Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইসলামপুর যৌনপল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে নাবালিকাদের বেআইনিভাবে যৌনকর্মে বাধ্য করার অভিযোগ ঘিরে বড়সড় অভিযান চালাল ইসলামপুর পুলিশ জেলা (Islampur)। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত এই অভিযানে ব্যবহার করা হয় ড্রোন। পুলিশের দাবি, বহুদিন ধরেই ওই এলাকায় নাবালিকাদের দিয়ে দেহব্যবসা করানোর অভিযোগ তাদের কাছে আসছিল। সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করতে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে অভিযান চালানো হয়।

ড্রোন নজরদারিতে পুলিশের কড়া অভিযান (Islampur)
শুক্রবার পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হয় ড্রোন। উপর থেকে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করে সন্দেহজনক গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়। ড্রোনের মাধ্যমে যৌনপল্লীর বিভিন্ন অংশে চলাফেরা এবং সম্ভাব্য পালানোর পথগুলিও নজরদারির আওতায় আনা হয়। এরপর একযোগে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশের মতে, প্রযুক্তির ব্যবহার অভিযানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ফলে অভিযুক্তদের পালানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যায় এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
১৭ নাবালিকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ অভিযুক্ত (Islampur)
অভিযানের সময় মোট ১৭ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপল্লীতে এনে বেআইনিভাবে যৌনকর্মে নিযুক্ত করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ধৃতদের ইসলামপুর আদালতে তোলা হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
পুলিশ সুপার রাকেশ সিং কী জানালেন (Islampur)
ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাকেশ সিং জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি চক্র সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য আসছিল। সেই সূত্র ধরেই গোটা অভিযান পরিকল্পনা করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে এটি একটি সংগঠিত চক্রের কাজ হতে পারে। পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচার ও যৌনচক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন তথ্য মিললে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বিহার ও অসমের বাসিন্দা উদ্ধার হওয়া নাবালিকারা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের অধিকাংশই বিহার এবং অসমের বাসিন্দা। কীভাবে তাঁদের ইসলামপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল, কোনও পাচারচক্র এর সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না এবং পরিবারের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ কীভাবে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারি হোমে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁদের পরিচয় যাচাই, কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মানবপাচার চক্রের সন্ধানে তদন্ত (Islampur)
এই ঘটনার তদন্তে মানবপাচার চক্রের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। বিভিন্ন রাজ্য থেকে নাবালিকাদের এনে দেহব্যবসায় নামানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতদের মোবাইল ফোন, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অন্যান্য রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হবে বলে সূত্রের খবর।

ভবিষ্যতেও চলবে এ ধরনের অভিযান (Islampur)
পুলিশ সুপার রাকেশ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অভিযান কোনও একদিনের পদক্ষেপ নয়। ভবিষ্যতেও ইসলামপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের বিশেষ অভিযান চালানো হবে। যেখানে নাবালিকা পাচার, বেআইনি দেহব্যবসা কিংবা মানবপাচারের অভিযোগ থাকবে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে যেন অবিলম্বে পুলিশকে জানানো হয়। মানুষের সহযোগিতায় মানবপাচার ও নাবালিকাদের শোষণের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: Abhisek Banerjee: কণ্ঠস্বরের নমুনা মামলায় অস্বস্তিতে অভিষেক, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ
সমাজের জন্য সতর্কবার্তা
ইসলামপুরে পুলিশের এই অভিযান শুধু একটি অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়, বরং নাবালিকা পাচার ও যৌন শোষণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানেরও স্পষ্ট বার্তা। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, পরিকল্পিত অভিযান এবং আন্তঃরাজ্য তদন্তের মাধ্যমে এমন অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চললে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



