Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা টেলিভিশনের ইতিহাসে এমন কিছু শিশুশিল্পী রয়েছেন, যাঁরা খুব অল্প বয়সেই দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন (Hiya Dey)। সেই তালিকার অন্যতম নাম হিয়া দে। তবে তাঁর আসল নামের থেকেও দর্শকদের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ‘পটলকুমার’ নামে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পটলকুমার গানওয়ালা’-তে অসাধারণ অভিনয় ও প্রাণবন্ত উপস্থিতির মাধ্যমে হিয়া একসময় ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। যদিও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে নতুন কোনও ধারাবাহিকে দেখা যায়নি, তবুও সামাজিক মাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও অটুট। কিন্তু সম্প্রতি হিয়ার একটি পোস্ট দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁর অসংখ্য অনুরাগী। কারণ, হাসপাতালের শয্যা থেকেই নিজের কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।

হাসপাতালের বিছানা থেকেই সাহসী বার্তা (Hiya Dey)
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন হিয়া। ছবিতে দেখা যায়, চিকিৎসার প্রস্তুতি চলছে, তবে মুখে বিন্দুমাত্র ভয় বা উদ্বেগের ছাপ নেই। বরং নিজের স্বভাবসিদ্ধ হাস্যরস বজায় রেখে ক্যাপশনে লিখেছেন, “এর আগে এমন কুল রোগী দেখেছেন যার হাত ভেঙে গিয়েছে?” এই একটি বাক্যেই যেন স্পষ্ট হয়ে যায়, শারীরিক কষ্টের মধ্যেও নিজের ইতিবাচক মানসিকতা হারাননি তিনি। তাঁর এই সাহসী মনোভাব অনুরাগীদের মুগ্ধ করেছে।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা? (Hiya Dey)
জানা গিয়েছে, বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী হিয়া দে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও সমান উৎসাহী। বিশেষ করে কবাডি খেলায় তাঁর প্রবল আগ্রহ রয়েছে। সম্প্রতি আন্ডার-১৯ কবাডি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য স্কুলে নিয়মিত অনুশীলন করছিলেন তিনি। সেই সময় খেলতে গিয়ে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। পড়ে যাওয়ার সময় শরীরের প্রায় পুরো ওজন গিয়ে পড়ে হাতের কব্জির ওপর। প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুতর বলে মনে হয়নি। কিন্তু পরে ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, হিয়ার হাতের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
যন্ত্রণা সহ্য করে খেলেছিল হিয়া (Hiya Dey)
ঘটনার পরও সহজে হার মানেননি হিয়া। প্রবল যন্ত্রণা নিয়েও কিছু সময় খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা হিয়ার এই অবহেলার জন্য তাঁকে বকুনিও দেন। কারণ, হাড় ভাঙার মতো চোটকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত।

অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি, দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা
মঙ্গলবার হিয়ার অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা। পরিবার এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছাবার্তার বন্যা বইতে শুরু করেছে। সকলেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন। অনেকেই লিখেছেন, ছোটবেলার প্রিয় ‘পটল’-কে আবার আগের মতো সুস্থ ও হাসিখুশি দেখতে চান।
পরিবারের উদ্বেগ স্বাভাবিক (Hiya Dey)
একজন কিশোরীর জন্য অস্ত্রোপচার কখনওই সহজ বিষয় নয়। তাই হিয়ার পরিবারও স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বিগ্ন। তবে চিকিৎসকদের আশ্বাস এবং হিয়ার ইতিবাচক মনোভাব পরিবারের সদস্যদেরও অনেকটা সাহস জুগিয়েছে। হিয়ার হাসিমুখ এবং আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, মানসিক শক্তিই সবচেয়ে বড় ওষুধ।
২০২৩ সালেও হয়েছিল জটিল অস্ত্রোপচার (Hiya Dey)
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও বড় শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল হিয়াকে। ২০২৩ সালে তাঁর ইউটেরাসের পিছনে প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় এই সমস্যা ধরা পড়ার পর চিকিৎসকেরা আর দেরি না করে দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই সময় বড় বিপদ থেকে মুক্তি পান তিনি। সেই কঠিন সময়ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করেছিলেন হিয়া এবং ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেলেও বর্তমানে হিয়া নিজের পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সহজ-সরল উপস্থিতি এবং ইতিবাচক মানসিকতা তরুণ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনার পরও যেভাবে তিনি হাসিমুখে নিজের পরিস্থিতিকে গ্রহণ করেছেন, তা অনেকের কাছেই সাহস ও আত্মবিশ্বাসের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।



