Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমাদের জলের ভাগে হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।” ভারতের সিন্দু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই মন্তব্য করেছেন তিনি (Indus Waters Treaty)।
এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফও দাবি করেন, পানির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে ভারতকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ পর্যন্ত হতে পারে। বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারিও বলেন, পাকিস্তান তার জলের অধিকার রক্ষায় লড়াই করবে।
কী এই সিন্ধু জলচুক্তি? (Indus Waters Treaty)
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ব্যবহারের অধিকার ভারতের, আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। তবে পশ্চিমের নদীগুলিতে সীমিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের অধিকার ভারতের রয়েছে।
কেন চুক্তি স্থগিত করল ভারত?
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত জানায়, পাকিস্তান সীমান্তপারের সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না।”
পাকিস্তানের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
পাকিস্তানের মোট সেচনির্ভর কৃষির প্রায় ৮০ শতাংশই ইন্দাস নদীর জলের উপর নির্ভরশীল। দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি কৃষিজমিতে এই নদী ব্যবস্থার জল ব্যবহার হয়। এছাড়া পাকিস্তানের জলবিদ্যুতের প্রায় ২০ শতাংশও ইন্দাস অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দুর্বল হলে কৃষি উৎপাদন কমতে পারে, খাদ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ছোট কৃষকেরা(Indus Waters Treaty)।
আরও পড়ুন: DJ Case: ডিজে বিতর্ক মামলা: কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহকে চ্যালেঞ্জ মামলাতেও ধাক্কা অভিষেকের
এদিকে চুক্তি স্থগিতের পর ভারত চেনাব-সহ ইন্দাস নদী ব্যবস্থায় ১৭টি নতুন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে(Indus Waters Treaty)। ফলে ভবিষ্যতে এই জলবণ্টন ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে আরও বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।



