষ্ট জটিল কাজ। তবে কয়েক দশক আগে কিছু অংশ আগাছা পরিষ্কার করে দৃশ্যমান করা হয়েছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অর্থ, কাঠামো ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Nabanna Abhijaan:’নবান্ন অভিযানে’ পুলিশকে মারধর! গ্রেফতার জগদ্দলের বাসিন্দা
ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবিতে সরব ইতিহাসপ্রেমীরা (Hirajheel Palace)
মামলা খারিজ হলেও হীরাঝিলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নবাব সিরাজদ্দৌলার স্মৃতিচিহ্ন রক্ষার পক্ষে এখনও সরব ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকেরা। তাঁদের দাবি, সরকারের উচিত এই ধরনের স্থানগুলিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা, কারণ তা বাংলার সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অংশ।


