Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ (Humayun Kabir) তৈরি করে আরও একবার চমক দিলেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি ঘোষণা করলেন তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল-‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। দল ঘোষণার মঞ্চে ছিল বিপুল জনসমাগম, উড়ছিল নতুন দলের পতাকা, আর উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরিচিত রাজনৈতিক মুখ, যাঁদের অনেকেই শাসকদলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী বলে পরিচিত।
নতুন দল গঠন (Humayun Kabir)
গত এক বছরে একের পর এক বিতর্কিত ও চর্চিত ঘোষণার (Humayun Kabir) মাধ্যমে খবরের শিরোনামে থেকেছেন হুমায়ুন কবীর। কখনও ধর্মীয় ইস্যু, কখনও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। সোমবার সেই ইঙ্গিতই বাস্তব রূপ নিল নতুন দল গঠনের মাধ্যমে। মঞ্চ থেকেই হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে। শুধু ঘোষণা নয়, সেই সঙ্গে একে একে প্রার্থীদের নামও প্রকাশ করেন তিনি। নিজে তিনি ভরতপুর এবং রেজিনগর-এই দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আলোচনা দুটোই বাড়িয়েছে।

প্রার্থীদের তালিকায় একাধিক পরিচিত নাম (Humayun Kabir)
নতুন দলের ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে একাধিক (Humayun Kabir) পরিচিত নাম। খড়্গপুর গ্রামীণ কেন্দ্রে জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে লড়বেন ইব্রা হাজি। মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে মুস্তারা বিবিকে। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে মনীষা পাণ্ডেকে, যিনি আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী ছিলেন। ভগবানগোলায় প্রার্থী হচ্ছেন আর এক হুমায়ুন কবীর, পেশায় যিনি ব্যবসায়ী। রানিনগর কেন্দ্রের প্রার্থীর নামও হুমায়ুন কবীর-যিনি অতীতে তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচনে লড়েছিলেন, যদিও কংগ্রেসের কাছে পরাজিত হন। দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে ডঃ ওয়েদুল রহমানের নাম।

থেমে থাকেননি হুমায়ুন
এতেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন। তিনি জানান, তাঁর রাজনৈতিক লড়াই শুধু মালদহ বা মুর্শিদাবাদে সীমাবদ্ধ নয়। কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নিশা চট্টোপাধ্যায় এবং ইছাপুর কেন্দ্রে সিরাজুল মন্ডলকে প্রার্থী করা হয়েছে। সিরাজুল মন্ডলের দাবি, তিনি এক সময় ২১ জুলাইয়ের আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন: James Ransone Death: অভিনেতা জেম্স রেনসোনের অকালপ্রয়াণ, হঠাৎ কী এমন হল?
নতুন দল গঠনের মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি আর প্রান্তিক ভূমিকা নিতে চান না। জনতা উন্নয়ন পার্টি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘোষণায় যে নতুন আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।


