Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২২ গজের বোলারদের নিয়ে কি করে ছেলে খেলা করতে হয় বুধবার গুয়াহাটিতে তা আরও একবার দেখিয়ে দিল ভারতের নবীন-প্রবীণ জুটি (India-West Indies)। একজন প্রাক্তন অধিনায়ক, অপরজন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে সাড়ে ছয় ওভার তথা ৩৯ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ভারত। সঙ্গে সিরিজও।
সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড (India-West Indies)
বইল রেকর্ডের বন্যা। এক ম্যাচে হল পাঁচটি সেঞ্চুরি। তার মধ্যে আবার একটি ডবল সেঞ্চুরি। আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে একটি ম্যাচে এটাই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২৮ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান ম্যাচে হয়েছিল চারটি সেঞ্চুরি।
দুই ওপেনারের সেঞ্চুরি (India-West Indies)
ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল ১৩৩ বলে ২৬ বাউন্ডারি ও ৮ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ২২৩ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। কেরিয়ারের ১১তম শতরান করে ফেললেন গিল। অজিত আগরকারের জমানায় দল থেকে বাদ পড়তে বসা প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মাও বুধবার ‘হিট’। তিনিও করে ফেললেন কেরিয়ারের ৩৫তম শতরান। ৭৫ বলে ১০ বাউন্ডারি ও হাফ ডজন ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দেন। এদিন আবারও দেখা গেল ‘ভিন্টেজ’ রোহিতকে। এদিন শতরানের সঙ্গে সঙ্গে ওয়ানডে কেরিয়ারের ১২ হাজার রান পূর্ণ করে ফেললেন রোহিত। তৃতীয় ভারতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই নজির গড়লেন ‘হিটম্যান’। ক্যারিবিয়ান বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলে খেলা করলেন রোহিত-গিল। মাত্র ২৬.২ ওভারে ২৫৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে কঠিন টার্গেট ছোঁয়ার রাস্তা সহজ করে দেন দু’জনে। একদিনের ক্রিকেটে ওপেনিং জুটিতে এটাই ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক পার্টনারশিপ। শেষে বিরাট কোহলি ১৯ বলে তিন বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ২৯ রান করে আউট হন। গিলের সঙ্গে জুটি বেঁধে ৩৭ বলে জোড়া বাউন্ডারির সাহায্যে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল ভারত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪০৫ রানের পাহাড় (India-West Indies)
গুয়াহাটির এই উইকেট ছিল বোলারদের কাছে বদ্ধভূমি। টসে জিতে শুভমন গিল যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল তখন ব্যাপারটা আঁচ করা যায়নি। কিন্তু শুরু থেকেই জন ক্যাম্পবেল, সাই হোপ, আমির জাঙ্গুর দাপুটে ব্যাটিংয়ে অসহায় অবস্থা হয়েছিল ভারতীয় বোলারদেরও। তিন ক্যারিবিয়ান ব্যাটারই করলেন সেঞ্চুরির। আর তাতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ রানের পাহাড় খাড়া করে। কিন্তু ভারতীয় ব্যাটারদের দাপটে তা ধোপে টেকেনি।

ক্যাম্পবেল-হোপের পার্টনারশিপ (India-West Indies)
ম্যাচের পঞ্চম ওভারি ক্যারিবিয়ান ওপেনার কেসি কার্টিকে (৯) ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন ভারতীয় পেসার প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। কিন্তু তাতে লাভ কিছু হয়নি। অপর ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও অধিনায়ক সাই হোপ দ্বিতীয় উইকেটে ১১০ রানের পার্টনারশিপ করে দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করিয়ে দেন। দু’জনেই করলেন সেঞ্চুরি। ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ৫ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০১ রান করেন। এই জুটি যখন ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিল তখন ১৯তম ওভারে ক্যাম্পবেলকে ফিরিয়ে দেন ব্রার। তাতেও লাভ কিছু হয়নি। তৃতীয় উইকেটে আমির জাঙ্গুকে নিয়ে ১৪৭ রানের পার্টনারশিপ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় রানের টার্গেটে পৌঁছে দেন। ৪০ ওভারে কুলদীপ যাদবের বলে আকিব নবীর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে নিজের শতরান পূর্ণ করে ফেলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। ৯৪ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ৩ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেন হোপ।
জাঙ্গুর ঝোড়ো ইনিংস (India-West Indies)
ভারতীয় বোলারদের কাছে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন জাঙ্গু (India-West Indies)। মাত্র ৭৭ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও তিন ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১১৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। শেষে তাঁকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান রবীন্দ্র জাদেজা। শেষে রোস্টন চেজের অপরাজিত ২৯ এবং শামর জোসেফের ১৪ রানে ভর করে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান তলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কুলদীপ, জাদেজা, ব্রার দু’টি করে এবং প্রসিদ্ধ একটি উইকেট পেলেও ক্যারিবিয়ান ব্যাটারদের কাছে অসহায় ছিলেন তাঁরাও। তবে রোহিত ও ম্যাচের সেরা গিল আরও করুন অবস্থা করল ক্যারিবিয়ান বোলারদের। তবে, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে রোহিত-গিলের ফর্ম আশা জোগাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।



