Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ডিমের দাম কি খুব সস্তা! যে পারছে, যখন পারছে, যেখানে পারছে ডিম বৃষ্টি শুরু করে দিচ্ছে (Kosovo)। বাংলার রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতিবাদের এক অদ্ভুত অস্ত্র হিসেবে মাঝেমধ্যেই দেখা গিয়েছে ডিম ছোড়ার ঘটনা। এবার সেই একই ছবি দেখা গেল ইউরোপের কসোভোর পার্লামেন্টে। বিরোধী দলের মহিলা সাংসদ টিম কাদ্রিজাজ় সরাসরি ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দিকে একের পর এক ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। মুহূর্তের মধ্যেই সংসদে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। স্থগিত হয়ে যায় অধিবেশন।

সংসদেই হঠাৎ ‘ডিম-বৃষ্টি’ (Kosovo)
ঘটনার সূত্রপাত নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা ঘিরে। ৭ জুনের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর কুর্তির দল ভেতেভেনদোশে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ফলে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছিল। সেই আলোচনার মধ্যেই আচমকা ব্যাগ থেকে ডিম বের করে প্রধানমন্ত্রীর দিকে ছুড়তে শুরু করেন টিম। সঙ্গে শোনা যায় ‘শেম অন ইউ’ এবং ধিক্কারের স্লোগান।
কেন এত ক্ষোভ বিরোধীদের? (Kosovo)
বিরোধীদের অভিযোগ, নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে কুর্তি সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করছিলেন। এই বিষয়েই আলোচনা চলছিল সংসদে। কিন্তু আলোচনার পরিবেশ আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সাংসদের এই অভিনব প্রতিবাদে স্বাভাবিকভাবেই থমকে যায় সংসদের কাজ। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত টিমকে ধরে ফেলা হয়।
১২০ আসনে ৫৩, তবু একক ক্ষমতা নয় (Kosovo)
কুর্তির রাজনৈতিক শক্তি যে যথেষ্ট, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট। ১২০ আসনের কসোভো পার্লামেন্টে তাঁর দল ৫৩টি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ সবচেয়ে বড় দল হলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের হাতে নেই। তাই বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সমঝোতার আলোচনাতেই এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কসোভোর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
‘আলোচনার মূল্য যদি এটাই হয়…’ (Kosovo)
ঘটনার পর কুর্তির প্রতিক্রিয়াও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য যদি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তাহলেও তিনি সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত। অর্থাৎ ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা ভেস্তে না দিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের দিকেই এগোতে চাইছে তাঁর পক্ষ। তবে বিরোধীদের এই প্রতিবাদ যে কসোভোর রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল, তা বলাই যায়।
বাংলার সঙ্গে মিলেই কি নতুন ‘সংস্কৃতি’? (Kosovo)
কসোভোর সংসদে ডিম ছোড়ার ঘটনা সামনে আসতেই বাংলার রাজনৈতিক পরিসরে দেখা পুরনো কিছু দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছে। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ডিম ছোড়া নিঃসন্দেহে অভিনব এবং চমকপ্রদ। তবে রাজনৈতিক মতবিরোধ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংসদীয় শিষ্টাচার কতটা বজায় থাকা উচিত, সেই প্রশ্নও একই সঙ্গে সামনে এসেছে। গণতন্ত্রে প্রতিবাদের অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আলোচনার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখাও জরুরি।

আরও পড়ুন: Prakash Raj SIR: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ: কড়া প্রতিক্রিয়া অভিনেতা প্রকাশ রাজের
ভাইরাল ভিডিওয় আন্তর্জাতিক চর্চা
সংসদের সেই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হওয়ায় খুব দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক ঘটনা ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে কসোভোর ‘ডিম-কাণ্ড’। বাংলার রাজনীতিতে যে দৃশ্য আগে অনেকের নজর কেড়েছে, এবার তারই যেন ইউরোপীয় সংস্করণ দেখা গেল কসোভোর পার্লামেন্টে। প্রশ্ন উঠতেই পারে—রাজনীতির উত্তাপ যত বাড়ছে, প্রতিবাদের ভাষাও কি ততটাই অদ্ভুত হয়ে উঠছে? গণতান্ত্রিক বিতর্কের জায়গায় কি এবার ‘ডিম-বিক্ষোভ’-ই নতুন প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে?



