Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : ভারতের সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করল আইএনএস আন্দ্রোথ (INS Androth)।আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধজাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীতে (indian navy) অন্তর্ভুক্ত হল(INS Androth)। বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল রাজেশ পেনঢারকর (PVSM, AVSM, VSM)। তিনিই ছিলেন এই অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি।
আইএনএস আন্দ্রোথ হল গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) কর্তৃক নির্মিত আটটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট (ASW SWC)-এর দ্বিতীয় জাহাজ। কলকাতার এই সরকারি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি জাহাজটি ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেয় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে।
‘আত্মনির্ভর ভারতের’ প্রতীক (INS Androth)
এই যুদ্ধজাহাজের ৮৮ শতাংশ উপাদানই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি(INS Androth)। এতে যুক্ত রয়েছে GRSE নির্মিত ৩০ মিমি নেভাল সারফেস গান (NSG), যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এক অনন্য সংযোজন। জাহাজটির নামকরণ হয়েছে লক্ষদ্বীপের আন্দ্রোথ দ্বীপের নামে।
আইএনএস আন্দ্রোথের কমিশনিং অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিএমডি কমডোর পি আর হরী (অবসরপ্রাপ্ত), নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ আধিকারিক, বিভিন্ন শ্রেণিবিন্যাস সংস্থার প্রতিনিধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা।
সমুদ্র প্রতিরক্ষায় নতুন গতি(INS Androth)
ভাইস অ্যাডমিরাল পেনঢারকর অনুষ্ঠানে বলেন, “এই জাহাজগুলো আমাদের উপকূল রক্ষা ও পানির নীচের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে(INS Androth)। আইএনএস আন্দ্রোথ প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় দক্ষতা, প্রযুক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি একত্র হলে দেশীয় প্রতিরক্ষা কতটা শক্তিশালী হতে পারে।”
এই ASW SWC জাহাজগুলোর মূল উদ্দেশ্য উপকূলবর্তী এলাকায় উচ্চগতির সাব-সারফেস নজরদারি এবং সাবমেরিন-বিরোধী অভিযান চালানো। এগুলোতে রয়েছে হালকা টর্পেডো, অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট এবং আধুনিক কমব্যাট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

আরও পড়ুন : Counter Drone Warfare Drill : ভারতের সর্ববৃহৎ ড্রোন যুদ্ধ মহড়া! মধ্যপ্রদেশে শুরু ‘এক্সারসাইজ কোল্ড স্টার্ট’
উচ্চ প্রযুক্তি ও গতিশীল নকশা(INS Androth)
আইএনএস আন্দ্রোথের দৈর্ঘ্য ৭৮ মিটার, ড্রাফট মাত্র ২.৭ মিটার(INS Androth)। তিনটি মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এই জাহাজ ওয়াটার জেট প্রপালশন ব্যবস্থায় চলে — ফলে এটি সীমিত গভীরতার জলেও সহজে চলাচল করতে পারে। এটি উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত সাবমেরিন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে কার্যকর।
জাহাজটিতে ৫৭ জনের ক্রু রয়েছে, যার মধ্যে সাতজন অফিসার।

আরও পড়ুন : Young Climber Subham : বাংলার যুব পর্বতারোহী শুভম জয় করলেন বিশ্বের অষ্টম উচ্চতম শৃঙ্গ মানাসলু
ভবিষ্যতের দিগন্তে GRSE
বর্তমানে GRSE ৩০টি জাহাজ নির্মাণ করছে, যার মধ্যে ১৩টি রপ্তানির জন্য(INS Androth)। প্রতিষ্ঠানটি এ বছরই পাঁচটি ‘নিউ জেনারেশন করভেট’ তৈরির নতুন প্রকল্প হাতে পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের এক বড় সাফল্য হিসেবে আইএনএস আন্দ্রোথের কমিশনিং ভারতের আত্মনির্ভর সামুদ্রিক শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।


