Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রথম ম্যাচে রেকর্ড রান তাড়া করে জয় (India vs New Zealand)। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখল ভারত। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একটা সময় চরম চাপে পড়ে গিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ৭১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে যখন পরাজয়ের আশঙ্কা বাড়ছিল, তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিলক বর্মা, নীতীশ কুমার রেড্ডি ও নমন ধীর। তাঁদের ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে এক বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয় ভারত। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ‘মেন ইন ব্লু’। তবে জিতলেও ভারতের ব্যাটিংয়ের প্রথম সারির ব্যর্থতা চিন্তা বাড়াচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টের।
শুরুতেই চাপে নিউজিল্যান্ড (India vs New Zealand)
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারেননি ঈশান কিষান। তাঁর পরিবর্তে দলে সুযোগ পান বৈভব সূর্যবংশী। অন্যদিকে, ময়ঙ্ক যাদবের জায়গায় খেলেন প্রিন্স যাদব। শ্রেয়াস জানান, দ্বিতীয় পরিবর্তনটি রোটেশনের অংশ।
বল হাতে শুরুটা দুর্দান্ত করে ভারত। নিজের প্রথম ওভারেই টিম সেইফার্টকে ফিরিয়ে দেন অর্শদীপ সিং। এরপর ভুবনেশ্বর কুমারের বলে তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডারিল মিচেল। নিজের প্রথম ওভারেই ফিন অ্যালেনকে বোল্ড করেন প্রিন্স যাদব। পাওয়ার প্লে-র ছয় ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৪৩ রান। প্রথম ম্যাচের মতো শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারেনি কিউয়িরা।
ফিলিপ্সের ঝোড়ো ইনিংস (India vs New Zealand)
প্রথম দশ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল মাত্র ৬৬। কিন্তু এরপরই ম্যাচের ছবি বদলে দেন গ্লেন ফিলিপ্স। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন জেকবস। দু’জনে মিলে ভারতীয় বোলারদের উপর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। ৩৬ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিলিপ্স। ১৬ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের স্কোর পৌঁছে যায় ৩ উইকেটে ১৩৩ রানে।
শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ৭০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অর্শদীপের বলে আউট হন ফিলিপ্স। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক দর্শনীয় শট। অন্যদিকে, জেকবসও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন। ফিলিপ্স ও জেকবসের জুটিতে মাত্র ৭৭ বলে ওঠে ১১৬ রান। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং দু’টি উইকেট নেন ৩৩ রান দিয়ে। ভুবনেশ্বর কুমার একটি উইকেট পেলেও ৫০ রান খরচ করেন। প্রিন্স যাদব ও নীতীশ কুমার রেড্ডিও একটি করে উইকেট নেন।
অর্শদীপের মুকুটে নতুন পালক (India vs New Zealand)
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে নজর কাড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডও গড়লেন অর্শদীপ সিং। এক ক্যালেন্ডার বছরে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার নজির এখন তাঁর দখলে। ২০২২ সালে ৩২টি ম্যাচ খেলে ৩৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। এতদিন সেটাই ছিল ভারতীয় বোলারদের সেরা নজির। এদিন টিম সেইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপ্সকে ফিরিয়ে চলতি বছরে অর্শদীপের উইকেটসংখ্যা দাঁড়াল ৩৮। ভুবনেশ্বরের তুলনায় তিনটি ম্যাচ কম খেলেই এই কীর্তি গড়েছেন বাঁহাতি পেসার।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফের চাপে ভারত (India vs New Zealand)
১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ভারত। ওপেনিংয়ে অভিষেক শর্মার সঙ্গে নামেন সঞ্জু স্যামসন। চার ওভার শেষে ভারতের স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৩৭ রান। মনে হচ্ছিল, সহজেই জয় তুলে নেবে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সঞ্জু ১৪ রান করে ফিরে যেতেই ছন্দপতন ঘটে।
বৈভব সূর্যবংশীও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। ১০৮ দিন পর গৌতম গম্ভীরের অধীনে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়ে মাত্র চার রান করে ফেরেন তিনি। এরপর ২১ বলে ২৭ রান করে আউট হন অভিষেক শর্মা। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। একই ওভারে শ্রেয়স আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেলকে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতকে কার্যত কোণঠাসা করে দেন তিনি। মাত্র ১১ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৭১ রান।
নমন ধীরের ঝোড়ো ব্যাটিং (India vs New Zealand)
চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন নমন ধীর। মাত্র ১৭ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও তিনটি ছয়। নমনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ভারতীয় শিবিরে জয়ের আশা ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু তাঁর আউটের পর ফের বাড়ে রান তোলার চাপ।
সেখান থেকে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিলক বর্মা ও নীতীশ কুমার রেড্ডি। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে আগ্রাসী মেজাজে খেলেন নীতীশ। অন্যদিকে, ইনিংসের শেষ দিকে ম্যাচের রাশ নিজের হাতে তুলে নেন তিলক। দুই ব্যাটারের কার্যকর জুটিতে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে এগোতে থাকে ভারত।
তিলক-নীতীশের ব্যাটে জয় (India vs New Zealand)
শেষ দিকে তিলক বর্মার ব্যাটে শুরু হয় চার-ছয়ের ঝড়। মাত্র ২৬ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ছ’টি চার ও একটি ছয়। অন্যদিকে, মাত্র ১৩ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত থাকেন নীতীশ কুমার রেড্ডি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একটি চার ও একটি ছয়। শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মিচেল স্যান্টনার। ২১ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। নাথান স্মিথ ও জ্যাকব ডাফি একটি করে উইকেট পেলেও রান আটকাতে পারেননি। এই জয়ের ফলে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
আরও পড়ুন: IFA Election: ঠিক হয়ে গেল আইএফএ নির্বাচনের দিন, বদলে যাচ্ছে ভোটদানের নিয়মও!
উদ্বেগ কাটছে না টিম ইন্ডিয়ার (India vs New Zealand)
পরপর দু’টি ম্যাচ জিতে সিরিজে চালকের আসনে ভারত। তবে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে (India vs New Zealand)। প্রথম ম্যাচে ব্যাটারদের দাপটে জয় এলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বোলিংয়ের উন্নতি দেখা গেল, কিন্তু ব্যাটিংয়ের প্রথম সারি ফের ব্যর্থ হল। মাত্র ৭১ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর তিলক, নীতীশ ও নমনের ব্যাটিং ভারতকে রক্ষা করেছে ঠিকই, কিন্তু এমন পরিস্থিতি বারবার তৈরি হলে সমস্যায় পড়তে পারে দল। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর। সেই ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতার দিকেই নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।



