Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কিছু মানুষ চলে গেলেও তাঁদের অস্তিত্ব থেকে যায় অনুরাগীদের হৃদয়ের গভীরে (Kishore Kumar)। তাঁদের গান, সুর আর স্মৃতি হয়ে ওঠে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কিশোর কুমার তেমনই এক নাম। তাঁর কণ্ঠ আজও কোটি কোটি মানুষের মনকে আবেগে ভাসায়। আর সেই কিশোর কুমারকে নিজের জীবনের গুরুদেব, ঈশ্বর এবং অন্নদাতা বলে মনে করেন গৌতম ঘোষ। শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না তিনি।
‘বাবা-মায়ের পরেই কিশোর কুমারের স্থান’ (Kishore Kumar)
কিশোর কুমারের প্রয়াণ দিবসে নিজের অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে গৌতম ঘোষ জানান, সকাল থেকেই তাঁর মন অত্যন্ত খারাপ। আগের রাত থেকেই তাঁকে গ্রাস করেছে বিষণ্ণতা। তাঁর কথায়, নিজের বাবা-মাকে হারানোর যে যন্ত্রণা, তাঁর কাছে কিশোর কুমারের প্রয়াণও সেই একই কষ্টের অনুভূতি বহন করে। বাবা-মায়ের পরেই তাঁর জীবনে কিশোর কুমারের স্থান। তাই এই বিশেষ দিনটি তাঁর কাছে শুধুই স্মরণ নয়, গভীর শোকেরও দিন। তিনি জানান, এদিন সারাদিন বাড়িতেই থেকেছেন। শুধু একবার বেরিয়ে প্রিয় শিল্পীর মূর্তিতে মাল্যদান করেছেন। এরপর আর কোথাও যাননি। এমনকি এই দিনে কোনও অনুষ্ঠানও করেন না তিনি।
গুরুদেবের ছবির সামনে নীরব কথোপকথন (Kishore Kumar)
গৌতম বাবুর কাছে কিশোর কুমার শুধুমাত্র একজন সংগীতশিল্পী নন। তিনি তাঁর জীবনের প্রেরণা, বিশ্বাস এবং বেঁচে থাকার অন্যতম অবলম্বন। প্রয়াণ দিবসে গুরুদেবের ছবির দিকে তাকিয়ে বসে তাঁর সঙ্গে গল্প করেন, মনের কথা বলেন। তাঁর বিশ্বাস, এইভাবেই প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রেখেছেন তিনি।
গৌতম বাবুর কথায়, “সে আমার ঈশ্বর, সে আমার সবকিছু, সে আমার অন্নদাতা।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, কিশোর কুমারের প্রতি তাঁর ভালোবাসা নিছক অনুরাগের গণ্ডি পেরিয়ে এক গভীর ব্যক্তিগত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে।
৫৮ বছরেই বিদায়, আজও অনুভূত হয় অভাব (Kishore Kumar)
কিশোর কুমারের অকালপ্রয়াণের প্রসঙ্গ উঠতেই আক্ষেপ ঝরে পড়ে গৌতম বাবুর কণ্ঠে। মাত্র ৫৮ বছর বয়সে শিল্পীর চলে যাওয়াকে তিনি মেনে নিতে পারেন না। তাঁর মতে, কিশোর কুমার বেঁচে থাকলে আরও কত ভালো গান উপহার দিতে পারতেন মানুষকে! শুধু তিনি নন, সারা পৃথিবীর অসংখ্য সংগীতপ্রেমী আজও সেই অভাব অনুভব করেন।
আরও পড়ুন: CJP Protest: ভারতের CJP আন্দোলনে বাংলাদেশের মদত? সারজিসের সমর্থন, বিস্ফোরক দাবি দিলীপের
টালিগঞ্জে মূর্তি স্থাপন, বাড়িতে যত্নে রাখা পাদুকা
কিশোর কুমারের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে গৌতম বাবু নিজের উদ্যোগে এবং নিজের অর্থে টালিগঞ্জে তাঁর মূর্তি স্থাপন করেছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, ভারতবর্ষে প্রথম তিনিই এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, কিশোর কুমারের বাড়ি থেকে তাঁর পাদুকা নিয়ে এসে নিজের বাড়িতে রেখেছেন এবং প্রতিদিন পুজো করেন।



