Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: শতকের আধুনিক সমাজেও মানুষের সরল বিশ্বাসকে হাতিয়ার করে গড়ে ওঠে একের পর এক ‘গুরু’কেন্দ্রিক সাম্রাজ্য (Hunkar: The Roar)। সেই অন্ধ ভক্তি, ক্ষমতার দাপট এবং তার আড়ালে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই জিও হটস্টারে মুক্তি পেয়েছে ছয় পর্বের সিরিজ ‘হুঙ্কার: দ্য রোর’। পরিচালনায় নিত্য মেহরা, করণ ডি কাপাডিয়া ও হিরাজ মরফটিয়া।
অভিযোগ থেকে আদালতের লড়াই (Hunkar: The Roar)
কাহিনির কেন্দ্রে ১৭ বছরের মিনু রাওয়াত। আধ্যাত্মিক গুরু সুনীল চাকোসি ওরফে বাপজির তৈরি স্কুলের ছাত্রী মিনু তাঁর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনে। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করলেও এসিপি জসলিন সিংয়ের হস্তক্ষেপে মামলা নথিভুক্ত হয়। এরপরই শুরু হয় আসল লড়াই। বাপজির বিশাল ভক্তকুল থেকে প্রশাসনের চাপ—সবকিছুর মধ্যেও গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। আদালতে মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ।
সত্য প্রমাণের কঠিন পরীক্ষা (Hunkar: The Roar)
সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্যাতিতার লড়াইকে সামনে আনা। মেডিক্যাল পরীক্ষায় নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ না থাকলে একজন নির্যাতিতাকে কীভাবে নিজের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে হয়, সেই কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে সিরিজটি। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বারবার নিজের সত্যতা প্রমাণ করতে বাধ্য হওয়া মিনু যেন বৃহত্তর সমাজের অসংখ্য নীরব কণ্ঠের প্রতীক।
প্রশ্ন তোলে, কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না (Hunkar: The Roar)
তবে এখানেই সিরিজের বড় দুর্বলতা। চিত্রনাট্যে একাধিক অসংগতি রয়েছে। পুলিশের মামলা হওয়া সত্ত্বেও মিনুর বাবাকে কেন আলাদা করে আইনজীবী খুঁজতে হল, মাঝপথে কেন বদলে গেল আইনজীবী ও বিচারক, নির্যাতিতার পরিচয় কীভাবে প্রকাশ্যে এল—এমন বহু প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলে না। গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাবপ্লটও অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে।
অভিনয়েই সিরিজের বড় শক্তি (Hunkar: The Roar)
চিত্রনাট্যের দুর্বলতা অনেকটাই সামলে দিয়েছেন অভিনেতারা। মিনুর চরিত্রে অনীত পড্ডা এবং জসলিনের ভূমিকায় ফতিমা সানা শেখ অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য। রাজেশ শর্মা ও চারু শঙ্করের অভিনয়ে মিনুর বাবা-মায়ের অসহায়তা গভীরভাবে ধরা পড়েছে। জিশান আইয়ুব ও রাম কাপুরের কোর্টরুমের সংলাপও সংযত ও বাস্তবসম্মত। সাংবাদিক অমিতাভ সিনহার চরিত্রে অর্জুন মাথুর নজর কাড়েন।
আরও পড়ুন: Durga Puja 2026: মহালয়ায় ইডেনে মোদী, বিদেশের মাটিতেও দুর্গাপুজোর প্রচার
রঘুবীর যাদবের অভিনয় মনে থাকবে
তবে সমস্ত আলো যেন শেষ পর্যন্ত কেড়ে নেন রঘুবীর যাদব। বাপজির চরিত্রে তাঁর শরীরী ভাষা, সংলাপ বলার ধরন এবং ক্ষমতার দম্ভ—সব মিলিয়ে চরিত্রটি ভীতিকর হয়ে উঠেছে। ‘হুঙ্কার’ চিত্রনাট্যের অসংখ্য ফাঁক পেরোতে না পারলেও, এর অভিনয় এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসী বক্তব্য দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে।



