Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দক্ষিণ-পশ্চিম জামাইকায় আছড়ে পড়া (Hurricane Melissa) ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’ তছনছ করে দিয়েছে সমগ্র দ্বীপকে। ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া দফতরের মতে, গত ১৭৪ বছরে এত ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ের মুখোমুখি হয়নি জামাইকা।
মেলিসার প্রভাব (Hurricane Melissa)
‘মেলিসা’ শুধু জামাইকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি-এর প্রভাব পড়েছে হাইতি (Hurricane Melissa) ও কিউবার পূর্বাঞ্চলেও। ভয়ংকর ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে টানা বৃষ্টি প্লাবিত করেছে বহু এলাকা। বিশেষত হাইতির পর্বতঘেরা অঞ্চলে প্রবল ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
৭০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিহীন (Hurricane Melissa)
জামাইকায় ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে উপড়ে গিয়েছে হাজার হাজার গাছ, (Hurricane Melissa) ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি, ছিঁড়ে গিয়েছে সংযোগ লাইন। পুরো দ্বীপের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎবিহীন। অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় দু’লক্ষ মানুষ। যদিও হাসপাতাল ও জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন।
অনেকেই গৃহহীন
ঝড়ে শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী কিংস্টন থেকে শুরু করে উপকূলবর্তী নিউ হোপ পর্যন্ত ভেঙে গিয়েছে বহু বাড়িঘর ও দোকানপাট। মূল সড়কগুলির অধিকাংশই এখন অচল। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আগে থেকে সতর্কবার্তা দিয়ে মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ায় আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবু যারা আশ্রয় নিতে দেরি করেছেন, তাঁদের অনেকেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
জামাইকা এখন এক অচল দ্বীপ
পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে জামাইকা এখন এক অচল দ্বীপে পরিণত হয়েছে। বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি পর্যটক সেখানে আটকে পড়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা একযোগে কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দিতে বিশেষ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Lucky Zodiacs: নভেম্বরেই খুলবে সৌভাগ্যের তালা, জানুন কার ভাগ্যে কী লেখা?
বিপর্যস্তদের সহায়তার আশ্বাস
হ্যারিকেন মেলিসার তাণ্ডবের পর দ্বীপের পুনর্গঠন একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সরকার জরুরি তহবিল থেকে বিপর্যস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদনও জানানো হয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এই ধরনের ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।


