Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপুজো শেষ হওয়ার পর সাধারণত বাংলার গ্রামে গ্রামে বিষাদের সুর বাজে (Lakshmi Puja)। মা দুর্গার বিসর্জনের পর অনেকে আবার নতুন করে দৈনন্দিন জীবনে ফেরার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু হাওড়ার জয়পুর থানার অন্তর্গত খালনা গ্রামে তখন শুরু হয় এক ভিন্ন উৎসবের আমেজ। এখানকার মানুষ দুর্গাপুজোর থেকেও বেশি উন্মাদনায় অপেক্ষা করেন লক্ষ্মীপুজোর জন্য। তাই বিজয়া দশমীর বিষাদের আবহ মিলিয়ে যায় খালনার রঙিন আলোয়, সুরে, মেলামেশায় ও উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্যে।

থিম-পুজোয় খালনার বিশেষত্ব কোথায়? (Lakshmi Puja)
খালনার লক্ষ্মীপুজো আজ গ্রাম-বাংলার এক প্রতীক হয়ে উঠেছে। যেমন দুর্গাপুজোতে কলকাতা বা জেলার বড় বড় প্যান্ডেল দর্শকদের আকর্ষণ করে, তেমনই খালনায় লক্ষ্মীপুজোর থিম ও প্রতিমার নতুনত্ব বিস্মিত করে সবাইকে।
গ্রামে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে বড় বড় ব্যানার, ফ্লেক্স, আলো ঝলমলে রাস্তা আর সুসজ্জিত থিম মণ্ডপ। এ যেন আর পাঁচটা গ্রামীণ পূজো নয় বরং পূর্ণাঙ্গ এক উৎসব, যেখানে শিল্প, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটে।

কোহিনুর ক্লাবের ১৫৭ বছর (Lakshmi Puja)
খালনার কোহিনুর ক্লাবের লক্ষ্মীপুজো এই বছর পদার্পণ করল ১৫৭ বছরে। দীর্ঘ এই ইতিহাসের মধ্য দিয়ে তারা প্রতি বছর দর্শকদের কাছে নতুন কিছু উপহার দিয়েছে। এবারের থিম ‘অপারেশান সিঁদুর’। গোটা মণ্ডপ সাজানো হয়েছে ত্রিবর্ণ পতাকায়, দূর থেকে দেখলে যেন এক বিশাল জাতীয় পতাকা। প্রবেশদ্বারে ভারতীয় সেনার নারী অফিসার ব্যোমিকা সিং ও সোফিয়া কুরেসির মাটির মূর্তি দর্শকদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। মণ্ডপের ভেতরে মিসাইল, যুদ্ধবিমান ও সামরিক শক্তির প্রদর্শনী রয়েছে যা দেশাত্মবোধকে সামনে আনছে।

কৃষ্ণরায়তলার ১২৫ বছরের পুজো (Lakshmi Puja)
খালনার কৃষ্ণরায়তলার লক্ষ্মীপুজো এবার ১২৫ বছরে। এবারের থিম ‘ছত্রাক’। দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার প্রজাতির ছত্রাককে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। এতে দর্শকরা কেবল শিল্পকর্ম নয়, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের এক অনন্য রূপ দেখতে পাচ্ছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী শ্রদ্ধা চক্রবর্তী নিজের হাতে তুলো দিয়ে আকাশ সাজাচ্ছে, আর লক্ষ্মীর চারপাশে শঙ্খ ও ফুলের মালাধারী পরীদের রাখা হয়েছে যা পুজোকে আরও মোহময় করে তুলেছে।
রাজবংশীপাড়ার ১০৩ বছর (Lakshmi Puja)
পশ্চিম খালনা রাজবংশীপাড়া কালীমাতা তরুণ সঙ্ঘের লক্ষ্মীপুজো এ বছর ১০৩ বছরে। তাদের থিম ‘উডেন ডল সেন্টার’, যা পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডির ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে। বিশাল মণ্ডপজুড়ে ১৭০টি বাক্সে সাজানো হয়েছে গ্রামীণ ও আন্তর্জাতিক দুষ্প্রাপ্য পুতুল। স্কুলের পড়ুয়ারা নিজেদের সৃজনশীলতায় মণ্ডপ সাজিয়ে তুলছে, যা একদিকে শিল্পচর্চা আবার অন্যদিকে সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার রক্ষার এক দৃষ্টান্ত।
সরকারি ও গৃহস্থ পুজোর সংখ্যা (Lakshmi Puja)
খালনা গ্রামে সরকার অনুমোদিত প্রায় ৪৫টি বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজো হয়। অনুমোদনহীন পুজোর সংখ্যা শতাধিকের কাছাকাছি। শুধু ক্লাব নয়, বহু গৃহস্থ বাড়িতেও লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করা হয়। ফলে গ্রামজুড়ে একসঙ্গে বহু উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
জনসমাগমে মেতে ওঠা (Lakshmi Puja)
দুর্গাপুজোর মতোই খালনার লক্ষ্মীপুজোতেও হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। প্রত্যেক মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। শুধু স্থানীয় মানুষই নয়, দূরদূরান্ত থেকেও লোক আসেন। উৎসবকে কেন্দ্র করে বসে বড়সড় মেলা, যেখানে স্থানীয় হস্তশিল্প, খেলনা, মিষ্টি ও বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্যের সমাহার দেখা যায়।
আরও পড়ুন: Sajal Ghosh: অসুররাজের বিরুদ্ধে বার্তা, ‘পরিবর্তন যাত্রার’ ডাক দিয়েছেন সজল…
নিরাপত্তা ও কার্নিভাল!
প্রচুর ভিড় সামলাতে প্রতি বছর খালনায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হয়। স্থানীয় বিধায়ক সুকান্ত পাল জানিয়েছেন, এবারও দর্শনার্থীদের আনন্দ বাড়াতে বিসর্জনের সময় কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একদিকে মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে, অন্যদিকে উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ হবে।



