Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : গাজায় নতুন করে হামলা চালাল ইজরায়েলি বাহিনী। শনিবার ভোরে হওয়া এই হামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ছয় জনের (Israel Strikes in Gaza)। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন— হামাস শান্তির পথে এগোচ্ছে, তাই গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে।
গাজার স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ইজরায়েলি বাহিনীর একটি হামলা গাজা শহরের একটি বাড়িতে আঘাত হানে, সেখানে চার জন নিহত হন। অন্য একটি হামলা হয় দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায়, যেখানে মৃত্যু হয় আরও দুই জনের।
ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা (Israel Strikes in Gaza)
এই হামলার কিছুক্ষণ আগেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) দফতর থেকে জানানো হয়, “ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে(Israel Strikes in Gaza)।” ওই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রয়েছে হামাসের জবাবের পর ইজরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়টি। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেনাবাহিনীকে গাজায় আক্রমণাত্মক অভিযানের মাত্রা কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।
শনিবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসা করে বলেন,
“গাজার শান্তি উদ্যোগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বকে আমরা স্বাগত জানাই। জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাবনা এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”
“এটাই স্থায়ী শান্তির সময়”— ট্রাম্প(Israel Strikes in Gaza)
শুক্রবার নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছিলেন,
“ইজরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যাতে আমরা জিম্মিদের নিরাপদে ও দ্রুত বের করে আনতে পারি!”
তিনি আরও(Israel Strikes in Gaza) বলেন,
“এটা শুধু গাজার বিষয় নয়, বহু দিনের প্রত্যাশিত মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তির সূচনা।”
এর জবাবে নেতানিয়াহুর দফতর জানায়,
“ইজরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর দলের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে যুদ্ধের ইতি টানা যায় এবং ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।”

আরও পড়ুন : H125M Airbus : ভারতীয় ভূমিতে তৈরি হবে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ হেলিকপ্টার, কারখানা স্থাপন করল এয়ারবাস ও টাটা
জিম্মিদের মুক্তি ঘিরে চাপে নেতানিয়াহু সরকার
ইজরায়েলের নতুন হামলার আগে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর(Israel Strikes in Gaza) দফতরে আবেদন জানান,
“অবিলম্বে আলোচনার নির্দেশ দিন, যেন সকল জিম্মিকে দেশে ফেরানো যায়।”
নেতানিয়াহু এখন দ্বৈত চাপে — একদিকে জিম্মি পরিবার ও যুদ্ধক্লান্ত সাধারণ মানুষ যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে তাঁর জোটের কট্টরপন্থী অংশ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করছে।

গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-নেতৃত্বাধীন জঙ্গিরা ইজরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১,২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। ইজরায়েলের হিসাবে এখনও ৪৮ জন জিম্মি রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত(Israel Strikes in Gaza)।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এতদিনে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন ৬৬,০০০ জনেরও বেশি মানুষ, যাঁদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক।
নিরবচ্ছিন্ন বিমান ও স্থল আক্রমণে গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে সেখানে দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা, মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সমাপ্তি মন্তব্য(Israel Strikes in Gaza)
ট্রাম্পের নতুন শান্তি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও আশার আলো জ্বললেও, বাস্তব পরিস্থিতি রয়ে গেছে অন্ধকারেই(Israel Strikes in Gaza)।
ইজরায়েলের আক্রমণ থামার বদলে আরও তীব্র হয়েছে, হামাসের ভবিষ্যৎ অবস্থান অনিশ্চিত, আর গাজার সাধারণ মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ছে।
একদিকে শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে আগুনের গোলা — গাজার আকাশ এখনও জানে না, কোন সকালেই বা আসবে সেই বহু প্রতীক্ষিত শান্তির ভোর।


