Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: একটা নিয়মরক্ষার নিরামিষ ম্যাচের অতিনাটকীয় পরিসমাপ্তি! এশিয়া কাপ থেকে আগেই বিদায় ঘটে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার(Ind VS SL Asia Cup)। ভারতও ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে। তাই শুক্রবারের সুপার ফোরে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার। আর সেই গুরুত্বহীন ম্যাচ চলতি এশিয়া কাপের সব থেকে রোমহর্ষক এবং নাটকীয় ম্যাচে পরিণত হল।
প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২০২ রান তোলে ভারত। রান তাড়া করতে নেমে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে শ্রীলঙ্কাও তোলে ২০২ রান। অবধারিতভাবে চলতি এশিয়া কাপে এই প্রথম কোনও ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে অপরাজিত থেকেই আগামী রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেতাবী লড়াইয়ে নামবেন সূর্যকুমার যাদবরা।
আগেই ফাইনাল নিশ্চিত (Ind VS SL Asia Cup)
আগেই ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছিল ভারতের কাছে ভুল শুধরে নেওয়ার এবং নিজেদের শেষ বারের জন্য একবার পরখ করে নেওয়ার(Ind VS SL Asia Cup)। তাই এদিন জশপ্রিত বুমরা এবং শিবম দুবেকে (Shivam Dube) বিশ্রাম দিয়ে হর্ষিত রানা এবং আর্শদীপ সিংকে প্রথম একাদশে নিয়ে আসে ভারত।
ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চরিথ আসালঙ্কা। আর প্রতি ম্যাচের মতো শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও বিধ্বংসী মেজাজেই শুরু করেন ভারতের রাইজিংস্টার অভিষেক শর্মা। তবে ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে শুভমন গিলকে (৪) কট অ্যান্ড বোল্ড করে প্যাভিলিয়নে ফেরান মহিশ থিকশানা। তিন নম্বরে নেমে এদিনও দলকে ভরসা যোগাতে পারলেন না অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (১২)। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন।
অধিনায়কের ফর্মে উদ্বেগ(Ind VS SL Asia Cup)
ফাইনালের আগে অধিনায়কের ফর্ম উদ্বেগে রাখবে ভারতীয় শিবিরকে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই(Ind VS SL Asia Cup)। তৃতীয় উইকেটে তিলক বর্মাকে নিয়ে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাট করেন অভিষেক। এদিনও নিজস্ব ঢঙেই হাফসেঞ্চুরি করলেন তিনি। শেষে ৩১ বলে ৮ বাউন্ডারি ও জোড়া ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৬১ রান করে আউট হন অভিষেক। তাঁকেও ফেরান আসালঙ্কা। অভিষেক যখন আউট হন তখন ভারতের রান ৮.৪ ওভারে ৯২। তবে এদিন রান পেল ভারতের মিডিল অর্ডার।
তিলক ও সঞ্জু স্যামসন চতুর্থ উইকেটে ৬৪ রানের পার্টনারশিপ করলেন। ২৩ বলে একটি বাউন্ডারি ও তিন ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ঝোড়ো ৩৯ রানের ইনিংস খেললেন সঞ্জু(Ind VS SL Asia Cup)। ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে সঞ্জুর রান পাওয়াটা ভারতীয় শিবিরকে বড় স্বস্তি দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ১৬ তম ওভারে শানাকার বলে আসালঙ্কার হাতে ক্যাচ দিয়ে সঞ্জু যখন ফিরলেন তখন ভারতের রান ৪ উইকেটে ১৫৮।
তাঁর জায়গায় নামা হার্দিক পান্ডিয়াকে (২) পরের ওভারেই কট অ্যান্ড বোল্ড করে সাজঘরের রাস্তা দেখান দুষ্মন্ত চামিরা। শেষে তিলক ও অক্ষর প্যাটেল মিলে ভারতের রান ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২০২ তে পৌঁছে দেন। ৩৪ বলে চার বাউন্ডারি এবং এক ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৯ রান করে অপরাজিতা থেকে যান তিলক। ১৫ বলে একটি করে বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি মেরে ২১ রানে অপরাজিতা থেকে মাঠ ছাড়েন অক্ষর।

শ্রীলঙ্কার অপ্রত্য়াশিত জয়(Ind VS SL Asia Cup)
