Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল : জাপানের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছেন সানায়ে তাকাইচি। শাসক দল লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাঁকেই দলের নতুন নেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে(Japan Prime MInister)। এর ফলে ৬৪ বছর বয়সি তাকাইচি হতে চলেছেন জাপানের (Japan) প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তবে তাঁর এই উত্থানকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের চেয়ে উদ্বেগই বেশি— বিশেষ করে দেশের নারী সমাজের মধ্যে।
‘এশিয়ার থ্যাচার’ হিসেবে পরিচিত তাকাইচি (Japan Prime MInister)
ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের একনিষ্ঠ ভক্ত সানায়ে তাকাইচি বরাবরই কঠোর সিদ্ধান্ত ও রক্ষণশীল মনোভাবের জন্য পরিচিত(Japan Prime MInister)। রাজনৈতিক মহলে তাঁকে প্রায়ই বলা হয় ‘জাপানের আয়রন লেডি’। তিনি এলডিপির কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তাকাইচি একসময় মেটাল ব্যান্ডের ড্রামার ছিলেন, আবার বাইকপ্রেমী হিসেবেও খ্যাত। এই বিচিত্র ব্যাকগ্রাউন্ডই তাঁর ব্যক্তিত্বে এনে দিয়েছে দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
ইশিবার পতনের পর নেতৃত্বে তাকাইচি
গত মাসেই প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শিগেরু ইশিবা(Japan Prime MInister)। গত এক বছরে এলডিপির ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। জুলাইয়ে জাপান পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর ইশিবার সরকারের উপর চাপ বাড়ে। বিরোধীদের পাশাপাশি দলীয় নেতারাও তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। অবশেষে দল তাকাইচিকে নতুন নেত্রী হিসেবে বেছে নেয়। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানো ও অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো।

আরও পড়ুন : Rajnath Singh Warns Pak : দেশের মর্যাদা রক্ষায় সীমান্ত পেরোতে পিছপা নয় ভারত, কড়া বার্তা রাজনাথের
অর্থনীতি ও মূল্যবৃদ্ধি রোধই মূল চ্যালেঞ্জ(Japan Prime MInister)
দীর্ঘদিন ধরে জাপানের অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়েছে(Japan Prime MInister)। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উৎপাদন পুনরুদ্ধার— এই তিনটি লক্ষ্যেই তাকাইচির নেতৃত্বে নতুন সরকারকে এখন দৃষ্টি দিতে হবে। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের দেখানো ‘রক্ষণশীল উন্নয়নপথ’ অনুসরণ করবেন।
নারীদের চোখে ‘পুরুষতান্ত্রিক’ প্রধানমন্ত্রী
তবে নারী সমাজের বড় অংশ তাকাইচির উত্থানে উৎসাহী নয়(Japan Prime MInister)। কারণ, অতীতে তিনি মহিলাদের স্বার্থে আনা নানা বিল ও সংস্কারের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, “মহিলাদের সবার আগে ভাল স্ত্রী ও মা হওয়াই শ্রেষ্ঠ কর্তব্য।” তিনি সমকামী বিবাহের বিরোধী এবং বিবাহের পর আলাদা পদবি ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সরব। তাকাইচির দাবি, স্বামী-স্ত্রীর আলাদা পদবি জাপানের সংস্কৃতির পরিপন্থী।
আরও পড়ুন : Calcutta High Court : কার্নিভালের দিন ডোরিনা ক্রসিংয়ে মিছিল, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের
দলের ভেতরেও নারীদের স্থান সীমিত
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানাচ্ছে, এলডিপিতে নারী নেতৃত্বের সংখ্যা এখনও নগণ্য(Japan Prime MInister)। দলের ভেতর নারীদের উচ্চপদে বসানো হয় তুলনামূলক কম। তাকাইচিও দীর্ঘদিন ধরে দলের পুরুষ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকেছেন বলে অভিযোগ। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তাঁর নেতৃত্বে নারী অধিকার সংক্রান্ত আইন ও নীতি আরও বাধার মুখে পড়তে পারে।
তবু আশার আলো কিছু ক্ষেত্রে(Japan Prime MInister)
যদিও তাকাইচি সম্পূর্ণভাবে নারীদের বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি। তিনি নিজের মেনোপজ সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন এবং পুরুষদের নারীর স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ফলে কিছু মহল আশা করছে, প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে তিনি হয়তো নিজের ভাবমূর্তি বদলানোর সুযোগ পাবেন।
রক্ষণশীল পথেই এগোবেন তাকাইচি(Japan Prime MInister)
সানায়ে তাকাইচি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, তিনি কঠোর অভিবাসন নীতি ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর পক্ষে। তাঁর কথায়, “জাপানের উন্নয়নের জন্য আত্মরক্ষার ক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি(Japan Prime MInister)।” তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের দেখানো ‘রক্ষণশীল নীতিকেই’ ভবিষ্যতের পথ হিসেবে দেখছেন।
সানায়ে তাকাইচির উত্থান জাপানের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু তাঁর রক্ষণশীল ভাবনা এবং নারীবিষয়ক বিতর্কিত অবস্থান তাঁকে কতটা জনপ্রিয় করে তুলবে, তা সময়ই বলবে। প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির সামনে এখন দ্বিগুণ দায়িত্ব— দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা এবং নারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।


