Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলিতে (Kolkata Air Pollution) নতুন বছরের শুরুতেই জাঁকিয়ে শীতের প্রভাব স্পষ্ট। দিনের বেলাতেও সূর্যের দেখা খুব একটা মিলছে না। মাঝে মধ্যে রোদ উঁকি দিলেও তা ঠান্ডার তীব্রতা কমানোর পক্ষে যথেষ্ট নয়। ভরদুপুরেও শহরের নানা প্রান্তে রাস্তার ধারে আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও কাঠ, কোথাও শুকনো পাতা জ্বালিয়ে হাত-পা সেঁকে নিচ্ছেন পথচারীরা। চায়ের দোকানগুলির সামনে আগুনের আঁচ ঘিরে জমছে ভিড়। বিকেল গড়াতেই ফের কাঁপুনি শুরু হচ্ছে।
বেড়েছে মানুষের আনাগোনা (Kolkata Air Pollution)
এরই মধ্যে নতুন বছরের ছুটির আবহে শহরের (Kolkata Air Pollution) পার্ক, দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। সব মিলিয়ে ঠান্ডা, ভিড় এবং আগুন পোহানোর প্রবণতার জেরে কলকাতার বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে কলকাতা পুরসভা এবং পরিবেশবিদ মহল।

বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় দূষণ দ্রুত জমে (Kolkata Air Pollution)
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বাতাসের গতি কমে যাওয়ায় দূষণ দ্রুত জমে ওঠে। এই সময় বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর স্থির হয়ে যায়, ফলে পিএম ২.৫ ও পিএম-১০-এর মতো সূক্ষ্ম কণা উপরের দিকে উঠতে পারে না। তার ফলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই ‘খারাপ’ থেকে ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে। যাদবপুর, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বালিগঞ্জ ও সল্টলেকের মতো অঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনে একিউআই ২৫০ থেকে ৩০০-এরও বেশি রেকর্ড হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১৩ ডিগ্রির নীচে নামলেই কুয়াশার প্রভাব বাড়ে
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রির নীচে নামলেই কুয়াশার প্রভাব বাড়ে। সেই কুয়াশা দূষণকণাকে আরও দীর্ঘ সময় বাতাসে আটকে রাখে। পরিসংখ্যান বলছে, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন সময়ে পিএম ২.৫-এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও এই মান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার বহু গুণ ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

মানুষের স্বাস্থ্য
দূষণের পেছনে কম তাপমাত্রা, ঘন কুয়াশা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং শীতকালে আগুন জ্বালানোর প্রবণতাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন পরিবেশবিদরা। শীতে গাড়ির ইঞ্জিন থেকেও তুলনামূলক বেশি ধোঁয়া বেরোয়, যা স্থির বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যের উপর।
আরও পড়ুন: Horoscope Today: পৌষ কৃষ্ণা তিথিতে ভাগ্য বদল কাদের?
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুরসভা একাধিক পদক্ষেপ করেছে। অতিরিক্ত দূষণপ্রবণ এলাকায় জল ছিটিয়ে ধুলো কমানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি শহরের গাছপালার রক্ষণাবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে রাস্তায় আগুন না জ্বালানোর জন্য সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কঠোর আইন না থাকায় পুরসভার উদ্যোগ অনেকটাই মানুষের সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল।