যে দল পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হারে, সেই দল ভারতের শক্তিশালী বোলিং অ্যাটাকের বিরুদ্ধে ২০৩ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেবে, তা অতি বড় শ্রীলঙ্কার সমর্থকও কল্পনা করেননি(Ind VS SL Asia Cup)। কিন্তু টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া এই শ্রীলঙ্কা যে মরণ কামড় দেবে, তা কেউই বুঝতে পারেনি। প্রথম ওভারেই শ্রীলঙ্কান ওপেনার কুশল মেন্ডিসকে খাতা খোলার আগেই ফিরিয়ে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। আর তারপরই নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ।
পাথুম নিশাঙ্কা এবং কুশল পেরেরা ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে রণমূর্তি ধারণ করেন। আর্শদীপ থেকে শুরু করে হর্ষিত রানা, কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তী, অক্ষর প্যাটেল- সমস্ত ভারতীয় বোলারদের ব্যাট হাতে তুলোধোনা করেন দু’জনে। শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের আগ্রাসী মেজাজের সামনে লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে পারলেন না কেউই। হতাশ করলেন আর্শদীপ এবং হর্ষিত রানা-দু’জনেই। এই দুই ব্যাটারের ‘লঙ্কা কাণ্ডে’ রীতিমতো কোন ঠাসা হয়ে পড়ে ভারত। দু’জনেই অভিষেক শর্মার মতো আগ্রাসী রূপ ধারণ করেন। ৯ ওভারেই ১০৩ রান তুলে ফেলে শ্রীলঙ্কা।
১১ ওভারে দরকার ১০০ রান(Ind VS SL Asia Cup)
শেষ ১১ ওভারে তাদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১০০ রান(Ind VS SL Asia Cup)। যেভাবে দু’জনে ব্যাট করছিলেন তাতে গ্যালারিতে উপস্থিত সকলেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল যে, চলতি এশিয়া কাপে প্রথম হার মানতে চলেছে ভারত। দ্বিতীয় উইকেটে দু’জনে ১২৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। একটা সময় মনে হচ্ছিল নিশাঙ্কা এবং কুশল পেরেরাই শ্রীলঙ্কাকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়বেন। কিন্তু ১৩তম ওভারে কুশল পেরেরাকে ফিরিয়ে বড় ব্রেকথ্রু দেন বরুণ।
এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্প আউট হন কুশল। তবে তার আগে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন কুশল। ৩২ বলে ৮ বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৫৮ রান করে কুশল যখন আউট হন তখন শ্রীলঙ্কার রান ১২.২ ওভারে ২ উইকেটে ১৩৪। তাতে কিছুটা ছন্দপতন হয় শ্রীলঙ্কার। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা।
আরও পড়ুন: Iran Russia Nuclear Deal : ইরান-রাশিয়া পারমাণবিক চুক্তি! স্বাক্ষর হল ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল চুক্তি
আসালঙ্কাকে ফেরান কুলদীপ(Ind VS SL Asia Cup)
এরপরই অধিনায়ক আসালঙ্কা (৫) ও কামিন্দু মেন্ডিসের (৩) উইকেট দ্রুত তুলে নেয় ভারত(Ind VS SL Asia Cup)। আসালঙ্কাকে ফেরান কুলদীপ। এবং আর্শদীপের শিকার হয়ে ফেরেন কামিন্দু। কিন্তু অন্য প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন নিশাঙ্কা। একদিকে উইকেট পড়লেও ভারতীয় বোলারদের একই ঢঙে প্রহার করে গেলেন তিনি। নিশাঙ্কা যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন, ততক্ষণ ভারতের হারেরে ভ্রুকুটি বজায় ছিল। কারণ, রকেট গতিতে শ্রীলঙ্কার স্কোরবোর্ডকে সচল রেখেছিলেন তিনি। অর্ধশাতরান পূর্ণ করার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটিও করে ফেলেন তিনি।
শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১২ রান। প্রথম তিন ওভারে বেধরং মার খাওয়া হর্ষিত রানা ২০তম ওভারের প্রথম বলেই নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শর্ট ফাইন লেগে তাঁর দুরন্ত ক্যাচ ধরেন বরুণ চক্রবর্তী। শেষে ৫৮ বলে ৭ বাউন্ডারি ও হাফডজেন ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে আউট হন ম্যাচের সেরা নিশাঙ্কা।
পাঁচ বলে দরকার ১২ রান(Ind VS SL Asia Cup)
পাঁচ বলে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ১২ রান(Ind VS SL Asia Cup)। দ্বিতীয় বলে দুই রান নেন সদ্য ব্যাট করতে নামা জনিথ লিয়ানাগে। তৃতীয় বলে লেগবাইয়ে এক রান নেন। তিন বলে তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ৯ রান। প্রথমবার ভারত জয়ের গন্ধ পায়। কিন্তু চতুর্থ বলে ডিপ মিডঅনে হার্দিকের পরিবর্ত হিসেবে ফিল্ডিং করতে নামা শিবম দুবের মিস ফিল্ডকে কাজে লাগিয়ে দুই রান নেন শানাকা। শেষ দুই বলে দরকার ছিল সাত রান।
