Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওয়াশিংটনের পর এ বার সাই সুদর্শন, তিন নম্বর ব্যাটিং নিয়ে বারবার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ভারতীয় দলকে (Ind vs SA)।
আবারও ব্যাটিং বিপর্যয় ভারতের (Ind vs SA)
একটা দলের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটিং অর্ডার হল তিন নম্বর জায়গা। এক সময় সেই জায়গা সামলেছেন বিরাট কোহলি, রাহানে ও পূজারারা। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই এই জায়গাটা একদিকে যেমন রান তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেমনই গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক ধরে রেখে দলকে সঠিক অভিমুখ নির্দেশ। বাকি দুই ফরম্যাট থেকে টেস্ট হলে সেটা যেন আরও বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর সেই তিন নম্বর ব্যাটিং নিয়েই যেন ছেলেখেলা চলছে ভারতীয় দলে। যার ফল দেখা গেল গুয়াহাটি টেস্টেও। যদিও বাকি ব্যাটারদেরও অবস্থাও ভাল না (Ind vs SA)।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলা আর টেস্ট ক্রিকেট খেলা যে আলাদা সেটা হয়ত এবার বুঝতে হবে ভারতীয় দলকে। যার উদাহরণ হতে পারেন মিচেল স্টার্ক। টি-টোয়েন্টি ও জনপ্রিয় আইপিএল থেকে অবসর নিয়েছেন শুধুমাত্র টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন বলবেন আর তাঁর সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক সেটার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচেই।
প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেও খারাপ ব্যাটিংয়ের ধারা অব্যাহত রাখলো ভারত। চাপের মুখে বড় শট খেলতে গিয়ে এবং কাউন্টার অ্যাটাক করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া। প্রসঙ্গত ইডেন টেস্টে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। টেল এন্ডারকে তিনে নামানোর যুক্তি পাওয়া যায়নি। ব্যর্থ হয় ভারতের ব্যাটিং। গুয়াহাটি টেস্টে তিনে নামলেন সাই সুদর্শন। তিনিও ব্যর্থ হন। মাত্র ১৫ রান করে ফিরে যান ড্রেসিং রুমে। বারবার এই ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এবার। রাহানে, পূজারা পরবর্তী যুগে তবে কে সামলাবেন তিন নম্বরের এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সেটাও এবার ভাবার সময় এসেছে নির্বাচকদের বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Ind vs SA)।

গৌতম গম্ভীরের জমানায় শুভমন গিল ওপেন থেকে নেমে তিনে ব্যাটিং করা শুরু করেন। ওপেনে যশস্বী জয়সওয়ালকে জায়গা দেওয়া হয়। গিলকে সরানো হয় চার নম্বরে। বিরাট ও রোহিতের অবসরের পর সাই সুদর্শন তিনে ব্যাট করতে নামেন। কিন্তু মাঝে মাঝে এই বদল চমকে দিয়েছে সকলকে। কারণ সাই সুদর্শনের আগে করুণ নায়ারকে ইংল্যান্ড টেস্টে তিনে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছিল। ফলে অনেকের মতেই এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে এত এক্সপেরিমেন্ট করার ফল ভোগ করতে হচ্ছে দলকে।
দলে কোনও অভিজ্ঞ ব্যাটার না থাকা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। দলের ভার কার্যত এখন তরুণদের উপর। এই নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই যে, প্রতিটি দল প্রতিভাবান ও তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে চায়। কিন্তু এরও একটা সীমা থাকা দরকার। গুয়াহাটি টেস্ট চলাকালীন ধারাভাষ্যে প্রাক্তন অধিনায়ক ও তারকা বোলার অনিল কুম্বলে বলেন, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে ও চেতেশ্বর পূজারার একসঙ্গে টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই চার জনই ৮০-এর বেশি টেস্ট খেলেছেন এবং ছিলেন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান। এখন তাঁরা না থাকায় তরুণদের উপর চাপ বেড়ে গিয়েছে। ফলে তাঁরা মানসম্পন্ন বোলিং আক্রমণের সামনে ভেঙে পড়ছে।

গম্ভীরের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচকদের দল নির্বাচনের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে প্লেয়ারদের খেলার প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও। যেখানে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে ভারত সেখানে বড় শট খেলার প্রয়োজনীয়তা কতটা সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ২৭ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে মিডল অর্ডারে ধস নামে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের। শেষ দিকে কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও কুলদীপ যাদব। একাই ছয় উইকেট নিলেন প্রোটিয়া পেসার মার্কো জ্যানসেন। তার মধ্যে পাঁচটাই এসেছে বাউন্সারে (Ind vs SA)।
আরও পড়ুন: Karun Nair: ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করুণ নায়ারের
তবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েছেন অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (৭)। পাঁচে নেমে দ্বিতীয় বলেই ছক্কা মারেন তিনি। তবে চাপ কাটাতে গিয়ে আরও বিপাকে ফেলেন দলকে। মার্কো জ্যানসেনের বলে স্টেপ আউট করে ছক্কা মারতে যান পন্থ। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ চলে যায় উইকেটকিপার কাইল ভেরেইনের হাতে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে দল, তখন এই শট কেন খেলতে গেলেন পন্থ, সেই প্রশ্ন উঠছে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
তবে ভারতকে ফলো-অন করানোর পথে হাঁটেননি তেম্বা বাভুমারা। ঋষভ পন্থ থেকে ধ্রুব জুরেল, তাড়াহুড়োয় উইকেট ছুড়ে দিয়ে এসেছেন ভারতীয় ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে এই পিচেই ৪৮৯ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু ব্যাটিং বিপর্যয়ের ফলে মাত্র ২০১ রানেই গুটিয়ে গেল ভারতের ইনিংস (Ind vs SA)।


