Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : টুর্নামেন্ট এক। প্রতিপক্ষ একই(IND vs PAK Asia Cup)। বাইশ গজ অপরিবর্তিত। ফলাফলও বদলালো না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এশিয়া কাপে পরপর দু’বার পাকিস্তানকে হারালো ভারত। শুধু হারানো নয়, এবারও পাকিস্তানের বোলিংকে নিয়ে ছেলেখেলা করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা।
বিশেষ করে ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং শুভমন গিল (Shubman Gill) পাক বোলারদের রীতিমতো দুরমুশ করলেন। রবিবার এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে পাকিস্তানের করা ১৭১ রানের জবাবে ৭ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে দাপুটে জয় তুলে নিলেন সূর্যকুমার যাদবরা। তবে গত ম্যাচে একপেশে ভাবে জিতলেও এদিন ভারতের বিরুদ্ধে কিছুটা লড়াই করল পাকিস্তান।
আর গত রবিবারের মতো এদিনও প্রতিপক্ষ পাক খেলোয়ারদের সঙ্গে করমর্দন করার সৌজন্যতা না দেখিয়ে আরও একবার পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা।
জঘন্য ফিল্ডিং ভারতের (IND vs PAK Asia Cup)
রবিবার দুবাইয়ে টসে জিতে প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল ভারত(IND vs PAK Asia Cup)। কিন্তু জঘন্য ফিল্ডিং সূর্য কুমার যাদবের সমস্ত পরিকল্পনায় ভেস্তে দিল। পাঁচ-পাঁচটা ক্যাচ পড়ল। রান আউটের সুযোগ নষ্ট হল। বল ধরার ক্ষেত্রে একাধিক ভুল করলেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। মন্থর ফিল্ডিংয়ের জন্য এক রানকে দুই এবং দুই রানকে তিনে পরিবর্তন করলেন পাক ব্যাটাররা। আর তারই দৌলতে ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৭১ রান তুলে গ্যালারিতে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকদের মনে ভয় ধরিয়ে দিলেন পাকিস্তানের ব্যাটাররা।
ম্যাচের প্রথম ওভার থেকেই ভুল করতে শুরু করেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। হার্দিক পান্ডিয়ার ম্যাচের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই কোনও রান না করা শাহিবজাদা ফারহানের ক্যাচ থার্ড ম্যানে ফস্কান অভিষেক শর্মা। অষ্টম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে আবারও ফারহানের ক্যাচ লং অনে ফেলে দেন অভিষেক। তখন ৩২ রানে ব্যাট করছিলেন তিনি। অভিষেকের হাতে লেগে বল ছক্কা হয়ে যায়।
অর্ধশতরান পূর্ণ করেন ফারহান(IND vs PAK Asia Cup)
এতগুলো সুযোগ পেয়ে ফারহান নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করেন(IND vs PAK Asia Cup)। তবে হাফ সেঞ্চুরি করে ফারহান ব্যাটকে বন্দুক চালানোর ঢঙ্গে সেলেব্রেশন করে আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, তাঁর দেশ গোলা-গুলি, খুন, নৃশংসতাকেই বেশি প্রাধান্য দেয়। ম্যাচে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ স্কোরার তিনিই। ৪৫ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ৩ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৮ রান করেন তিনি। ১৫তম ওভারে তাঁকে ফেরান শিবম দুবে।
পাওয়ার-প্লে তে পঞ্চম ওভারে বরুন চক্রবর্তী বলে ৪ রানে ব্যাট করা সাইম আয়ুবের সহজ ক্যাচ শর্ট ফাইন লেগে হাতছাড়া করেন কুলদীপ যাদব। জীবন ফিরে পেয়ে তিনিও করেন ২১ রান। ১১ তম ওভারের তৃতীয় বলে তাঁকে ফেরান সেই শিবম দুবেই। ম্যাচের ১৯তম ওভারে জসপ্রীত বুমরার বলে বাউন্ডারিতে ফাহিম আশরফের সহজ ক্যাচ ফেলেন শুভমন গিল(IND vs PAK Asia Cup)। সেই সময় ফাহিমের রান ছিল ৬। ম্যাচের শেষ বলেও তাঁর ক্যাচ পড়ে। থার্ড ম্যান বাউন্ডারিতে সহজে ক্যাচ ফেলেন শিবম দুবে। উল্টে ছক্কা হয়। ফাহিমের ৮ বলে অপরাজিত ২০ রানে পাকিস্তান ১৭১ রানে পৌঁছায়। মাঝে রান আউটের সুযোগ পেয়েছিলেন বরুণ।
আরও পড়ুন : US H-1B Visa : যুক্তরাষ্ট্রে নয়া এইচ-১বি ভিসা নীতি নিয়ে উদ্বেগ! কী পদক্ষেপ নেবে ভারত ?
