Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাঁচ বছর আগেই সরকারের E 20 টার্গেট (India Use Ethanol) পূরণ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে উপযুক্ত পরিকাঠামো ছাড়া ইথানল মেশানো পেট্রোল চালু করা কি উচিত? ব্রাজিলের থেকেও কি শিক্ষা নেয়নি ভারত সরকার?
ইথানলের কাজ (India Use Ethanol)
ইথানল হাইড্রোক্সিল গ্রুপের হওয়ার জন্য জলের (India Use Ethanol) সঙ্গে সহজেই মিশে যায়। এবং সহজ দাহ্য। তাই একে বায়ো ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করতে সুবিধা হয়। পেট্রোলের সঙ্গে মিশে পেট্রোলকেও সহজ দাহ্য করে তোলে।
২০০৩ সালে ভারত পেট্রোলে প্রথম ইথানল মেশানো শুরু হয়। তখন পাঁচ শতাংশ ইথানল মেশানো হতো (E5)। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশ এক লিটার পেট্রোলে ১ থেকে ১.৫ শতাংশ ইথানল মেশানো হতো। তারপর ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই মোদি সরকার ইথানল মেশানোর টার্গেট ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত করে। ২০১৮ সাল থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মোদি সরকার সেই লক্ষ্য মাত্রা ২০% (E20) পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সরকার এত দ্রুত কাজ করে যে টার্গেটের পাঁচ বছর আগেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে যায়। ২০২৫ সালে টার্গেট পূর্ণ হওয়ার পর মোদি সরকার ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে গোটা দেশে পেট্রোল ২০ % শতাংশ ইথানল মেশানো কার্যকর করে।
ব্রাজিলের ভুল থেকে নেয়নি শিক্ষা! (India Use Ethanol)
মোদি সরকার বর্তমানে দেশের ৪৮টি পেট্রোল (India Use Ethanol) পাম্প থেকে E-85 পেট্রোল দেওয়াও শুরু করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৫০০ পেট্রোল পাম্পে E-85 পেট্রোল দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার।
ইথানল নিয়ে দেশের মানুষ অসন্তুষ্ট হত না, যদি ভারত ব্রাজিলের ভুল থেকে শিক্ষা নিতো। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিল তাদের প্রয়োজনের ৮০ শতাংশ তেল বাইরে থেকে কিনত। তখন তারা ইথাইল ব্যবহারে জোর দেয়। যাতে আখ থেকে বায়ো ফুয়েল তৈরি হয়। ১৯৭৯ সালে ১০০% ইথাইল চালিত গাড়ি ফিয়েট-১৪৭ বাজারে আনে তারা। ১৯৮০ সালে যখন তেলের দাম কমে এবং চিনির দাম বাড়ে, তখন মিলগুলো ইথানল উৎপাদনের থেকে চিনি উৎপাদনে বেশি জোর দেয়। এটা লাভজনক হবে বলেও মনে করে তারা। তার ফলে ইথানল গাড়িতে জ্বালানির অভাব দেখা দেয়। তখন ভারতের মত এত তাড়াহুড়ো করেনি ব্রাজিল। ভারতে ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলো E-20 পেট্রোল ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়।
আরও পড়ুন: Jaish Terrorist Arrested: মুখ্যমন্ত্রীকে হামলার ছক, নজর এড়িয়ে বঙ্গে জঙ্গি! নিরাপত্তায় গাফিলতি?
তাই ব্রাজিল ২০২৩ সালে, ব্রাজিল “ফ্লেক্স ফুয়েল ভেহিকেল” বাজারে নিয়ে আসে। যা পেট্রোল এবং E-20, দু’টোতেই চলতে পারে। আগে তারা পরিকাঠামো তৈরি করে। অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো তৈরি করে, পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের দু’টো বিকল্প তেলই দেয়। তারপর তারা আস্তে আস্তে মিশ্রিত তেলের ব্যবহার বাড়ায়। বর্তমানে ব্রাজিলের ৯০% গাড়ি “ফ্লেক্স ফুয়েল” সুবিধা যুক্ত। যা করতে ব্রাজিলের প্রায় ৫০-৬০ বছর লেগেছে, সেটা ভারত মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই করতে চাইছে। আর প্রশ্নটা এখানেই। এই ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহার করে ফায়দাটা সকলের জন্য, নাকি শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য?


