Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হিন্দু ধর্মে মা কালী পূজিতা আদ্যাশক্তি রূপে তিনি শক্তির মূর্ত প্রতীক (kali Puja Chapter 3), যিনি সৃষ্টি, সংরক্ষণ ও সংহার এই তিন মহাশক্তির আধার। দেবীর হাতে খড়গ, তিনি ত্রিনয়নশোভিতা, দিগম্বরা, আরাধ্য মা। তিনি একাধারে ভয়ঙ্কর ও মঙ্গলময়ী, অন্ধকারে আলোর জ্যোতি, মাতৃশক্তির রূপে সমগ্র বিশ্বকে বোধ দান করেন।

দেবীর আবাস (kali Puja Chapter 3)
তান্ত্রিক শাস্ত্রে বলা হয়েছে, “শ্মশানে বাস করো দেবী, যেখানে মৃত্যু জীবনের সীমানা মুছে দেয়।” আদ্যাশক্তি মহামায়া কালিকা প্রথম আবির্ভূতা হন শ্মশানে যেখানে নশ্বরতার মধ্যে অমরত্বের বীজ রোপিত হয়। আর শ্মশান মানেই শৃগালের বাসস্থান। সেই কারণেই দেবী চণ্ডিকা রূপে আবির্ভূত হয়ে শৃগাল-পরিবৃতা হন শৃগালেরা যেন মৃত্যুর প্রান্তে জীবনের সহচর হয়ে ওঠে।

দেবীর বাহন ও প্রতীক (kali Puja Chapter 3)
দেবীর হাতে যে খড়গ, তা কেবল সংহার নয়, বোধের প্রতীক। সেই খড়্গে আঁকা চোখ অজ্ঞানতার অন্ধকার নাশ করে, মানুষকে জ্ঞানালোকের পথে নিয়ে যায়। তাই বুদ্ধিমানতম প্রাণী শৃগালই মায়ের বাহন হিসেবে প্রতীকী গুরুত্ব পায়। শৃগাল এখানে কেবল প্রাণী নয়, বোধ ও প্রজ্ঞার প্রতিরূপ।
দেবীর প্রত্নলিপি ও পুরাণে উল্লেখ (kali Puja Chapter 3)
বহু প্রাচীন প্রত্নলিপি ও তাম্রলিপিতে আমরা পাই ‘কোকমুখা’ বা ‘কোকামুখা’ দেবীর উল্লেখ। ‘কোক’ শব্দের অর্থ নেকড়ে বাঘ বা শিয়াল। অর্থাৎ, দেবী স্বয়ং কখনও শৃগালরূপে বা নেকড়েমুখা রূপে আবির্ভূতা হন। শ্মশানের ধ্বনি, কোলাহল, আর অগ্নিজ্যোতির মধ্যে এই কোকমুখা দেবীই হলেন শ্মশানকালী বা মহাকালিকা রূপের প্রাচীনতম প্রকাশ। হরিবংশ ও বিষ্ণুপুরাণে এমন এক দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যিনি বসুদেবকে গোকুলে যাত্রার সময় যমুনার মধ্য দিয়ে পথ দেখিয়েছিলেন শৃগালরূপ ধারণ করে। এই দেবীই চণ্ডিকা, যিনি দুঃসময়ে দিশা দেন মৃত্যু ও জীবনের মধ্যবর্তী পথের রক্ষক।
কোকমুখা বিষ্ণু ও উগ্রমাধবের সম্পর্ক (kali Puja Chapter 3)
পুরাণে এমনও বলা হয়েছে যে বিষ্ণুর এক রূপ কোকমুখ বিষ্ণু, যার উগ্রতা ও ভয়ঙ্কর মহিমা পরবর্তীকালে নরসিংহ বা উগ্রমাধব মূর্তির মধ্যে সন্নিবিষ্ট হয়। এইভাবে কোকমুখা দেবতার ধারণা এক সময়ে তন্ত্র ও বৈষ্ণব ধারার সংযোগস্থল সৃষ্টি করে। যদিও কোকমুখা মূর্তির প্রচলন বিলুপ্ত, তবুও বাংলার গ্রামীণ অঞ্চলে ‘শিয়ালী কালী’ নামে দেবীর পূজা কিছুদিন আগেও প্রচলিত ছিল।
আরও পড়ুন: Historical Story of Kali Puja: কেন মা কালীর রূপ এত ভয়ংকর জানা আছে?
রাঢ়দেশের অট্টহাস ও শিয়াল-ভোগের প্রথা
রাঢ়বঙ্গের প্রাচীন কেন্দ্র কাটোয়ার অট্টহাস গ্রাম আজও বহন করছে সেই পুরাণ-প্রথার ছায়া। এখানে পূজিতা হন ফুল্লরা দেবী, যাঁর পুজো শুরু হয় শিবাভোগ দিয়ে। ‘শিবাভোগ’ মানে, মায়ের পূজার আগে শিয়ালদেরকে মাতৃজ্ঞানে প্রসাদ খাওয়ানো হয়। শিয়ালদের এখানে দেবীর দূত বা পরিবারের অংশ হিসেবে দেখা হয়। তাঁরা ভোজন শেষ করলে তবে শুরু হয় মূল দেবী-পূজা। এই আচার আজও রাঢ়দেশের লোকধর্মে জীবন্ত যেখানে প্রকৃতি, মৃত্যু, এবং মাতৃশক্তি একই সূত্রে বাঁধা।