কিন্তু বল ধরতেই পারেননি তিনি। এই পাঁচটা ক্যাচ ফেলার জন্য অতিরিক্ত ৮৯ রান বেশি করল পাকিস্তান। চলতি এশিয়া কাপে এই নিয়ে সাতটি ক্যাচ ফেলল ভারত। ফলে ম্যাচ জিতলেও ভারতের ফিল্ডিং যথেষ্ট উদ্বেগে রাখল। এদিন দলের ফিল্ডিং দেখে ভারতের ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের কপালে চিন্তার ভাত যে আরও বাড়ল তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
ফকর জামানের আউট নিয়ে বিতর্ক(IND vs PAK Asia Cup)
ভারতের বিরুদ্ধে গত ম্যাচের থেকে এদিনের ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটাররা তুলনায় কিছুটা হলেও ভালো ব্যাটিং করলেন(IND vs PAK Asia Cup)। ভারতের জঘন্য ফিল্ডিংয়ের সৌজন্যে পাওয়ার-প্লের প্রথম ৬ ওভারে এক উইকেটে ৫৫ রান তোলে পাকিস্তান। ম্যাচের তৃতীয় ওভারে হার্দিকের বলে স্যামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফকর জামান (১৫)। যদিও তার এই আউটটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বল মাটিতে লাগার আগেই স্যামসন গ্লাভসবন্দি করেছিলেন কিনা, তা নিয়ে হালকা বিতর্ক রয়েছে। তবুও শাহিবজাদা ফারহান এবং সায়িম আয়ুব পাকিস্তানের রান ১০ ওভারে ৯১-এ পৌঁছে দেন।
সেই সময় গ্যালারিতে উপস্থিত ভারতীয় সমর্থকদের চোখে মুখে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। শেষ ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮০ রান তোলে পাকিস্তান। হুসেন তালাত ১০, মহম্মদ নওয়াজ ২১ রান করেন(IND vs PAK Asia Cup)। ফাহিম আশরফের সঙ্গে অধিনায়ক সলমন আঘা ১৭ করে অপরাজিত থেকে যান। ভারতের হয়ে শিবম দুবে দু’টি, কুলদীপ যাদব এবং হার্দিক পান্ডিয়া একটি করে উইকেট পান। তবে এদিন চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটহীন থেকে গেলেন বুমরা।
আরও পড়ুন : Cyber Attack : ইউরোপের একাধিক বিমানবন্দরে সাইবার হানা, ব্যাহত হল পরিষেবা
প্রথম বলেই শাহিন আফ্রিদিকে ওভার বাউন্ডারি(IND vs PAK Asia Cup)
পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ভারতীয় সমর্থকদের মধ্যে যে উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছিল তা বিধ্বংসী শুরুতে নিমিষে মিটিয়ে দিলেন ভারতের দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং শুভমন গিল(IND vs PAK Asia Cup)। ইনিংসের প্রথম বলেই শাহিন আফ্রিদিকে ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচের ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক শর্মা। গত ম্যাচেও এই আফ্রিদিকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়েই ইনিংসের শুরু করেছিলেন অভিষেক।
গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফর্মে ফিরলেন অপর ওপেনার শুভমনও(IND vs PAK Asia Cup)। গত তিন ম্যাচে ৩৫ রান করা শুভমন এদিন অভিষেকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠলেন। দুই ভারতীয় ওপেনারের তাণ্ডবে পাওয়ার-প্লের প্রথম ৬ ওভারেই ৬৯ রান তুলে জয়ের পথ মসৃণ করে ফেলে ভারত। তার পর ম্যাচ যত এগোল তত পাক বোলারদের দুরবস্থা প্রকট হল। শুভমন মাটি ঘেঁষে আক্রমণাত্মক শট খেললেন, আর অভিষেক অনায়াসে তুলে তুলে মারলেন পাকিস্তানের বোলারদের।
পেসার, স্পিনার কোনও কিছু দিয়েই তাঁকে আটকাতে পারছিল না পাকিস্তান(IND vs PAK Asia Cup)। মাত্র ২৪ বলে নিজের অর্ধশতরান পূর্ণ করে ফেলেন অভিষেক। ৮.৪ ওভারেই ১০০ রান তুলে ফেলে ভারত। আর সেখানেই পাকিস্তানের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। এদিন ভারতীয় ব্যাটারদের উপর কোনও রকম চাপই তৈরি করতে পারলেন না পাক বোলাররা।
