Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জনগণের ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও জাপানের পার্লামেন্ট রাজকীয় উত্তরাধিকার আইনে এক বিতর্কিত সংশোধন এনেছে, যেখানে নারীদের সম্রাট হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে(Japan Monarchy)। এর ফলে জনপ্রিয় প্রিন্সেস আইকো বা অন্য কোনো নারী সদস্যের সিংহাসনে বসার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল।
সংকটের কেন্দ্রে ১৯ বছরের যুবরাজ (Japan Monarchy)
বর্তমানে ক্রিস্যান্থেমাম সিংহাসনের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে ৬৬ বছর বয়সী সম্রাট নারুহিতোর ১৯ বছর বয়সী ভাইপো প্রিন্স হিশাহিতোর ওপর। জীববিজ্ঞানপ্রেমী এই তরুণ বর্তমানে অবিবাহিত। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, হিশাহিতোর কোনো পুত্রসন্তান না থাকলে এই রাজবংশের রক্তধারা এখানেই শেষ হয়ে যাবে।
নতুন আইনের বিতর্কিত দিক (Japan Monarchy)
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল দল (LDP)-র চাপে এই বিলটি পাস হয়। নতুন আইনে বলা হয়েছে:
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাজকীয় মর্যাদা হারানো ১১টি পরিবারের ১৫ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের পুনরায় রাজপরিবারে দত্তক নেওয়া যাবে।
তাদের ভবিষ্যৎ পুত্রসন্তানরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবেন।
তবে এই পরিবারগুলোর সাথে বর্তমান সম্রাটের রক্তের সম্পর্ক ১৫ শতকের, যা প্রায় ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি দূরত্বের।
এখন থেকে রাজকীয় নারীরা সাধারণ জনগণকে বিয়ে করলেও তাদের রাজকীয় মর্যাদা হারাবেন না, তবে তাদের সন্তানরা সম্রাট হতে পারবেন না।
জনমত ও ক্ষোভ (Japan Monarchy)
জনগণ এই আইনকে সহজে মেনে নিচ্ছে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ নারী সম্রাটের পক্ষে, যেখানে দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নেওয়ার পক্ষে মাত্র ২৩ শতাংশ।
আরও পড়ুন: US Student Visa: মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসায় বড় বদল ট্রাম্প প্রশাসনের: বিপাকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা!
সমালোচকরা বলছেন, রক্ষণশীল ভোট ব্যাংক ধরে রাখতেই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে এই ‘পুরুষ-তান্ত্রিক’ আইন বজায় রাখা হয়েছে। এমনকি রাজপরিবারের সাবেক শাখাগুলোর প্রবীণ সদস্যরাও তরুণদের এই কঠোর রাজকীয় জীবনে ফিরে আসার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত জাপানের ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা ও সমর্থনকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।



