Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চোরবাগানের পুজোকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে কলকাতায় (Kolkata Medical College)। এই ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি এবং সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ও জুনিয়র চিকিৎসকদের অভিযোগ, বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা দিতে গিয়ে তাঁদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ।
মৃত ও আহতদের চিকিৎসা ঘিরে বিতর্ক (Kolkata Medical College)
চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রায় ১৮ জনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি, ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সাত থেকে আটজন আহতকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাপোলোয় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। কেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের অন্যত্র স্থানান্তর করতে হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের অন্যত্র পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা কমত। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা জরুরি।
জরুরি ওষুধ ও পরীক্ষার অভাব নিয়ে অভিযোগ (Kolkata Medical College)
চিকিৎসকদের অভিযোগ, সংকটজনক পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধের ঘাটতি চিকিৎসার কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, এবিজি (আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস) পরীক্ষার ক্ষেত্রেও বিঘ্ন ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। গুরুতর অসুস্থ রোগীর শারীরিক অবস্থা দ্রুত মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ট্রমা পরিষেবা এবং জরুরি নিউরোসার্জারির সুবিধার অভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, দুর্ঘটনা বা গণবিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আধুনিক সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং প্রশিক্ষিত কর্মীর উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
স্বজনহারা পরিবারের অভিযোগ (Kolkata Medical College)
অন্যদিকে, মৃতদের পরিবারের সদস্যদের একাংশ পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে প্রশাসনিক সহায়তার অভাব তাঁদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিচয় শনাক্তকরণ, তথ্য প্রদান এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারই এখন প্রধান দাবি
চিকিৎসকদের দাবি, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো, জরুরি ওষুধের সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ট্রমা চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করতে হবে। পাশাপাশি, বিপর্যয় মোকাবিলায় সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ, বিপর্যয়ের মুহূর্তে দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করে সেই অধিকার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



