Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলাদেশে চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বৈঠক দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে(Jamaat e Islami)। সূত্রের মতে, এই বৈঠকটিকে আসলে দেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে বেজিংয়ের একটি হিসাবি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
জামায়াতকে শক্তিশালী দল হিসেবেই দেখে চিন (Jamaat e Islami)
চিন জামায়াতে ইসলামিকে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে কার্যকর শক্তিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করে। দলটির নির্বাচনী ফল যাই হোক না কেন, চিন মনে করে জামায়াতের বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক, শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মীদল এবং সমাবেশের ক্ষমতা রাজনৈতিক অস্থিতার সময়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বেজিংয়ের দৃষ্টিতে, এই ক্ষমতা নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন-পরবর্তী অনিশ্চয়তা ও চিনের কৌশল (Jamaat e Islami)
সরকারি সূত্র বলছে, নির্বাচনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তাই চিনের এই যোগাযোগের মূল কারণ। জোটের হিসাব বদলাতে পারে এবং ফলাফল অনিশ্চিত হওয়ায়, বেজিং সব প্রভাবশালী শক্তির সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছে, যাতে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগকে চিন একটি বিকল্প চ্যানেল হিসেবেও দেখছে যারা চাইলে পরিস্থিতি অস্থির করতে পারে, আবার প্রয়োজনে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে।
চিনা বিনিয়োগ সুরক্ষার চেষ্টা (Jamaat e Islami)
নির্বাচনের সময় ও পরবর্তী স্থিতিশীলতা চিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় বাংলাদেশে বন্দর, বিদ্যুৎ প্রকল্প ও যোগাযোগ পরিকাঠামোয় চিনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতায় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াত নেতৃত্বের কাছ থেকে পরোক্ষে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার আশ্বাস পাওয়ার চেষ্টা করছে বেজিং।
আরও পড়ুন: DRDO: ডিআরডিও-র বড় সাফল্য: তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিসাইল ফ্লাইট টেস্টে সফল ভারতীয় সংস্থা
আঞ্চলিক ভারসাম্য ও বাস্তববাদী কূটনীতি (Jamaat e Islami)
ভারতের প্রতি জামায়াতের ঐতিহ্যগত সন্দেহপ্রবণ অবস্থানকে চিন আঞ্চলিক ভারসাম্যের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখে। এই যোগাযোগের মাধ্যমে চিন জানিয়ে দিচ্ছে যে তারা একাধিক শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত। তবে এটিকে রাজনৈতিক সমর্থন নয়, বরং ঝুঁকি কমানোর জন্য বাস্তববাদী কূটনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



