Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলেজ স্ট্রিটের অলিগলি মানেই কেবল বই কেনাবেচা নয় সেখানে লুকিয়ে থাকে জ্ঞানপিপাসার দীর্ঘশ্বাস, ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন আর প্রশ্ন করতে শেখার সাহস (Kolkata Book Fair)। নতুন বইয়ের গন্ধের সঙ্গে মিশে থাকে তরুণ মননের অস্থিরতা। আর সেই কলেজ স্ট্রিটেরই বিস্তৃত রূপ যেন আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। এখানেও বই আছে, গন্ধ আছে, ভিড় আছে তবে তার সঙ্গে যুক্ত হয় আরও অনেক কিছু। বইমেলা শুধু বইপ্রেমীদের মিলনক্ষেত্র নয়, এটি কলকাতার এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব।

বইয়ের বাইরে এক উৎসব (Kolkata Book Fair)
প্রতি বছর জানুয়ারির শেষভাগ এলেই কলকাতার মানচিত্রে আলাদা করে চিহ্নিত হয়ে ওঠে বইমেলা চত্বর (Kolkata Book Fair)। ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে বসা আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা যেন দুর্গাপুজোর পর বাংলার দীর্ঘতম উৎসব। নতুন-পুরনো বইয়ের সারির মাঝেই গড়ে ওঠে এক সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিসর যেখানে শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত, আড্ডা আর খাওয়াদাওয়া একে অন্যের সঙ্গে মিশে যায়।
হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের পুনর্মিলন (Kolkata Book Fair)
বইমেলার অন্যতম অদৃশ্য আকর্ষণ নস্টালজিয়া। ব্যস্ত জীবনের ইঁদুর দৌড়ে যাঁরা একসময় খুব কাছের ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে হঠাৎই দেখা হয়ে যায় কোনও স্টলের সামনে। কলেজের পুরনো বন্ধু, প্রাক্তন সহপাঠী, কিংবা জীবনের একসময়ের বিশেষ কেউ বইমেলা যেন হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কগুলোর চাবিকাঠি নিয়ে হাজির হয়। বইয়ের ভিড়ের মধ্যেই ফিরে আসে পুরনো হাসি, স্মৃতি আর না বলা কথারা।

বই, গান ও খাবারের মিলন (Kolkata Book Fair)
আজকের বইমেলা শুধুমাত্র বই দেখার জায়গা নয়। বই কেনা, উল্টেপাল্টে দেখা, সেলফি তোলা, মুক্তমঞ্চে গান শোনা, অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা সবই একসঙ্গে চলে। ‘বইমেলা’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘মেলা’-র ব্যাপ্তি (Kolkata Book Fair)। তার সঙ্গে যুক্ত হয় রকমারি খাবারের স্টল, হস্তশিল্প, ছোটখাটো কেনাকাটা। এই সমগ্র অভিজ্ঞতাই বইমেলাকে করে তোলে এক ‘উৎসবের ফিউশন’। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “বইমেলা মানে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন। বইমেলা মানে দেশ-বিদেশের পাবলিশার, লিটল ম্যাগাজিন, চিলড্রেন্স প্যাভিলিয়ন, অডিটোরিয়ামে অনুপমের গান, আর সঙ্গে সুস্বাদু খাবার। শুধুমাত্র চারটে বইয়ের দোকান খাটিয়ে বইমেলা হয় না।” এই বক্তব্যই যেন বইমেলার প্রকৃত দর্শনকে তুলে ধরে।
বইয়ের মাঝেই হারিয়ে যাওয়ার আনন্দ
এই মেলায় হারিয়ে যাওয়াকে কেউ ভয় পায় না। বরং বইয়ের মাঝে হারিয়ে যাওয়াই এক আলাদা আনন্দ। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়নের দিকে এখনও মানুষের চোখ আটকে যায়। গত বছর শোনা গিয়েছিল বই কম বিক্রি হচ্ছে, মানুষ নাকি শুধু খাবারের লাইনে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এবছর চিত্রটা বদলেছে। প্রায় প্রতিটি স্টলেই ভিড়, পাঠকরা নতুন লেখকদের বই হাতে নিয়ে পড়ছেন, কিনছেন।

আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair: বাইরে বসে স্রষ্টারা! শিল্পী ছাড়া আদৌ সম্পূর্ণ হয় বইমেলা?
“উড়ো চিঠি নিবেদিত সাক্ষাৎকার সংগ্রহ ১”
এই বিপুল বইয়ের সমুদ্রের মাঝেই হঠাৎ চোখে পড়ে এক আলাদা বই। সাদা-সবুজ প্রচ্ছদে মোড়া, দেখতে সরল অথচ মলাট খুললেই ভেতরে লুকিয়ে আছে বহু বিশিষ্ট মানুষের কথা। উদিক্ষণ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, তরুণ কবি রূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকার সংকলন “উড়ো চিঠি নিবেদিত সাক্ষাৎকার সংগ্রহ ১”। এই বইয়ে রয়েছে বাংলার বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মুখোমুখি আলাপ— সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম সরকার, পিংকি ব্যানার্জি, ইন্দ্রাশীষ আচার্য্য প্রতিটি সাক্ষাৎকারই শুধু প্রশ্নোত্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সময়, সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের ভাবনার দলিল।