পঞ্চম বলে শানাকার মিস হিটে শর্ট থার্ডম্যানের উপর দিয়ে বাউন্ডারি হয়ে যায়। শেষ বলে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ছিল তিন রান। মিডল এবং অফে হর্ষিতের ব্যাক অফ দ্যা লেন্থ ডেলিভারি মিড অনে ঠেলে একরান নেন শানাকা। কিন্তু অক্ষর প্যাটেলের মিস ফিল্ডে দুই রান নিয়ে টাই করেন শানাকা। দুই দলের স্কোর সমান হয়ে যাওয়ায় নাটকীয়ভাবে ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দাসুন শনাকা ২২ এবং জনিথ লিয়ানাগে ২ করে অপরাজিত থেকে যান। তবে শেষের কয়েক ওভার দুরন্ত বল করেন কুলদীপ, বরুন এবং আর্শদীপ। না হলে আগেই ম্যাচ জিতে যেত শ্রীলঙ্কা।
২০ ওভারের প্রথমদিকে হতাশাজনক বোলিং(Ind VS SL Asia Cup)
নির্ধারিত ২০ ওভারের প্রথমদিকে হতাশাজনক বোলিং করলেও সুপার ওভারে দুরন্ত বোলিং করলেন আর্শদীপ(Ind VS SL Asia Cup)। মাত্র ২ রান করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে (০) ফিরিয়ে দেন তিনি। ওয়াইড ইয়র্কার লেন্থে বল ফেলে কুশলকে বোকা বানালেন। ডিপ পয়েন্টে তাঁর ক্যাচ ধরেন তিলক বর্মার পরিবর্ত ফিল্ডার হিসেবে মাঠে নামা রিঙ্ক সিং। দ্বিতীয় বলে সিঙ্গল নেন কুশলের জায়গায় নামা কামিন্দু মেন্ডিস।
তৃতীয় বলটি আবার ওয়াইড ইয়র্কার লেন্থে ফেলে শানাকাকে বিট করেন আর্শদীপ। পরের বলটিও একই জায়গায় ফেলতে গেলে ওয়াইড হয়। এরপর আবার নাটকীয় মুহূর্ত। চতুর্থ বলটি আবারও একই লেন্থে ফেলে শানাকাকে বিট করেন আর্শদীপ। কিন্তু শানাকা রান নেওয়ার জন্য ক্রিজের বাইরে বেরিয়ে এলে কিপার সঞ্জু স্যামসন উইকেট ভেঙে স্টাম্প আউট করেন শানাকাকে। কিন্তু ক্যাচ আউটের আপিল করেন আর্শদীপ। আম্পায়ার আউট দিয়ে দেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন শানাকা। আম্পায়ার স্টাম্প আউটের আবেদন খারিজ করে দেন।
ক্যাচের আবেদনও খারিজ (Ind VS SL Asia Cup)
অপরদিকে, ক্যাচের আবেদনও খারিজ করে দেন থার্ড আম্পায়ার(Ind VS SL Asia Cup)। কিন্তু ভারত স্টাম্প আউটের আবেদন করেন। কিন্তু আম্পায়ার আগেই ক্যাচ আউট দেওয়ায় স্টাম্প আউট দিতে অস্বীকার করেন। সেই নিয়ে সূর্যকুমার যাদব, শুভমন গিল, বরুণ চক্রবর্তীরা আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বললেও আম্পায়ার তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তবে পঞ্চম বলেই শানাকাকে (১) ফিরিয়ে দেন আর্শদীপ। তাঁর ওয়াইড ইয়র্কার লেন্থের বলে মারতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পরিবর্ত ফিল্ডার জিতেশ শর্মার হাতে জমা পরেন।
মাত্র তিন রানের টার্গেট নিয়ে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই হাসারাঙ্গাকে ডিপ এক্সট্রা কভারে ঠেলে তিন রান নিয়ে নাটকীয় জয় এনে দেন অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব(Ind VS SL Asia Cup)। কোনও বল না খেলেই নট আউট থেকে যান শুভমন গিল। আর দুরন্ত শতরান করেও ট্রাজিক হিরো হয়েই থেকে গেলেন নিশাঙ্কা। নিশ্চিত হারা ম্যাচ সুপার ওভারে নাটকীয়ভাবে জিতে অপরাজেয় থেকেই ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামবে ভারত।
বোলিং কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখল ভারতকে(Ind VS SL Asia Cup)
রবিবার এই দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার আগে ভারতের ফিল্ডিং এবং বোলিং কিছুটা হলেও চিন্তায় রাখল কোচ গৌতম গম্ভীরকে(Ind VS SL Asia Cup)। এদিন প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়া শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভারতের কোনও বোলারই সুবিধা করতে পারলেন না। মার খেলেন সকলেই। এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার হারানোর কিছু ছিল না। কিন্তু তাদের নিজেদের প্রমাণ করার একটা তাগিদ ছিল। আর তাতেই অসহায় দেখালো বুমরাহীন ভারতীয় বোলিংকে। তবে রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে দলে ফিরবেন বুমরা। তবুও খেতাবী লড়াইয়ের আগে দলের বোলিং নিয়ে ভাবতেই হবে গুরু গম্ভীরকে।


