Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট প্রসঙ্গে আইসিসি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যদিও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও জানায়নি তারা (ICC)।
পাকিস্তান ইস্যুতে মুখ খুললো আইসিসি (ICC)
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে চর্চায় পাকিস্তান। বহুদিন থেকেই তারা আইসিসি-কে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের। যদিও সেই পথে না হেঁটে আংশিক বয়কটের পথে হাঁটলো। অর্থাৎ তারা বিশ্বকাপে বাকি ম্যাচ খেললেও ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের কথা জানানো হয়েছে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে। প্রসঙ্গত আইসিসি সূত্রের খবর অনুযায়ী পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি, পাকিস্তান সরকারের করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে তাদের এই সিদ্ধান্ত জানা গিয়েছে। এবার সেই নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলো আইসিসি (ICC)।
বিশ্বকাপ সম্পূর্ণ ভাবে বয়কট করলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো পাকিস্তানকে। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইনি জটিলতাতেও জড়াতে হতো পাকিস্তানকে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের কারণে যে শুধু পাকিস্তানের দুই পয়েন্ট কাটা যাবে তা নয়। এর পরেও আর্থিক জরিমানা এবং শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। পাক ক্রিকেট বোর্ডের একটা বড় অঙ্কের লাভ আসে পিএসএল থেকে। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের এই ক্রিকেট লিগও সমস্যায় পড়তে হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

এক বিবৃতিতে আইসিসি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা সেই বিবৃতিতে জানায় দেশের নীতিগত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ভূমিকাকে তারা সম্মান করে। এর পাশাপাশি আইসিসি জানায়, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থের পরিপন্থী। এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ভারসাম্যই নষ্ট হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন গোটা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ক্রিকেটপ্রেমী যাঁদের মধ্যে পাকিস্তানের সমর্থকেরাও রয়েছেন।

আইসিসি জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশা করে পাকিস্তান সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। আইসিসি-র বক্তব্য, ক্রিকেট বিশ্ব জুড়ে প্রচলিত এবং জনপ্রিয় একটা খেলা। এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে পারস্পরিক সহযোগিতা, সমান অংশগ্রহণ এবং স্থিতিশীলতার উপর। কোনও একটি দেশ যদি বাছাই করে ম্যাচ খেলার নীতি গ্রহণ করে, তা হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মৌলিক কাঠামোই প্রশ্নের মুখে পড়ে। আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যোগ্যতা অর্জন করা প্রতিটি দলের কাছেই প্রত্যাশা থাকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সমান শর্তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার (ICC)।
আরও পড়ুন: Bangladesh: নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে গুরুতর প্রশ্ন বিএনপি-র, উঠল ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগ
আইসিসি-র তরফ থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তারা সবরকম সুবিধা পেয়ে থাকে আইসিসি-র থেকে। সেই কথা মাথায় রেখেই তাদের যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। পাকিস্তান যদি নিজেদের এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তবে এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং সমর্থকদের আগ্রহের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আইসিসি।
শেষ পর্যন্ত আইসিসি আশা প্রকাশ করেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করবে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাফল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ব ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখবে (ICC)।


