Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভিষেক শর্মাদের বিরুদ্ধে লজ্জাজনক হার নাইটদের (KKR vs SRH)।
দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ে ফিরলেন ঈশান কিষাণরা (KKR vs SRH)
ইডেন গার্ডেন্সের এ বারের আইপিএল-এর প্রথম ম্যাচ আর সেই ম্যাচকে ঘিরে উন্মাদনা তো থাকবেই। ক্রিকেটার নন্দন-কানন তাঁর পছন্দের দলকে সমর্থনে কোনও কার্পণ্য করে না সেটা আবারও প্রমাণ হলো কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ম্যাচে। এই ম্যাচের আগে বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে নাইট বাহিনীকে। চর্চায় ছিলেন গ্রিন থেকে বরুণ চক্রবর্তী। এই ম্যাচ ছিল কার্যত দুই দলের কাছেই জয়ে ফেরার (KKR vs SRH)। কিন্তু কেকেআর-এর জয়ে ফেরা হলো না। বরং দুরন্ত পারফর্ম করে দ্বিতীয় ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিলেন ঈশান কিষাণরা।
ব্যাট করতে নেমে ঝড় তোলেন ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা। প্রথম থেকেই যেন গাড়ি ছুটতে থাকে টপ গিয়ারে। চার ছয়ের বন্যা বইতে থাকে ইডেনে। প্রথম ম্যাচে ২০০ প্লাস রান করেও হারতে হয়েছিল হায়দরাবাদকে। সেই কথা মাথায় রেখেই শুরু থেকেই ছুটতে থাকে হায়দরাবাদের গাড়ি। এই ম্যাচেও মার খেলেন বরুণ চক্রবর্তী। তারকা স্পিনারের এক ওভারে ২৫ রান তুললেন অভিষেক শর্মা। তিনটি চার ও দুটো ছক্কা মারলেন এক ওভারেই। অবশেষে কার্তিক ত্যাগী এই বিধ্বংসী জুটি ভাঙার কাজটা করেন। ৪৬ রানে আউট হন হেড।

কিন্তু তখনও ক্রিজে রয়েছেন অভিষেক শর্মা। তিনি স্কোর বোর্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজটা দক্ষতার সঙ্গে করতে থাকেন। ৭.২ ওভারে হায়দরাবাদের স্কোর ১০০ পার করে ফেলে। ঈশান কিষাণও নেমেই বড় শট খেলতে থাকেন। তবে ব্লেসিং মুজরাবানি তাঁকে ফেরানোর কাজটা করেন। ঈশানের ক্যাচ যায় রিঙ্কু সিংয়ের হাতে। এই মুহূর্তে অন্যতম সেফ হ্যান্ড বলা যায়। ক্যাচ ধরতে কোনও ভুল হয় না তাঁর। ঈশান ফেরেন ১৪ রান করে। এরপরেই ব্লেসিংয়ের বলে বরুণ চক্রবর্তীর হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেন অভিষেক। ২১ বলে ৪৮ করে ফিরলেন এই তারকা ব্যাটার। মাত্র দুই রানের জন্য তাঁর হাফ সেঞ্চুরি মিস হয় (KKR vs SRH)।

আরও পড়ুন: KK Nomination: রায়গঞ্জে মনোনয়ন জমা কৃষ্ণ কল্যাণীর: জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী
যে গতিতে রান উঠছিল তাতে রান হতে আরও বেশি হতে পারত। কিন্তু হল ৭ উইকেটে ২২৬ রান। ইডেন গার্ডেন্সে এত রান কখনও তাড়া করেনি নাইট বাহিনী । তবে অবশ্য এখনও পর্যন্ত এবারের আইপিএলে যা হয়নি, সেগুলোই ঘটছে যেন টানটান থ্রিলারের চিত্রনাট্য (KKR vs SRH)। কিন্তু তেমন কিছু ঘটল না। সমর্থকদের সেই আশায় জল ঢেলে দিল নাইট বাহিনী। বলা যায় অসহায় আত্মসমর্পণ করল নাইট শিবির।
প্রথম তিন ব্যাটার আউট হলে কী হবে তখনও যে গল্প অনেক বাকি। ক্লাসেনের ক্লাস দেখল দর্শকরা। ১১৮ রানে চার উইকেট হারানোর পর বিপর্যয় সামাল দেন ক্লাসেন-নীতিশ রেড্ডি। ১৪-তম ওভারেই ১৫০ রানের মাইলস্টোন অতিক্রম করে সানরাইজার্স। নীতীশ রেড্ডি ৩৯ রানে আউট হন। ক্লাসেন ৩৫ বলে ৫২ রান না করলে সানরাইজার্স রানের পাহাড়ে বসতে পারত না। কলকাতার এই ম্যাচেও বোলিং বিপর্যয় হয়। বরুণ চক্রবর্তীর কথা যত কম বলা যায় এই মুহূর্তে ততই ভাল। ২০ ওভারের শেষে তখন স্কোর বোর্ডে ২২৬ রান।
ব্যাট করতে নেমে ফিন অ্যালেন হাত খুলে খেলার চেষ্টা করলেও ৭ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফেরেন সাজঘরে। তারপর যেন ব্যাটারদের আসা আর যাওয়া। ব্যর্থ হলেন অধিনায়ক রাহানে (KKR vs SRH)।
হাত খোলার আগেই আউট হন গ্রিন। নিজের ভুল কল-এরই খেসারত দিতে হলো তাঁকে। মাত্র ২ বলে ২ করে ফিরলেন তিনি। এইদিন কলকাতার রান আউট দেখে মনে হচ্ছিল যেন গলি ক্রিকেট খেলতে নেমেছে। চূড়ান্ত হতাশ হতে হলো আজ সমর্থকদের।
কলকাতা ৩ উইকেটে ৭৪ রান করে ধুঁকছে। তখন কিছুটা হাল ধরার চেষ্টা করেন রিঙ্কু সিং ও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। কিন্তু সেই ভুল কলে উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন রঘুবংশী। ২৯ বলে ৫২ করে ফিরলেন রঘুবংশী। রিঙ্কু একটু আশা জাগালেও ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন ৩৫ রান করে। এরপর শুধু আসা-যাওয়া আর স্রোতে ভাসা। এরকম পারফর্ম করলেও হয়ত এই মরশুমেও হতাশাই গ্রাস করবে কলকাতার সমর্থকদের (KKR vs SRH)


