Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে একই দিনে ধরা পড়ল ভারতীয় মহিলা ফুটবলের দু’টি ভিন্ন ছবি—একদিকে সিনিয়র দলের শোচনীয় পরাজয়ের হতাশা, অন্যদিকে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের আলো (Indian Women’s Football)। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরপর দুটি ফিফা ফ্রেন্ডলিতে চরম ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছে ভারত সিনিয়র দলকে। প্রথম ম্যাচে ০-৪ গোলে হারের পর, রবিবার দ্বিতীয় ম্যাচে ০-৮ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত হন সঙ্গীতা বাসফোররা। তবে সিনিয়রদের এই হতাশার দিনেই উজ্জ্বল ইতিহাস গড়েছে অনূর্ধ্ব-১৭ দল।
এশিয়ান কাপের মূলপর্বে অনূর্ধ্ব-১৭ দল (Indian Women’s Football)
সিনিয়রদের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও অনূর্ধ্ব-১৭ প্রমীলা ব্রিগেড ছিল অনবদ্য ফর্মে। পুরো প্রতিযোগিতায় তারা ৩ ম্যাচে মোট ২০টি গোল করলেও নিজেরা একটিও গোল হজম করেনি। প্রথম ম্যাচে সিরিয়াকে ২-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককে ১৪-০ ব্যবধানে হারানোর পর শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৪-০ গোলে হারায় তারা। এই জয়ের ফলে প্রথবাবের মতো ভারতীয় মহিলা ফুটবলে (বয়সভিত্তিক বা সিনিয়র) পরপর দু’টি এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জনের অনন্য নজির তৈরি হলো। কোচ জোয়াকিমের প্রশিক্ষণে গত মরশুমের পর এবারও মূলপর্বে খেলার টিকিট নিশ্চিত করল ভারত।
বৃষ্টিভেজা মাঠে ভারতের দাপট (Indian Women’s Football)
রবিবারের শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই গ্রুপের শীর্ষে থাকা নিশ্চিত ছিল, তবে ভারতীয় মেয়েরা জয়কেই পাখির চোখ করেছিলেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে মাঠে জল জমে পাসের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ভারত। নীরা চানুর হেড ক্রসবারে লাগা এবং একের পর এক আক্রমণের পর ২৯ মিনিটে মেলেন প্রথম সাফল্য। সিল্কি দেবীর পাস থেকে জোরালো শটে ভারতকে এগিয়ে দেন রিদিমা দেবী। প্রথমার্ধে ৯টি কর্নার আদায় করে ভারত সম্পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখে।
আরও পড়ুন: ISSF World Cup: এশিয়াডের ব্যর্থতা কাটিয়ে বিশ্বকাপে উদয়বীরের সোনা জয়, স্বস্তি শুটিংয়ে
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের উৎসব (Indian Women’s Football)
দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের আক্রমণের ধার কমেনি। পরিবর্ত খেলোয়াড় প্রীতিকা বর্মন আলভা ও অনুষ্কার সহায়তায় ডান পায়ের নিচু শটে ভারতের দ্বিতীয় গোলটি করেন (Indian Women’s Football)। এরপর অনুষ্কা কুমারী নিজেই কর্নার থেকে দূরপাল্লার শটে দলের তিন নম্বর গোলটি করেন, যা কোয়ালিফায়ারে তাঁর অষ্টম গোল। ম্যাচের শেষদিকে নিধি চতুর্থ গোলটি করে মালয়েশিয়ার হার নিশ্চিত করেন। মাঝমাঠ ও আক্রমণের পাশাপাশি ভারতের রক্ষণভাগও ছিল প্রশংসনীয়; গোলরক্ষক মুন্নি এবং সেন্টার-ব্যাক জুলান নোংমাইথেম ও অভিষ্টা বাসনেট গোটা টুর্নামেন্টে দলকে অপরাজিত রাখতে দারুণ ভূমিকা পালন করেন।



