Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘শুধু আসা যাওয়া আর স্রোতে ভাসা’, নাইটদের একেকজন এলেন আর উইকেট এবং ম্যাচ দুইই হেরে লজ্জার নজির গড়লেন (KKR vs CSK)। ৩২ রানে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে লজ্জার হার কলকাতার।
সমর্থকদের আর কতবার হতাশ হতে হবে? (KKR vs CSK)
ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচের কথা এখন মোটামুটি সবার জানা। আগে একসময় যেখানে সমানে সমানে লড়াই হত আজ সেটা এক তরফা। ভারত অবলীলায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে যায়। ভারতের সমর্থক আনন্দিত হলেও হতাশ হতে হয় পাকিস্তানের সমর্থকদের। কেকেআর-এর ম্যাচও এই মরশুমে তাই। হাসতে-হাসতে বিপক্ষ ম্যাচ জিতে যায় (KKR vs CSK)।
আজকের ম্যাচেও সেই একই ছবি! ম্যাচ, উইকেট যেন মাঠেই ছেড়ে দিয়ে এলেন কলকাতার গাল ভরা নামের ক্রিকেটাররা। একদিকে যেমন ব্যাটিং বোলিং চূড়ান্ত ব্যর্থ তেমনই রাহানের অধিনায়কত্ব। কোচের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। গ্রিন যেখানে চূড়ান্ত ব্যর্থ সেখানে রচীন রবীন্দ্র বসে আছেন বাইরে। এই নিউ জিল্যান্ড তারকা যিনি চেন্নাইয়ের পিচ এবং মাঠ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত সেখানে তাঁকে বসিয়ে রাখার যুক্তি কী? এই বিষয়ে অভিষেক নায়ার, রাহানে কী জবাব দেবেন? বারবার সমর্থকদের জন্য এমন নিরাশাজনক ফলাফল নিয়ে ভাবিত নাইট টিম ম্যানেজমেন্ট?
এইবারের আইপিএল-এ তরুণদের দাপট যেভাবে দেখা যাচ্ছে তাতে বোধহয় বলাই যায় যে আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চ মাতিয়ে দিচ্ছেন জেন জি-রা। রাজস্থানের বৈভবের ‘বৈভব’-এ মুগ্ধ যখন ক্রিকেট বিশ্ব তখন নিজের দাপুটে ব্যাটিংয়ের ঝলক দেখিয়ে দিলেন চেন্নাইয়ের আয়ুষ। কলকাতার বিরুদ্ধে তিনি রীতিমত ছেলেখেলা করলেন অজি তারকা অলরাউন্ডার গ্রিনকে নিয়ে। সদ্য অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন আয়ুষ মাত্র আর আজও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখে গেলেন (KKR vs CSK)।
১৪ এপ্রিল কলকাতা বনাম চেন্নাইয়ের ম্যাচে টস জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন কেকেআর অধিনায়ক রাহানে। দিন নাইট শিবিরে ফিরেছেন বরুণ চক্রবর্তী। বাকি দলে আর কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। পাথিরানার যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা এই ম্যাচে হয়নি।

ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চেন্নাই ধাক্কা খায়। অনুকূল রায়ের বলে মাত্র ঋতুরাজ। এরপর মাঠে আসেন আয়ুষ আর এসেই ঝড়ের গতিতে রান করতে থাকেন তিনি। ম্যাচের চতুর্থ ওভারে বিধ্বংসী ক্যামেরন গ্রিনকে মারলেন ২০ রান। শুধু তাঁর বড় শট নয় বরং শট নির্বাচন, যদি ব্যালান্স এগুলো রীতিমত মুগ্ধ করেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
আয়ুষ ম্যাচের আগে বলেন, ‘আমি এতদিন মাহি ভাই, ঋতু ভাইদের খেলা দেখতাম। গত বছর টিভিতে দেখার পর এ বার ওঁদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করতে পারছি। আমার স্বপ্ন সত্যি হলো। আমি অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার আগে মাহি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, অনেক সাহায্য পেয়েছি।’ বৈভবকে ছয় মারতে গিয়ে মাত্রে ফেরেন ৩৮ রানে (KKR vs CSK)।

আরও পড়ুন: Fatou Birthday: ৬৯ বছরে পড়ল বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক চিড়িয়াখানার গরিলা
এই ম্যাচে শুরুটা ভাল করেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু বড় রান করতে পারলেন না তিনি। ৪৮ রানে এই বিধ্বংসী ব্যাটারকে ফিরিয়ে দলকে স্বস্তি দেয়ার কাজটা করে দেন কার্তিক ত্যাগী। ১৪৮.১ গতিবেগের বলে পরাস্ত হতে হল সঞ্জুকে। এরপর ব্রেভিস ৪১ রান এবং সরফরাজ খান করেন ২৩ রান। ২০ ওভারের শেষে চেন্নাইয়ের রান ১৯২ রান।
নিজের ভুল থেকে শিখলেন না রাহানে। বৈভবকে দিয়ে আরও এক ওভার করান। ফলে বরুণ ও অনুকূলের এক ওভার করে থেকে গেল। যার জবাব রাহানের কাছে আছে কিনা জানা নেই।

১৯৩ রানের লক্ষ্য নিয়ে নেমে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে কেকেআর। এই। ম্যাচেও ব্যর্থ ফিন অ্যালেন। নারিন ওপেন করতে নামলেও কোনও লাভ হয়নি। ক্রমাগত উইকেট হারাতে থাকে কলকাতা। প্রথম বলেই শূন্য রানে ফিরে নিজেকে সবথেকে ‘দামি’ প্রমাণ করলেন গ্রিন আর ডাগ-আউটে বসে দলের এই হার দেখলেন রবীন্দ্র।
জিততে ভুলে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। টি-২০ ক্রিকেটে কেকেআর-এর খেলা দেখার চেয়ে বিরক্তিকর আর কিছু নেই এই মুহূর্তে। কোনও ম্যাচে ব্যাটারেরা রান করছেন, তো বোলারেরা দেদার রান বিলোচ্ছেন। আবার কোনও ম্যাচে বোলিং ভাল হচ্ছে, তো ব্যাটিং ভেঙে পড়ছে। একই ছবির যেন রিপিট টেলিকাস্ট চলছে মরশুম জুড়ে।
তিন নম্বরে নেমে রীতিমত টেস্ট খেলেন অধিনায়ক রাহানে। আবার তাঁকে স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রশ্ন করলে রেগে যান। প্রশ্ন উঠছে দলে রিঙ্কুর ভূমিকা নিয়ে সঙ্গে রমনদীপের ভূমিকা নিয়েও। দুজনেই কি শুধু ফিল্ডিং করার জন্য দলে রয়েছেন? এতকিছুর পর যা হওয়ার তাই হয়েছে। লজ্জার হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে কেকেআর। বরং চেন্নাইয়ের সমর্থকরা ধন্যবাদ জানাবে কলকাতাকে কারণ ২০২৪ সালের পর ২০২৬-এ পরপর দুই ম্যাচ জিতল চেন্নাই।