ওপেনিং জুটির সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ(IND vs PAK Asia Cup)
পাকিস্তানের প্রথম সাফল্য আসে ১০ম ওভারে। ১০৫ রানের মাথায় বিপদজনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙ্গেন ফাহিম আশরফ। চতুর্থ বলে শুভমন গিলের হ্যামস্ট্রিংয়ে টান লাগাটাই কাল হল। পরের বলেই তাঁকে ক্লিন বোল্ড করে দেন আশরফ। ২৮ বলে ৮ বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রান করে আউট হন তিনি(IND vs PAK Asia Cup)। এশিয়া কাপে তো বটেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এটাই কোনও দলের ওপেনিং জুটির সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ।
গিল ফিরতেই কিছুটা ছন্দ কাটল ভারতের ব্যাটিংয়ের। পরের ওভারেই খাতা খোলার আগেই অধিনায়ক সূর্যকে ফিরিয়ে দেন হ্যারিস রউফ। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে গিয়ে থার্ড ম্যানে আবরার আহমেদের হাতে জমা পড়লেন ভারত অধিনায়ক(IND vs PAK Asia Cup)। ওই শট খেলার কোনও দরকারই ছিল না। গত ওমান ম্যাচে সূর্যর ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসকেই এর জন্য দায়ী করছেন ক্রিকেট সমালোচকরা।
ক্ষণিকের জন্য চাপের মুহূর্তন (IND vs PAK Asia Cup)
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ক্ষণিকের জন্য চাপের মুহূর্ত তৈরি হলেও, পাক বোলারদের মাথায় চড়তে দেননি অভিষেক, সঞ্জু স্যামসন, হার্দিক পান্ডিয়া, তিলক বর্মারা(IND vs PAK Asia Cup)। যদিও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে আবারও নিজের উইকেট খুইয়ে এলেন ম্যাচের সেরা অভিষেক।
১২.২ ওভারে আবরার আহমেদের বলে হাফ হার্টেড শট খেলে লং অনে হ্যারিস রউফের হাতে জমা পড়লেন। তাঁর ৩৯ বলে ম্যাচ জেতানো বিধ্বংসী ৭৪ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল হাফডজন বাউন্ডারি এবং পাঁচ ওভার বাউন্ডারিতে(IND vs PAK Asia Cup)। তিনি যখন ফিরলেন তখন ভারতের রান তিন উইকেটে ১২৩। জয়ের জন্য দরকার ৪৬ বলে ৪৯ রান। অভিষেক যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে তিনি নিজেই ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন। এবং শতরানও করে ফেলতে পারতেন।
তিলক বর্মা জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন(IND vs PAK Asia Cup)
উইকেট পড়লেও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেননি পাক বোলাররা(IND vs PAK Asia Cup)। ১৪৮ রানের মাথায় সঞ্জু স্যামসনকে (১৩) ক্লিন বোল্ড করে দেন রউফ। তখন ভারতের দরকার ২০ বলে ২৪ রান। কিন্তু তিলক বর্মা শেষ বেলায় ১৯ বলে জোড়া বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ভারতের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন। আফ্রিদিকে ৬ মেরে শুরু করেছিলেন অভিষেক।
আর সেই আফ্রিদিকেই বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করলেন তিলক(IND vs PAK Asia Cup)। ৭ বলে ৭ রান করে তিলকের সঙ্গে অপরাজিতা থেকে যান হার্দিক। ১৮.৫ ওভারেই ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় ভারত। পাকিস্তানের হয়ে রউফ দু’টি এবং ফাহিম ও আবরার একটি করে উইকেট পান। আগামী ২৪ তারিখ সুপার ফোরে ভারতের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেওয়া বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জিতলেই ভারতের ফাইনালে ওঠা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।


